bangla news

হাঁসের খামারটি যেনো সাপ-পোকামাকড়ের অভয়ারণ্য 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১০-২১ ৩:০৯:৫৯ এএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

মাগুরা: মাগুরা সদর উপজেলার বেলনগর এলাকায় আঞ্চলিক হাঁসের খামারটি অযত্নে আর অবহেলায় চলছে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে। 

৫০০টি হাঁস নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে এই খামারটি। রয়েছে লোকবল সংকট। চার জন কর্মচারী দিয়ে দিনের পর দিন চলছে এর কার্যক্রম। এর মধ্যে একজন সিকিউরিটি গার্ড ও তিনজন হ্যাচারি কর্মচারী।

আঞ্চলিক হাঁস খামারটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা প্রাণী ও পশুসম্পদ কর্মকর্তাকে নিয়ে রয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগ।
 
রোববার (২০ অক্টোবর) সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, হাঁসের প্রতিটা শেডের মধ্যে লতাপাতা, সাপ ও পোকামাকড়ের অভয়ারণ্য। ছোট-বড় মিলিয়ে রয়েছে ১৫টি শেড। যার কোনটার মধ্যে হাঁসের বাচ্চা বা কার্যক্রম নেই।

বাংলানিউজের সঙ্গে কথা হয় আঞ্চলিক হাঁস খামারের ডাক অ্যাটেনডেন্ট মাছুম পাটোয়ারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা প্রজেক্টের আওতায় চাকরি করছি। তাও আবার বিনা বেতনে। আমাদের এই খামারের দুই বছর আগের প্রজেক্ট শেষ হয়েছে। নতুন করে আর প্রজেক্ট আসবে কি তা আমরা জানি না। আমি গত ৭ বছর ধরে এখানে নিয়োজিত রয়েছি। আমাদের বেতন নেই। আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমাদের দেখার কেউ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই খামারে যদি লোক নিয়োগ করা এবং যন্ত্রপাতি চালু করা যেতো তাহলে আমরা হাসের বাচ্চা বিক্রি ও ডিম বিক্রি করতে পারতাম। কিন্ত গত ৮ মাস ধরে ইনকিউবেটর যন্ত্রটি নষ্ট থাকায় ডিম থেকে বাচ্চা তৈরি হচ্ছে না। যার ফলে খামারটি অচল অবস্থায় রয়েছে। খামারটিতে ১০ জন স্টাফ ছিল। বেতন না থাকায় তারা চাকরি ছেড়ে চলে গেছে। আমরা তিনজন এই খামারটির প্রতি ভালোবাসা আর মায়ার টানে পড়ে আছি।’
 
সহকারী হ্যাচারি অ্যাটেনডেন্ট হেলেনা পারভিন বাংলানিউজকে বলেন, ‘এই খামারটির মধ্যে রাত হলে চলা ফেরা করতে ভয় হয়। আপনারা যদি রাতের বেলায় আসেন বুঝতে পারবেন রাতের দৃশ্য।’

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘সরকার এত দিক খেয়াল করে আমাগো দিকে কেনো খেয়াল করে না। আমাগো হ্যাচারি যদি চালু হয় আমরা ভাল থাকবো। ডিম বিক্রি করে দেশের আমিষের চাহিদা পূরণ করতে পারবো।’ 

বেগলনগরের স্থানীয় বাসিন্দা সুমি খাতুন বলেন, ‘প্রথম প্রথম কয়েক মাস হাঁসের খামার থেকে আমরা বাচ্চা কিনছি। কিন্তু দীর্ঘদিন পর ধরে পড়ে রয়েছে। এখন খামারের ভেতর সাপ আর পোকামাকড়ের বসবাস।

তিনি বলেন, ‘সরকার শুধু শুধু টাকা খরচ করে বিল্ডিং বানাইছে। তা দিয়ে আমাদের কোনো উপকারে আসছে না। আমরা চাই খামারটি যেনো আবার চালু করা হয়।’
 
অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে থাকা খামারটির ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে সদর উপজেলা প্রাণী  ও পশু সম্পদ কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল করিম বলেন, ‘২০০৮ সালে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে এখানে হাঁসপালন শুরু হয়। প্রকল্পটি ২০১৩ সালে বিলুপ্তি হয়ে যায়। হাঁসপালন কেন্দ্র নামে আরেকটি প্রকল্প চালু হয়। সেই প্রকল্পটিও ২০১৮ সালের জুন মাসে শেষ হয়ে যায়। এর পরে আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামারটি রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত হলেও জনবল সংকট নিয়ে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত হয়নি।’ 

‘যার কারণে এই হাঁসপালন কেন্দ্রটি পরিচালনা করা অন্তত দুরূহ ব্যাপার। বর্তমানে খামারে ৫০০টি হাঁস পালনের খাদ্যের অনুমতি রয়েছে। তবে এটা ঠিক পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ করলে খামারটি আবার প্রাণ ফিরে পাবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ২১, ২০১৯
ওএফবি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-10-21 03:09:59