bangla news

বড় হয়ে উঠছে উদ্ধার হওয়া মেছোবিড়ালের ৬ ছানা

ডিভিশনাল সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১২-০৩ ৯:০০:৪৩ এএম
মেছোবিড়াল ছানাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন সোহেল। ছবি: বাংলানিউজ

মেছোবিড়াল ছানাকে দুধ খাওয়াচ্ছেন সোহেল। ছবি: বাংলানিউজ

মৌলভীবাজার: দুধের বোতলটিতে মুখে ঢুকিয়ে দিতেই মেছোবিড়ালের একটি ছানা চুকচুক শব্দ করে দুধ পান করতে লাগলো। একটি ছানা যখন দুধ পান করছিল অন্যগুলো এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করে। পরে একে একে ছানাগুলোকে ধরে শুরু হয় দুধ খাওয়ানোর পালা।

সম্প্রতি গিয়ে দেখা গেলো, শ্রীমঙ্গলের উপজেলার সবুজবাগের নিজ বাসায় এভাবেই ছয়টি বিড়ালছানাকে দুধ খাইয়ে বড় করে তোলার অপ্রাণ চেষ্টা করে চলেছেন বন্যপ্রাণী ও সেবক সোহেল শ্যাম।

মৌলভীবাজার বন্যপ্রাণী রেঞ্জ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ২৩ নভেম্বর ছয়টি মেছোবিড়ালের ছানাকে (Fishing Cat) রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের ইমলামপুর গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে সেগুলোকে শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। বন্যপ্রাণী-সেবক সোহেল শ্যামের কাছে পরিচর্যার জন্য দেওয়া হয়। তখন তাদের বয়স ছিল দুই থেকে তিনদিন।উদ্ধার হওয়া মেছোবিড়াল ছানাগুলোর একটি। ছবি: খোকন সিংহসোহেল শ্যাম বাংলানিউজকে বলেন, ছানাগুলোকে দিনে পাঁচ থেকে ছয়বার খাওয়ানো হয়। একেকটি ছানা প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিলিমিটার দুধ পান করে। ‘কোকো ক্যাট’ নামে বিদেশি দুধ খাওয়ানো হয় ওদের। এর একেকটি প্যাকেটের দাম ৬৫০ টাকা। ১:৫ অনুপাতে ফুটানো পানি ঠাণ্ডা করে মিশিয়ে খাওয়াতে হয়।

তিনি আরও বলেন, কোকো ক্যাট নামের দুধ বিড়ালজাতীয় প্রাণীদের জন্য বিশেষভাবে বানানো। একটি প্যাকেট দুধ সর্বোচ্চ তিনদিন যায়। প্রতিদিন একটু একটু করে তাদের খাবারের পরিমাণ বাড়ছে। দিন দিন দ্রুতই বেড়ে উঠছে ছানাগুলো এবং নিজেদের মধ্যে দুষ্টামিও শুরু করছে।কোকো ক্যাট নামের ব্যয়বহুল দুধ। ছবি: বাংলানিউজশীতের ব্যবস্থা সম্পর্কে সোহেল বলেন, শীতে যেনো অসুস্থ না হয়ে যায় এজন্য খাঁচার ভেতর বিশেষভাবে ৪০ ওয়াটের বাল্ব দিয়ে আরামদায়ক তাপমাত্রার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞের পরামর্শে আট সপ্তাহ পর্যন্ত শুধু দুধ খাওয়াতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে দুধের পাশাপাশি শক্ত খাবারে অভ্যস্ত করতে হবে।

বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী খোকন সিংহ বাংলানিউজকে বলেন, আসলে বন্যপ্রাণী ছানাদের লালনপালন ব্যয়বহুল ব্যাপার। এই ব্যয়বহুল দুধের প্যাকেট দিয়ে ঢাকা থেকে সহযোগিতা করছেন বন্যপ্রাণীপ্রেমী রোনাল্ড হালদার, সানজিদা জুঁই এবং মিঠু আহমেদ। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনটি প্যাকেট আনা হয়েছিল। এই তিন প্যাকেট শেষ। নতুন ৩ প্যাকেট আগামীকাল চলে আসবে।

‘ওয়াইল্ডে (বন্য পরিবেশে) যেটা যে তাদের মায়ের কাছ থেকে শিখে নিতো সেটা হয়তো পুরোপুরিভাবে আমাদের পক্ষে শেখানো সম্ভব নয় তবু আমরা চেষ্টার ত্রুটি রাখবো না।’

এ ছানাগুলোকে ভারী খাবারের পাশাপাশি বন্যপরিবেশে যেন টিকে থাকতে পারে এজন্য শিকার করার ক্ষমতা অর্জন করাতে হবে। এর সঙ্গে সঙ্গে তাদের আত্মরক্ষার কৌশলটিও রপ্ত করানোটাই এখন আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও যোগ করেন খোকন।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৫৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৩, ২০১৯
বিবিবি/এএটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   মৌলভীবাজার জীববৈচিত্র্য
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-12-03 09:00:43