bangla news

যৌন হয়রানি প্রতিরোধ: প্রথমে ঘর থেকে শুদ্ধ করতে হবে

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১০-১২ ৫:২৬:৩৭ পিএম
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: বাংলানিউজ

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে সুপ্রিম কোর্ট ও গণমাধ্যমগুলোতে অভিযোগ কমিটি করার কথা বলেছেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এ বিচারপতি বলেন, ‘প্রথমে ঘর থেকে শুদ্ধ করতে হবে। প্রথমে যদি ঘর থেকে শুরু না করি আমি মানুষকে কী শুদ্ধ করবো? এ কথা আমাদের ক্ষেত্রে যে রকম প্রযোজ্য সুপ্রিম কোর্টের ক্ষেত্রে, আপনাদের (গণমাধ্যম) ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।’   

‘যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ এ মন্তব্য করেন।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ২০০৯ সালে সব প্রতিষ্ঠানে একটি অভিযোগ গ্রহণকারী কমিটি গঠনে গাইডলাইন করে দিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ওই গাইডলাইনে বলা হয়, অভিযোগ গ্রহণের জন্য, তদন্ত পরিচালনার জন্য এবং সুপারিশ করার জন্য সরকারি-বেসরকারি সব কর্মক্ষেত্রে এবং শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ গ্রহণের জন্য কমিটি গঠন করবে।    

শনিবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি ও ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ)। অনুষ্ঠানে সহযোগিতা করে বিদেশি সংস্থা ‘ফেয়ার ওয়্যার’। 

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদের ঘটনা উল্লেখ করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, ‘ইউনিভার্সিটিতে র‌্যাগিং হয় আমরা সবাই জানতাম। অনেক পত্রিকায় লিখেছে। কিছু পত্রিকা বেশ কয়েকটা রিপোর্ট করেছে। কিন্তু আমরা নীরব, প্রশাসন নীরব। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নীরব। সবাই নীরব।’

তিনি বলেন, ‘সবাই বলছে র‌্যাগিং হচ্ছে ইউনিভার্সিটি প্রশাসন দেখে নাই কেন? সবাই বলছে, ভিসি কী করছে এতদিন ধরে র‌্যাগিং হচ্ছে। কেন? এখন কেন? যখন র‌্যাগিং হচ্ছিলো, যখন ছাত্রদের এভাবে মারধর করার একটা কালচার তৈরি হয়েছে, উপদেশ দেওয়ার নামে গেস্টরুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার একটা কালচার প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হয়েছিলো তখন শিক্ষকেরা কোথায় ছিলো?’ 

‘আজকে শিক্ষক সমিতি মিছিল করছে আবরার ফাহাদের ঘটনায়। আপনারা সেদিন কোথায় ছিলেন- যখন এ র‌্যাগিংগুলো আপনার প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে, আপনি কী করেছেন, কী স্টেপ নিয়েছেন? পুলিশে রিপোর্ট করেছেন? আপনি করেননি।’

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের কথা উল্লেখ করে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, হাইকোর্ট এটা (অভিযোগ কমিটি গঠন) বলেছে ২০০৯ সালে। কিন্তু আপনি যদি খবর নিয়ে দেখেন সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রারকে জিজ্ঞেস করেন আপনাদের কমপ্লেন কমিটি আছে কি না। আমার যতদূর ধারণা, আছে এটা তিনি বলতে পারবেন না।

হাইকোর্টের রায়ের বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, রায়টা বাস্তবায়ন হয়েছে, না হয়েছে- সেটার চিত্র আপনারা পেয়েছেন। কিছু যে হয়নি তা না। কিছু কিছু জায়গায় কমপ্লেন কমিটি আছে। যেখানে বেশি থাকার কথা সেখানে নাই। আমাদের সুপ্রিম কোর্ট। বার অ্যাসোসিয়েশন, সেখানে নাই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আছে।

কমিটি নিয়ে একটা জরিপের ফলাফল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৬০ শতাংশ স্কুল-কলেজে কমিটি হয়নি। ৪০ শতাংশ তো হয়েছে। ৪০ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নির্দেশনা বাস্তবায়ন করেনি। রায় হওয়ার পর সরকার থেকে ২০১১ সালে একটি সার্কুলার ইস্যু করা হয়েছিল। শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমিটি করার জন্য। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। 
‘আবার যখন নুসরাত জাহান রাফির ঘটনাটা ঘটলো তখন আবার আরেকটা, ওই যে আমাদের দেশে যা হয়। আবরারের পরে সব শুরু হয়ে গেছে র‌্যাগিং নিয়ে। এতদিন কোথায় থাকেন-এ প্রশ্নটা সব সময় চলে আসে।’

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, এ অবস্থায় প্রশ্ন আসতে পারে সাংবাদিকদের গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে। প্রথমে বলেছি আগে ঘর থেকে করতে হবে। আগে ঘর ঠিক করতে হবে।

‘প্রত্যেকটা জায়গায় যারা যেখানে আছেন তাদের শুরু করতে হবে। প্রথমে নিজের ঘর তারপর আরেকজনকে পুশ করে। নিজের ঘর দিয়ে শুরু করুন। তারপর প্রতিবেশীর দিকে তাকাবো। তারপর দূর প্রতিবেশীর দিকে তাকাবো,’ যোগ করেন বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

এলআরফ-এর প্রশিক্ষণ ও কল্যাণ সম্পাদক মাসউদুর রহমানের পরিচালনায় কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন- মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ফাওজিয়া করিম ফিরোজ, সহ-সভাপতি জোবায়দা পারভীন, পরিচালক তৌহিদা খন্দকার, এলআরএফ-এর সাবেক সভাপতি এম বদি-উজ-জামান, ফেয়ার ওয়্যার ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টিভ বাবলুর রহমান, এলআরএফ-এর সভাপতি ওয়াকিল আহমেদ হিরণ ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল আহসান রাজু।

আলোচনায় অংশ নেন চ্যানেল আইয়ের মাজহারুল হক মান্না,একাত্তর টিভির মিলটন আনোয়ার ও সময় টিভির আফজাল হোসেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২০ ঘণ্টা, অক্টোবর ১২, ২০১৯
ইএস/এমএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   আইন
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-10-12 17:26:37