ঢাকা, শুক্রবার, ৫ বৈশাখ ১৪৩১, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯ শাওয়াল ১৪৪৫

জাতীয়

শুধু উন্নয়ন নয়, দুর্যোগ মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ রোল মডেল

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৮৩৬ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১৯
শুধু উন্নয়ন নয়, দুর্যোগ মোকাবিলায়ও বাংলাদেশ রোল মডেল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা/ছবি: প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে

ঢাকা: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বে এখন আমরা শুধু উন্নয়নের রোল মডেল না, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায়ও বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল, সে সম্মান পেয়েছে।

রোববার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিনির্বাপনসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি যাতে হ্রাস পায় এজন্য যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার ইতোমধ্যে আমরা তা নিয়েছি।

যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং (বিশ্ব) মনে করে এক্ষেত্রে বাংলাদেশের কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। অনেকে আমাদের কাছ থেকে জানতে চায়।

তিনি বলেন, এবছর জুলাই মাসে ঢাকায় গ্লোবাল কমিশন অন অ্যাডাপটেশনের সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন দুর্যোগ প্রতিরোধে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব অভিযোজন কেন্দ্র- ঢাকা অফিস স্থাপনের ঘোষণা দেন। বিশ্বে এখন আমরা শুধু উন্নয়নের রোল মডেল না প্রাকৃতিক দুর্যো মোকাবিলায়ও বিশ্বে বাংলাদেশ রোল মডেল, সে সম্মান পেয়েছে।

...যে কোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সব সময় প্রস্তুত থাকবে আশা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেকোনো মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগ আসুক আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসুক সব ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য বাংলাদেশ সব সময় প্রস্তুত থাকবে। সেটাই আমি চাই। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরাও নিবেদিত প্রাণ হয়ে কাজ করবে সেটাই আমি আশা পোষণ করি।

দুর্যোগ মোকাবিলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তৎকালীন বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু ঘূর্ণিঝড় থেকে জনগণের জানমাল রক্ষায় ১৭২টি মুজিব কেল্লা, সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করেন। স্থানীয় লোকজন এর নাম দিয়েছেন মুজিব কেল্লা। তিনি তখন রেডক্রসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সাইক্লোনের পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার কর্মসূচি তিনি নিয়েছিলেন। যেটা সাইক্লোন প্রিপেয়ারনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি) এবং সে সময় তিনি প্রায় ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রায় ৫৬ হাজার প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক রয়েছে আমাদের। তাছাড়া ৩২ হাজার নগর স্বেচ্ছাসেবক, ২৪ লাখ আনসার ভিডিপি, ১৭ লাখ আমাদের স্কাউট, ৪ লাখ বিএনসিসি, গার্লস গাইডের প্রায় ৪ লাখ সদস্য তারাও এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। যেকোনো দুর্যোগের সময় তারা সবাই সেখানে উপস্থিত হয় এবং কাজ করে।

তিনি বলেন, আমাদের সরকার ইতোমধ্যে ৩৭৮টি মুজিব কেল্লা নির্মাণ করেছে। আর উপকূলে ৩ হাজার ৮৬৮টি বহুমুখী সাইক্লোন শেল্টার আমরা নির্মাণ করেছি। আমরা আরও ১ হাজার ৬৫০টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করবার পদক্ষেপ নিয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা সব সময় যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এলে পূর্বাভাস দেওয়া, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সেই লোকগুলো সাইক্লোন শেল্টারে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি। দুর্যোগকালীন করণীয় বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ ও সচেতন করা হয়।

৯১ সালের ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটা সরকার যদি সচেতন না থাকে, সজাগ না থাকে তাহলে কত বড় ক্ষতি হতে পারে সেটা ৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে আমরা দেখেছি।

বিএনপি সরকারের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সে সময় খালেদা জিয়া সংসদে বলেছিলেন যত মানুষ মরার কথা ছিল তত মানুষ মরেনি। আমি তখন জিজ্ঞেস করেছিলাম কত মানুষ মরলে আপনার তত মানুষ হবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবেবিলায় ট্রাস্ট ফান্ড গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আমরা একটা জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করি। এজন্য বাজেট থেকে বিশেষ বরাদ্দ দেই। ১৩৫টির মতো বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়ে আমরা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার (এনইওসি) প্রতিষ্ঠা, বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য পূর্বাচলে একটি স্টেজিং এরিয়া নির্মাণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের কাজ শুরু করা হয়েছে।

৮০ দশক থেকে কৃষকলীগের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, সরকারের আসার পর দেশের বনভূমি বৃদ্ধির পদক্ষেপ, উপকূলে ব্যাপকহারে বৃক্ষরোপণ করে সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি করা, ৯৬ সালে সরকারের আসার পর হেলিকপ্টারে করে পাহাড় অঞ্চল এবং দ্বীপ অঞ্চলে ব্যাপকহারে বীজ ছড়িয়ে বনায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৯ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমরা ৩ লাখ ২৮ হাজার সাইলো বিতরণ করেছি। মোট আমরা ৫ লাখ পরিবারকে এই সাইলো দেবো। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় আমরা ৫ লাখ মেট্রিকটন ক্ষমতাসম্পন্ন ৮টি সাইলো কমপ্লেক্স নির্মাণ করছি। দুই বছর যাতে খাদ্য সংরক্ষণ করা যায় সে ধরনের খাদ্য গুদামও আমরা নির্মাণ করে যাচ্ছি। যাতে কারো কাছে ভিক্ষে চাইতে না হয়, নিজেদের খাদ্য দিয়েই আপদকালীন সময় মোকাবিলা করা যায়।

ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা রক্ষা, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে নদী শাসনের ব্যবস্থা, নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ১শ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি-ঘর তৈরি করে দেওয়ার পদক্ষেপ, দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে মানুষকে দুর্যোগ সহনীয় বাসগৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে চর, পাবর্ত্য অঞ্চল, দ্বীপসহ দুর্গম অঞ্চলে যাতে আবহাওয়া বার্তা পৌঁছানো যায় সরকার তার জন্য পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

পরে প্রধানমন্ত্রী দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক মেলা উদ্বোধন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল।

বাংলাদেশ সময়: ১৪২৮ ঘণ্টা, অক্টোবর ১৩, ২০১৯
এমইউএম/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।