bangla news

পদ্মার ভাঙন: অন্যের জমিতে বছর চুক্তিতে ঘর 

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেণ্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১০-০৫ ৯:৪৫:১৫ এএম
ঘর ভেঙে অন্যের জমিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।ছবি: বাংলানিউজ 

ঘর ভেঙে অন্যের জমিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।ছবি: বাংলানিউজ 

মাদারীপুর: প্রমত্তা পদ্মায় বিলীন হচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম। সাজানো-গোছানো ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা, চিরচেনা পরিবেশ মুহূর্তেই পরিণত হচ্ছে অথৈ জলে। বসতবাড়ি, ভিটে-মাটির ওপর দিয়ে এখন বয়ে চলেছে পদ্মার তীব্র স্রোত। ঘরবাড়ি সড়িয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশে ছুটছে নদী ভাঙনের শিকার শিবচরের চরাঞ্চলের পরিবারগুলো। নদী থেকে অনেক দূরে গিয়ে জমি ভাড়া করে আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের।

মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের জনপদে দেখা গেছে এ চিত্র।

বছরের পর বছর পদ্মার ভাঙনে নিশ্চিহ্ন হচ্ছে বহু বছর আগে গড়ে উঠা পদ্মার চরাঞ্চলের জনপদ। নিঃস্ব হচ্ছে এই এলাকার মানুষ। সহায়-সম্বল হারিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে চরের খেটে খাওয়া পরিবারগুলো।

জানা গেছে, চলতি বছর বর্ষার প্রথম দিকে পানি বাড়লে উপজেলার কাঁঠালবাড়ী, চরজানাজাত ও বন্দোরখোলা ইউনিয়নের পদ্মার তীরবর্তী গ্রামগুলোতে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর পানি কমতে থাকলে কমে আসে পদ্মায় স্রোতের বেগ, সেই সঙ্গে ভাঙনও। তবে হঠাৎ করেই সপ্তাহখানেক ধরে পানি বৃদ্ধির ফলে ফের ভাঙন বেড়েছে চরের এসব এলাকায়। 

স্থানীয়রা জানিয়েছে, চলতি বছর শুধু বন্দোরখোলা ইউনিয়নেরই প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়ে নিঃস্ব হয়েছে। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো অন্যের জমি বছর চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে ঘর তুলে থাকছেন। 

শুক্রবার ভাঙন কবলিত এলাকা ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি ভেঙে চর ছেড়ে মূল ভূ-খণ্ডে যেতে দেখা গেছে।

বন্দোরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকার বাসিন্দারা জানান, যাদের ঘরবাড়ি নদীতে ভেঙে গেছে তারা মূল ভূ-খণ্ড পাঁচ্চর, মাদবরেরচর এলাকার হাওলাদারকান্দি, শিকদারকান্দি, মালেরকান্দিসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের ফসলি জমি ভাড়া করে ঘর তুলে থাকছেন। 

এছাড়াও ভাঙন হুমকিতে থাকা অনেক পরিবারই আগে থেকেই জায়গা ভাড়া করে রেখেছে। অন্যরা চলে গেছে পদ্মার ওপার মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরসহ বিভিন্ন স্থানে।

কাজিরসূরা বাজারের মিষ্টির দোকানদার হারুন অর রশিদ জানান, চরের বেশিরভাগ ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোই এখন ভাড়া করা জায়গায় থাকছে। 

বিলীন হুমকিতে ভেঙে ফেলা হয়েছে ঘর। ছবি: বাংলানিউজনদীতে তার বাড়িও যেকোন সময় ভেঙে যেতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনিও চর ছেড়ে দূরের এক গ্রামে পাঁচ কাঠা জমি ভাড়া করে রেখেছেন। পাঁচ বছরের ভাড়া বাবদ ২৫ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নদী ভাঙনের শিকার মানুষেরা কাঠা প্রতি ১ হাজার টাকা বছর চুক্তিতে ভাড়া নিচ্ছেন জমি। তবে কমপক্ষে পাঁচ বছরের টাকা অগ্রিম দিতে হচ্ছে জমির মালিককে। তাছাড়া ভাড়া করা জায়গায় অনেকটাই পরাধীন থাকতে হচ্ছে তাদের। গবাদি পশু পালনেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ফলে নদী ভাঙনের শিকার মানুষগুলো এক রকম মানবেতর জীবনযাপন শুরু করছেন।

পদ্মার ভাঙা-গড়ার খেলা বেশ প্রাচীন। পদ্মাবেষ্টিত শিবচরের চরাঞ্চল বহু আগে পদ্মার বুকেই জেগে ওঠে। দিনে দিনে জনবসতি হয়ে লোকালয়ে পরিণত হয় চরের বিরান ভূমি। উপযুক্ত হয় চাষাবাদের। বাড়তে থাকে বসবাস। ছোঁয়া পেতে থাকে আধুনিকতার। তবে গত দশ বছর ধরে চরাঞ্চলে পদ্মার ভাঙন বেড়েছে। দিন দিন বাড়ছেই। বিলীন হচ্ছে গ্রাম। ভূমিহীন হয়ে পড়ছে ভাঙনের শিকার পরিবার। তবে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপে নদী ভাঙন থেকে বাঁচবে এই চরাঞ্চল। এখনো এই প্রত্যাশা চরের মানুষের।

মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, শিবচরের বন্দোরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্পের প্রয়োজন। আমরা সে ধরনেরই প্রকল্পের বিষয়ে ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। আপাতত এ বর্ষায় ভাঙন ঠেকানোর জন্য জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ০৯৪১ ঘণ্টা, অক্টোবর ০৫, ২০১৯
আরএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   মাদারীপুর নদী ভাঙন
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-10-05 09:45:15