ঢাকা, রবিবার, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮, ২৫ জুলাই ২০২১, ১৪ জিলহজ ১৪৪২

জাতীয়

নওগাঁয় নবান্নের গ্রামীণমেলা

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০২০৩ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৮, ২০১৯
নওগাঁয় নবান্নের গ্রামীণমেলা মেলায় বাঁশের তৈরি জিনিস বিক্রি করছেন এক নারী। ছবি: বাংলানিউজ

নওগাঁ: ‘নবান্ন’ শব্দের অর্থ ‘নতুন অন্ন’। নবান্ন উৎসব হল নতুন  ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় ৫০ বছর ধরে নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার পদ্মপুকুর নামকস্থানে হয়ে আসছে ঐতিহ্যবাহী নবান্নের মেলা।

প্রতি ইংরেজি বছরের ১৭ নভেম্বরে হয় এ মেলা।

নবান্নের এ মেলাকে ঘিরে গ্রামীণ মানুষের মধ্যে এক অন্য রকম উৎসব কাজ করে। বাড়িতে বাড়িতে শীতের পিঠা-পুলি, নতুন ধান থেকে পাওয়া চালের পায়েশ রান্না করা হয়। পাশাপাশি ঘরে নতুন ধান ওঠার আগে বেশকিছু প্রস্তুতি নিতে হয় কৃষকদের। ধান চালার জন্য কুলা, চালুনি, ডালা ইত্যাদি কিনতে হয়। এজন্যই আসলে নবান্নের মেলার আয়োজন করা হয়।

শ্রী অজিত কুমার পাল ৩০ বছর ধরে এ পদ্মপুকুর নবান্নের মেলাতে মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করে আসছেন।  

মেলায় মাটির তৈরি জিনিস বিক্রি করছেন এক বৃদ্ধ।  ছবি: বাংলানিউজতিনি বাংলানিউজকে বলেন, আমার দাদু এ মেলাতে মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করেছেন। এরপর আমার বাবা অমূল্য চরন পাল এরপর আমি এসব বিক্রি করছি। এখানে মাটির তৈরি হাঁড়ি, পাতিল, ঢাকনা, প্রদীপ দেওয়ার ছোট বাটি, ধূপ জ্বালানো ধূপতীসহ নানা রকম মাটির তৈরি তৈজসপত্র বিক্রি করি আমরা।

মেলাতে বাশেঁর তৈরি জিনিসপত্র বিক্রি করতে আসা রেবেকা পাহানবাংলাঙ্ক বলেন, সারা বছর আমাদের খুব কষ্টে কাটে। নবান্নের এ সময়টা আমরা বাঁশের তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র বিক্রি করি। মেলাতে আমরা বাঁশের তৈরি কুলা, ঢাকনা, ঝাল, ডালা খইচালা, চালুন, মাছ রাখা খলইসহ নানা জিনিস বিক্রি করি। বাঁশের কুলা, ঢাকনাসহ বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছেন এক ব্যক্তি।  ছবি: বাংলানিউজ

স্থানীয় আব্দুল সাত্তার জানান, বছরে একদিনের জন্য নবান্নের মেলা হয়। মেলাতে এই এলাকার পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষ আসেন। এখানে সারা বছরের সংসারের প্রয়োজনীয় নানা রকম জিনিসপত্র পাওয়া যায়। তারা সারা বছর ব্যবহারের জন্য এগুলো কিনে  নিয়ে যান।  
 
বাংলাদেশ সময়: ২০৫২ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
আরএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa