bangla news

‘নদীতে গিয়ে এখন খালি হাতে ফিরতে হয় না’

ছোটন সাহা, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০২০-০১-৩০ ৬:৩৪:১১ পিএম
ইলিশ মাছ। ছবি: বাংলানিউজ

ইলিশ মাছ। ছবি: বাংলানিউজ

ভোলা: ‘নদীতে গিয়ে এখন আর খালি হাতে ফিরতে হয় না, যেটুকু ইলিশ মিলছে তা নিয়ে মোটামুটি সবাই সন্তুষ্ট। কারণ, বিগত সময়ে শীতকালে মাছের দেখা পাওয়াই দুষ্কর ছিল। সারাদিন জাল বেয়ে যা পাচ্ছি তা দিয়ে চলে যাচ্ছে। বেকার তো আর বসে নেই।’

কথাগুলো বলছিলেন রাজাপুর এলাকার জেলে খোকন। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, গত ৭ ঘণ্টায় ১৫ হালি মাছ পেয়েছি। মাছ ধরতে গিয়ে তেলের খরচসহ দেড় হাজার টাকা ব্যয় হলেও সবমিলিয়ে লাভ হবে ১০ হাজার টাকা।

এদিকে ইলিশ ধরাকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে মাছের আড়ত। জেলে, পাইকার আর আড়তদারদের হাকডাকে মুখরিত। ব্যস্ততা বেড়েছে জেলে পাড়ায়। 

ভোলা বৃহৎ মৎস্য আড়ত চডার মাথা ও বিশ্বরোড ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সরগরম মাছের আড়ত। সেখানে মৎসজীবীদের ভিড়। ঘাটে নৌকা ভিড়ছে। মাছ তুলে আড়তগুলোতে এনেই ডাক দেওয়া হচ্ছে। তারপর বরফজাত করে ঝুড়িতে  সংরক্ষণ করা হচ্ছে। মোকামে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে ঘাট থেকেই।

>>>‘আল্লায় দিলে আরও মাছ পামু’

ইলিশা এলাকার জেলে এরশাদ বাংলানিউজকে বলেন, নদীতে ভালোই মাছ পাওয়া যাচ্ছে। এতোদিন কষ্টে দিন কাটিয়েছিলাম। এবার খরচ পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো বলে মনে হয়।

চডার মাথা মৎস্য ঘাটের দালাল মিলন বাংলানিউজকে বলেন, নদীতে বড় ও মাঝারি সাইজের ইলিশ ধরা পড়ছে। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে কর্মব্যস্ত মৎস্যজীবীরা। বড় সাইজের হালি প্রতি ইলিশ তিন হাজার, মাঝারি সাইজ দুই হাজার এবং ছোট সাইজ বিক্রি হচ্ছে ১৩শ’ টাকা দরে। তবে জাটকাও মিলছে কিছু কিছু। 

বিশ্বরোড ঘাটের আড়ৎদার সামসুদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, মাছের মৌসুমে প্রতিদিন ৫/৬ এমনকি ১০ ঝুড়িও ইলিশ মোকামে পাঠানো হতো। এখন পাঠানো হচ্ছে ৩/৪ ঝুড়ি। ভোর থেকেই জমজমাট মাছের আড়তগুলো।
 
আড়তদার আ. মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, অসময়ে ইলিশ ধরার কারণ হিসেবে অনেকেই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণ বলে মনে করছেন। যে কারণে ইলিশের সময়সীমা পরিবর্তন হয়েছে। মৎস্যজীবীদের মতে ইলিশের ভরা মৌসুমে ইলিশ মিলছে না তবে অন্য সময় বেশি মিলছে।

মৎস্য বিভাগের হিসাবে জুলাই-নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশের ভরা মৌসুম। কিন্তু গত ৩/৪ বছর ধরে দেখা যাচ্ছে আগস্ট থেকে সেপ্টম্বর বা অক্টোবর পর্যন্ত মাছ ধরা পড়ছে। কিন্তু এ বছরই দেখা গেছে ব্যতিক্রম। জানুয়ারি থেকেই মাছ ধরা পড়ছে।

উপকূলীয় ঘাট ঘুরে দেখা যায়, মাছ ধরা পড়ায় কেউ বেকার বসে নেই, জাল ট্রলার নৌকা নিয়ে ছুটছেন নদীতে। কেউবা নৌকা মেরামত নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। জেলে পায় যেন উৎসবের আমেজ। বিগত সময় মাছের সংকটে ঋণের বোঝা  নিয়ে যেসব জেলে অসহায় অবস্থায় ছিলেন তারাও ছুটছেন নদীতে। সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করেই মেঘনায় নেমে পড়েছেন জেলেরা। 

ভোলা সদর সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ইলিশ অভিযান সফল হওয়ার কারণে নদীতে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। তাছাড়া এসময়ে ডিম ছাড়ার লক্ষে কিছু ইলিশ সাগরে থেকে নদীতে চলে আসে।

তিনি আরও বলেন, আগে শীতের সময় নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত না, কিন্তু এ বছর কিছুটা ব্যতিক্রম। ২০ বছর আগেও এমন সময় মাছের আমদানি বেশি ছিল। এ বছরের ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক লাখ ৪ হাজার মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হয়ে গেছে। আশা করা হচ্ছে এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮৩৪ ঘণ্টা, জানুয়ারি ৩০, ২০২০
এনটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ভোলা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2020-01-30 18:34:11