bangla news

‘কথিত’ স্ত্রীকে তুলে আনতে গিয়ে খুন হলেন যুবক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১০-২৩ ৮:১৮:৫৪ পিএম
নিহত শফিকুল ইসলাম/ছবি: বাংলানিউজ

নিহত শফিকুল ইসলাম/ছবি: বাংলানিউজ

নরসিংদী: নরসিংদীর রায়পুরায় ‘কথিত’ স্ত্রীকে জোরকরে তুলে আনাকে কেন্দ্র করে শফিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার আমিরগঞ্জ ইউনিয়য়নের মোল্লা বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত শফিকুল ইসলাম শিবপুর উপজেলার কুন্দারপাড়া গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলে। তিনি নরসিংদী ইনডেক্স প্লাজায় মোবাইল ফোনের ব্যবসা করতেন।

পুলিশ ও প্রতক্ষ্যদশী সূত্রে জানা যায়, নিহত শফিকুল ইসলামের সঙ্গে শিবপুর শহীদ আসাদ কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের ছাত্রী রহিমা আক্তার হেলেনার কাবিন হয়। এর জের ধরে গত সপ্তাহে স্ত্রী রহিমা আক্তারকে উঠিয়ে নিতে আসে। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে শফিকুলের বনিবনা না হওয়ায় তারা মেয়েকে উঠিয়ে দিতে রাজি হয়নি। এর জের ধরে বুধবার দুপুরে শফিকুল ইসলাম আবারও লোকজন নিয়ে তার ‘কথিত’ স্ত্রীকে উঠিয়ে আনতে যায়। ওই সময় মেয়ের বাড়ির লোকজন দিতে রাজি হয়নি। এ নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মেয়েকে জোরপূর্বক উঠিয়ে আনার চেষ্টা করে। পরে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এর এক পযার্য়ে কথিত স্ত্রীর লোকজন শফিকুলকে ধরে এলোপাথারী ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ এসে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।

তবে নিহত শফিকুল ইসলামের ‘কথিত’ স্ত্রী রহিমা আক্তার দাবি করে বলেন, নিহত শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে টিসি তুলে দেওয়ার কথা বলে একটি কাগজে সই নেয়। পরে তা এফিডেভিট করে বিয়ের কাবিনে সম্পাদন করে। এরপর থেকে সে নিয়মিত তাকে ব্ল্যাকমেইল করতো। তার কাছে ৫ লাখ টাকাও দাবি করে বলে জানায় রহিমা। সর্বশেষ বুধবার দুপুরে সে লোকজন নিয়ে আমাকে উঠিয়ে নিতে আসে। এরমধ্যে গণ্ডগোল শুরু হয়ে যায়। তবে কীভাবে মারা গেছে জানতে চাইলে তার কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্ত্রী রহিমাকে আটক ও ঘটনাস্থল থেকে দু’টি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

নিহত শফিকুল ইসলামের বাবা খোরশেদ মিয়া বলেন, মেয়েটি আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে আসে। পরে ষড়যন্ত্র করে তাকে খুন করে। 

আমিরগঞ্জ ইউনিয়নের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান মিল্লাত হোসেন মৃধা বলেন, ককটেলর শব্দ শুনে দৌড়ে এসে দেখি রাস্তার পাশে একটি মরদেহ পড়ে আছে। খবর পাই মেয়ের বাড়িতে তাদের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে নিহতের লোকজনের সংঘর্ষ হয় এবং মেয়েটিকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাচ্ছিল। এরই জেরে তাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
 
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, মেয়েটির সঙ্গে নিহত ব্যক্তির প্রেমের সম্পর্ক ছিল। হত্যার ঘটনাটি এখনো স্পষ্ট নয়। তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে কী কারণে হত্যা সংঘটিত হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৯৪৯ ঘণ্টা, অক্টোবর ২৩, ২০১৯
এসএইচ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-10-23 20:18:54