ঢাকা, সোমবার, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭, ১০ আগস্ট ২০২০, ১৯ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

দেশি মাছের সমাহার, শিবচরের বেইলি ব্রিজ বাজার

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
দেশি মাছের সমাহার, শিবচরের বেইলি ব্রিজ বাজার বেইলি ব্রিজ বাজারে দেশি মাছের সমাহার। ছবি: বাংলানিউজ

মাদারীপুর: ভোর সাড়ে ৬টা। পদ্মা নদী সংলগ্ন বাখরেরকান্দি বেইলী ব্রিজ বাজার। ভোরের আলো ফুটতেই নানা বয়সী মানুষ ছোট-বড় ঝুড়িতে মাছ নিয়ে হাজির। নদী ও খাল-বিল থেকে সদ্য ধরে আনা দেশি মাছের সমাহার ছোট্ট এই বাজারটিতে। মাত্র এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে বেচাকেনা। বিভিন্ন এলাকা থেকে দেশি মাছ কিনতে একেবারে ভোরবেলাতেই হাজির হয়েছেন মৎস্যপ্রেমীরা। আর অপেক্ষাকৃত কম দামে নদীর তাজা মাছ নিয়ে খুশি মনে বাড়ি ফিরছেন ক্রেতারা।
 

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) ভোরে সরেজমিনে দেখা যায়, শিবচরের পাঁচ্চর-কাওড়াকান্দি সড়কের বেইলি ব্রিজ এলাকায় রাস্তা থেকে নেমেই কিছুটা দূরে মাছের বাজার। বাজারটি দুই ভাগে বিভক্ত।

একপাশে দুই সারিতে নদী-খাল-বিল থেকে ধরে আনা মাছ আর অন্য পাশে রয়েছে চাষ করা মাছ। মূলত রাত-ভোররাতে পদ্মা ও নদী সংলগ্ন জলাশয়ে স্থানীয় জেলে বা সৌখিন শিকারিরা মাছ ধরেন। ভোরে সেই মাছ বাজারে এনে বিক্রি করেন। চরজানাজাত, মাদবেরচরসহ পদ্মার চরাঞ্চলে মানুষেরাই এসব মাছ ধরে আনেন। আর সেই মাছ কিনতে ক্রেতা আসেন দূর-দূরান্ত থেকেও।

স্থানীয়দের মতে, উপজেলার মধ্যে নদীর মাছ বিক্রির সবচেয়ে বড় বাজারটিই হলো এই বেইলি ব্রিজ বাজার। সস্তায় দেশি প্রজাতির মাছ পেতে এই বাজারের বিকল্প নেই।

ছোট-বড় নানা প্রজাতির দেশি মাছ পাওয়া যায়।  ছবি: বাংলানিউজ

দেখা যায়, নদী ও বিভিন্ন জলাশয় থেকে ধরে আনা হয়েছে রিটা, বাঘাইর, গলদা চিংড়ি, ট্যাংরা, আইড়, বেলে, বাঁচামাছ, পাবদা, ঘাউড়ামাছ, চিতল, বোয়াল, রুই, কালি বাউশ, টাটকিনি, চ্যালা, কাঁচকিমাছ, ছোট চিংড়ি। এছাড়াও রয়েছে শিং, কৈ, শোল, টাকি, চান্দাসহ নানা ধরনের মাছ।

ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে বড়জোর সকাল ৮টা পর্যন্ত এখানে মাছ পাওয়া যায়। তবে, ৭টা থেকে সাড়ে ৭টার মধ্যেই বেশিরভাগ মাছ কেনাবেচা হয়ে যায়।

মাছ বিক্রেতা আবুল শরীফ বাংলানিউজকে জানান, তার বাড়ি পদ্মার চরে। নদী-নালায় চাঁই (দোয়াইর) পেতে মাছ ধরেন তিনি। চাঁই সন্ধ্যায় পেতে রাখেন আর ভোরে ওঠান। প্রতিদিন ভোরেই এই বাজারে বেলে, ট্যাংরা, চিতল, চিংড়িসহ নানা ধরনের মাছ নিয়ে আসেন। পেশায় কৃষক হলেও মাছ বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করেন তিনি।

আরেক বিক্রেতা জানান, তিনি পদ্মায় বড়শি দিয়ে মাছ ধরেন। বড়শিতে রিটা মাছ ধরা পড়ে প্রায়ই। শুক্রবারও বেশকিছু মাছ বিক্রি করেছেন তিনি।

এ বিক্রেতা বলেন, নদীর মাছের স্বাদই আলাদা। একারণে অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে এখানে মাছ কিনতে আসেন।

ঝুড়িতে করে বিক্রি হচ্ছে নদীর তাজা মাছ।  ছবি: বাংলানিউজ

শিবচরের দত্তপাড়া থেকে মাছ কিনতে আসা ফররুখ আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, আমি প্রায়ই এখানে মাছ কিনতে আসি। অন্য বাজারের তুলনায় এখানে মাছের দাম বেশ কম। তাছাড়া, নদীর মাছ ওঠে প্রচুর। পছন্দমতো মাছ কেনা যায়। বিশেষ করে, পদ্মা নদীর মাছগুলো বেশ সুস্বাদু।

শিবচর থেকে আসা ক্রেতা রাশেদ আহমেদ বাংলানিউজকে জানান, তিনি সপ্তাহে একদিন এসে মাছ কেনেন। একটু দূরে হলেও নদীর তাজা মাছ পাওয়া যায়। একারণেই এ বাজারে চলে আসেন তিনি।

মাছ বিক্রেতারা জানান, এ বাজারে ক্রেতাদের অধিকাংশই নিজেরা খাওয়ার জন্য মাছ কেনেন। আর বিক্রেতারাও বেশিরভাগই শৌখিন শিকারি। মূলত কৃষিকাজ, পশুপালনসহ অন্য পেশায় নিয়োজিত তারা। নদীর কাছে বাড়ি হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই মাছ ধরার প্রতি ঝোঁক রয়েছে। একারণে নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর বাজারে মাছ বিক্রি করতে আসেন তারা।

উপজেলার হাট-বাজারগুলোতে সাধারণত চাষ করা পাঙাশ, তেলাপিয়া, কৈ, শিং, পাবদা, রুই জাতীয় মাছই বেশি পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে নদীর তথা দেশি মাছের দেখা মেলে কালেভদ্রে। সেদিক থেকে বাখরেরকান্দি বেইলি ব্রিজ বাজারটি দেশি মাছের জন্য বেশ পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরেই ভোরে ঘণ্টাখানেকের জন্য বাজারটিতে এ ধরনের নানা প্রজাতির মাছ বিক্রি হয়। যার বেশিরভাগই পদ্মা থেকে পাওয়া। আর সাধারণ ক্রেতারাও নদীর তাজা মাছের জন্য ছুটে আসেন এই বাজারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৫ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
একে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa