bangla news

নির্যাতনের শিকার সেই সুমি সৌদি পুলিশের হেফাজতে 

সাভার করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১১-০৫ ১:৫২:২৫ এএম
সুমি আক্তার

সুমি আক্তার

আশুলিয়া (ঢাকা): সৌদি আরবে নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মী সুমি আক্তারকে তার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে হেফাজতে নিয়েছে সেখানকার পুলিশ।

সোমবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে জেদ্দার দক্ষিণ-দক্ষিণে নাজরান এলাকার কর্মস্থল থেকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের এক কর্মকর্তা। 

এর আগে রাতে এ বিষয়ে সুমির স্বামী নুরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমার সঙ্গে আজ দুপুরে একবার কথা হয়েছে সুমির। সে সময় সুমি বলেছে, তাকে নেওয়ার জন্য সৌদি পুলিশ আসবে। পরে রাতে ৮টার দিকে আবার কথা হলে সুমি জানায়, কিছু সময়ের মধ্যে পুলিশ এসে আমাকে নিয়ে যাবে। এখন আর ফোন দিয়েন না।

কনস্যুলেটের ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুমিকে থানায় নিয়ে আসা হলেও তার এখানকার নিয়োগকর্তা (কফিল) তাকে ছাড়তে চাইছেন না। তিনি বলছেন, তিনি সুমিকে আরও রাখতে চান। কারণ এখানে সুমিকে আনতে তার প্রায় তিন লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে, এই টাকা সেবায় শোধ হয়নি। সুমিকে ছাড়তে হলে যারা বাংলাদেশ থেকে মধ্যস্থতা করে (রূপসী বাংলা ওভারসিজ) তাকে সেখানে পাঠিয়েছে, তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে দিতে হবে সৌদির কফিলকে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাবে কনস্যুলেট।

গত ৩০ মে সুমি ‘রূপসী বাংলা ওভারসিজ’র মাধ্যমে সৌদি আরব যান। সেখানে যাওয়ার পর থেকেই স্বজনদের কাছে তার ওপর নির্যাতনের ঘটনা বলতেন সুমি। দালালরা বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাকে যে বিক্রি করে দিয়েছে সে কথা জানতেন না সুমি। সৌদি যাওয়ার সপ্তাহখানেক পর থেকে শুরু হয় তার ওপর মারধর, যৌন হয়রানিসহ নানা নির্যাতন।

সম্প্রতি ফেসবুকে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিজের ওপর পাশবিক নির্যাতনের কথা বলে সুমি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ জানান। পরে ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এ নিয়ে রোববার (৩ নভেম্বর) বাংলানিউজে সংবাদ প্রকাশ হয় ‘সৌদি থেকে ফিরতে চান নির্যাতিতা সুমি’

সংবাদটি দেখার পর সুমি আক্তারকে ফেরাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। পরে সৌদি আরবে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে কর্মকর্তারা তার (সুমি) সঙ্গে কথা বলেন। এরপরই তাকে হেফাজতে আনার প্রক্রিয়ায় যায় সৌদি পুলিশ।

সুমি আক্তার পঞ্চগড় জেলার বোদা সদর থানার রফিকুল ইসলামের মেয়ে। দুই বছর আগে আশুলিয়ার চারাবাগের নুরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

সুমির ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর নুরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমার স্ত্রীকে অনেক নির্যাতন করা হয়েছে। তার চোখে আঘাত করা হয়েছে, চোখে দেখতে পারছে না। এজন্য আমি থানায় মামলা করেছি এবং বিভিন্ন জায়গায় কাগজপত্র দিয়েছি। আমার একটাই দাবি আমার স্ত্রীকে বাংলাদেশে দেখতে চাই।

বাংলাদেশ সময়: ০১৪৪ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৫, ২০১৯
এসএইচ/এইচএ/

** নির্যাতনের শিকার সুমিকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-11-05 01:52:25