bangla news

খুলনায় রিকশা সঙ্কটে জনজীবনে দুর্ভোগ

মাহবুবুর রহমান মুন্না, ব্যুরো এডিটর | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১০-১৮ ৩:৪৫:৩৮ পিএম
খুলনায় রিকশা সঙ্কটে জনজীবনে দুর্ভোগ। ছবি: বাংলানিউজ

খুলনায় রিকশা সঙ্কটে জনজীবনে দুর্ভোগ। ছবি: বাংলানিউজ

খুলনা: খুলনা মহানগরে চলছে রিকশা সঙ্কট। গত ১৫ অক্টোবর থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধের পর নগরে পায়েচালিত কিছু সংখ্যক রিকশা চলছে। আর এ সুযোগ নিয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মাহেন্দ্র চালকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছেন। যা নিয়ে নগরের মোড়ে মোড়ে ঘটছে ঝগড়া-হাতাহাতি। অথচ তা দেখার কেউ নেই।

কতোদিন এভাবে চলবে তা-ও কেউ জানে না। এ অবস্থায় চরম হতাশা আর অসহায়ত্বে দিশাহারা হয়ে পড়েছে নগরের সাধারণ মানুষ।

খুলনার ইকবাল নগর এলাকার বাসিন্দা নিয়ামুল বলেন, রিকশা সঙ্কট থাকায় খুলনায় যাত্রীরা পড়েছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। বাড়তি ভাড়া দিয়ে তাদের যাতায়াত করতে হচ্ছে টেম্পু, মাহেন্দ্র ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায়। আবার বাহনের অভাবে পায়ে হেঁটেও অনেককে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।

এম রহমান নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী অভিযোগ করে বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় বেশি ভাড়া দিয়ে চলতে হচ্ছে। পাঁচ টাকার ভাড়া ১০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা নেওয়া নিচ্ছে।

রেজাউল কবীর দুলাল নামে নগরের এক ব্যবসায়ী বাংলানিউজকে বলেন, শহরে ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করার ফলে রিকশা সঙ্কট সৃষ্টি হওয়ায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। হাতে গোনা স্বল্প সংখ্যক পায়ে চালিতরিকশা দিয়ে নগরবাসীর চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, খুলনায় ব্যাটারিচালিত রিকশা এ মুহূর্তে টক অব দা টাউন!  সিটি মেয়র নাগরিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভালো কথা। কিন্তু গত কয়েক বছরে শত শত রিকশায় ব্যাটারি ও ইঞ্জিন লাগানো হলো, সেগুলোর কি অনুমোদন ছিল? আমাদের সমস্যা হলো সবকিছু দেখে শুনে চোখ বন্ধ রাখা! এখন এ সব বন্ধ করতে গিয়ে সবাইকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। নগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছেই না। সাধারণ নাগরিক, কিন্ডার গার্টেনের কোমলমতি শিশুরা, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা, কোচিং সেন্টারে যেতে পারছে না। অভিভাবকরা মুমূর্ষু রোগী, অফিস যাত্রীরা সবাই এখন অসহায় এবং জিম্মি। এমন একটি সেনসেটিভ বিষয় নিয়ে খুলনার নাগরিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সিটি মেয়রের একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হতে হবে এ মুহূর্তে। আমরা জনগণ আর এ চাপ সইতে পারছি না।
খুলনায় রিকশা সঙ্কটে জনজীবনে দুর্ভোগ। ছবি: বাংলানিউজএদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনেক নগরবাসী ক্ষোভ ঝাড়ছেন। তুলে ধরছেন তাদের মতামত- আনিসুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ফেসবুকে লিখেছেন- ‘গত কয়েক বছর ধরে যে শত শত রিকশায় ব্যাটারি ও ইঞ্জিন লাগানো হলো, সেগুলোর কী কোনো অনুমোদন ছিল? আমাদের সমস্যা হলো, আমরা অনেকেই অন্যের ভালো দেখতে পারি না। বয়স্ক শারীরিকভাবে দুর্বল একজন রিকশাচালক কী প্যাডেলের রিকশা চালাবে? কিন্তু এ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি তার সংসার চালিয়ে যেতে পারছেন। ওই অসহায় বুড়ো মানুষদের এভাবে একটু ভালো থাকাটা আমাদের অনেকের কাছে হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বলা হচ্ছে, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দ্রুতগতির জন্য দুর্ঘটনা হয়। তাই ব্যাটারি খুলতে হবে। বাহ্‌ কী চমৎকার বুদ্ধি!!! তাহলে তো, দ্রুতগতির জন্য খুলনায় যতো মোটরসাইকেল, গাড়ি আছে সবগুলোর ইঞ্জিন খুলে রাখা দরকার। ছোট ছোট সব বাচ্চারাই কিন্ডার গার্টেন/স্কুলে পড়ে। সব ছোট ছোট বাচ্চাদের বাবাদের প্রাইভেট কার নাই, মোটরসাইকেল নাই। তারা ওই সব রিকশা ব্যবহার করে স্কুলে আসা-যাওয়া করে। এটাও হয়তোবা অনেকের কাছে ভালো লাগে না।’

শেখ শরীফ আহমেদ নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুকে লিখেছেন-‘রিকশা আমাদের দেশের ঐতিহ্য বহন করে। এক সময় এ শিল্প নগর খুলনায় কাক পাখির কলরব আর রিকশা ভ্যানের বেল বাটির আওয়াজ ছাড়া কিছুই শোনা যেতো না। এছাড়া হাজার হাজার গরীব লোকের কর্মসংস্থানের অন্যতম বাহন হচ্ছে এ রিকশা। রিকশাচালক ভাইদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে কেন এ রিকশা চলাচল বন্ধ করা হলো? এ বিষয়ে সিটি মেয়র সাহেবের যথাযত কারণ দেখাতে হবে। আমাদের দেশে সাধারণত তিন শ্রেণীর লোকেরা বসবাস করে। গরীব, মধ্যবিত্ত ও ধনী। বর্তমানে মধ্যবিত্ত শ্রেণী শেষ হয়ে যাচ্ছে। মধ্যবিত্তরা গরীব হয়ে যাচ্ছে। গরীব আরও গরীব হচ্ছে, ধনীরা আরও ধনী। এতে করে ধনী ও দরিদ্র এ দুই শ্রেণীর মধ্যে ব্যবধান বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ধনীর ধন গরীবেরা কেড়ে নিতে চাইবে। মানে চুরি-ছিনতাই বেড়ে যাবে। আর মধ্যবিত্তরা না পারবে গাড়িতে চড়তে, না পারবে রিকশায় চড়তে। মাঝখানে বসে এরা হাবুডুবু খাচ্ছে।’

সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ঘোষিত ইঞ্জিন রিকশা বন্ধের তৃতীয় দিন শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) নগরের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। নগরের কোথাও যানজট দেখা যায়নি। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা দিতে আসা হাজার হাজার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের রিকশা সঙ্কটে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

এদিকে, নগরজুড়ে ৩৫০টি অবৈধ রিকশা চার্জিং পয়েন্টে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এর প্রতিবাদে রিকশা মালিক ও চালকরা করছেন লাগাতার আন্দোলন। তবে তাদের এ আন্দোলনে সাড়া দিচ্ছে না কেসিসি।

পায়ে চালিত রিকশা চালক লিটন হাওলাদার বলেন, পায়ে চালাতে অনেক কষ্ট হয়। শরীরে পেরে উঠা যায় না। যে কারণে ভাড়া বেশি নিতে হয়। এত যাত্রীর চাপও সামলানো যাচ্ছে না।

কেসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরে ব্যাটারিচালিত রিকশা আর কখনোই চলতে দেওয়া হবে না। ব্যাটারি অপসারণের সময়ও আর বাড়ানো হবে না। সুতরাং দ্রুত ব্যাটারি অপসারণ করে সাধারণ রিকশায় রূপান্তরের পরামর্শ দিয়েছে কেসিসি কর্তৃপক্ষ। সাধারণ রিকশা চলাচলে কোনো বাধা নেই বলেও জানায় কেসিসি।

খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক বাংলানিউজকে বলেন, চালক মালিকরা যত আন্দোলন সংগ্রাম করুক না কেন ব্যাটারিচালিত রিকশা নগরে আর চলতে দেওয়া হবে না। দ্রুতগতির এ রিকশা যত্রতত্র দুর্ঘটনা ঘটায়। মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয়। নগরবাসীর রিকশা না থাকায় যে সমস্যা হচ্ছে তা সাময়িক। রিকশা থেকে ইঞ্জিন খুলে ফেললে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

ইজিবাইক ও মাহেন্দ্রের ভাড়া নৈরাজ্য প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, সুযোগ সন্ধানী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মাহেন্দ্র চালকরা মানুষের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে বেশি ভাড়া আদায় করছে। এবার তাদের ধরা হবে।  
 
বাংলাদেশ সময়: ০৩৪৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
এমআরএম/আরআইএস/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   খুলনা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-10-18 15:45:38