bangla news

থানা থেকে বেরিয়ে শরীরে আগুন দেওয়া কলেজছাত্রীর মৃত্যু

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-১০-০২ ১১:৫৯:৩৭ এএম
হাসপাতালে লিজা

হাসপাতালে লিজা

ঢাকা: রাজশাহীতে থানা থেকে বেরিয়ে নিজের শরীরে আগুন দেওয়া কলেজছাত্রী লিজা রহমান (১৮) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

বুধবার (২ অক্টোবর) সকালে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ওই ছাত্রীর মৃত্যু বিষয়টি বাংলানিউজকে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন।

এর আগে শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজশাহীর শাহ মখদুম থানার অদূরে নিজের গায়ে আগুন দেয় ওই কলেজছাত্রী। পরে ওইদিন রাতে তাকে ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করে পুলিশ। লিজা রাজশাহীর মহিলা কলেজের এইচএসসি ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রংপুরের গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে। তার বাবার নাম মো. আলম মিয়া।

এদিকে থানা থেকে বেরিয়েই শরীরে আগুন দিয়ে কলেজছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা তদন্ত শুরু হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের একটি তদন্তকারী দল মঙ্গলবার (০১ অক্টোবর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ওই প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে রাজশাহীতেই অবস্থান করছেন।

চার সদস্যের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল মাহমুদ ফয়জুল কবীর। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যেই এই কমিটি তাদের তদন্ত প্রতিবেদন দেবেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে আল মাহমুদ ফয়জুল কবীর সাংবাদিকদের জানান, ওই ছাত্রীর আত্মহননের চেষ্টায় রাজশাহীর শাহ মখদুম থানার কোনো গাফিলতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। কারণ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর ওই ছাত্রী জানিয়েছিলেন, স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তিনি। মঙ্গলবার দুপুরে এজন্যই তারা শাহ মখদুম থানায় যান এবং কমিটির সদস্যরা এ সময় থানার পাশেই থাকা টিটিসি গেটের সামনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রতিনিধি দলটি তদন্ত স্বার্থে রাজশাহীর শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ রানাসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলেন।

মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক আল মাহমুদ ফয়জুল কবীর আরও জানান, তদন্ত চলাকালে তারা রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজ ও সিটি কলেজে যান। এ নিয়ে ওই কলেজছাত্রী ও তার স্বামীর শিক্ষক এবং সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলেন। তবে, আবারও কথা বলবেন। এছাড়া ওই ছাত্রীর সঙ্গে তার স্বামীর সম্পর্ক কেমন ছিল এবং বিয়ে নিয়ে পারিবারিক কলহ কোনো পর্যায়ে পৌঁছেছিল তাও তদন্ত করে দেখবেন কমিটির সদস্যরা।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন রাজশাহীর দগ্ধ কলেজছাত্রীকে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দেখতে যান জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাসির উদ্দিন বলেছিলেন, লিজার শরীরের ৬৩ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত এ ধরনের দগ্ধরা রিকোভারি করে না। আবার অনেক দেরি করেও বার্ন ইউনিটে আনা হয়েছে। দু’ ঘণ্টার মধ্যে আনা হলে চিকিৎসা ভালো দেওয়া সম্ভব। তবুও আমাদের চেষ্টার কোনো কমতি থাকছে না বলে যোগ করেন তিনি।

ঢামেক হাসপাতালে থাকা তার বাবা আলম জানান, মেয়ের আত্মহত্যা চেষ্টার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছেন তিনি। তার দু’মেয়ে। বড় মেয়ে রানীকে বিয়ে দিয়েছেন।

তিনি বলেন, লিজার যখন তিন মাস তখন তার মা মারা যান। তখন লিজাকে একই গ্রামের আব্দুল লতিফের কাছে দত্তক দেন। সেখানেই বড় বেড়ে ওঠেন লিজা।

লতিফের এক ছেলে রয়েছে। তার নাম শিহাব আহমেদ। তিনিও বোনের সঙ্গে হাসপাতালে এসেছেন। বাংলানিউজের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর লিজাকে রাজশাহী মহিলা কলেজে ভর্তি করা হয়। ওই কলেজের ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় দ্বিতীয় বর্ষে পড়েন তিনি।

শিহাব বলেন, সেখানে থাকাকালেই রাজশাহী সিটি কলেজের ছাত্র সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে লিজার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার খান্দুরা গ্রামে। পরিবারকে না জানিয়েই তারা চলতি বছরের জানুয়ারিতে গাইবান্ধা কোর্টে বিয়ে করেন। এরপর বাসা ভাড়া নিয়ে রাজশাহীতেই ছিলেন তারা। কিন্তু বিষয়টা জানাজানি হলে বেঁকে বসেন ছেলের পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় ভেঙে পড়েন লিজা।

তিনি বলেন, তাদের বাবা আব্দুল লতিফ বর্তমানে মাদক মামলায় কারাগারে। আর কয়েক দফা সাখাওয়াতের বাড়ি গেলে লিজাকে তারা তাড়িয়ে দেন। সাখাওয়াত কিছুদিন লিজার পক্ষে থাকলেও পরিবারের চাপে সেও দূরে সরে যাচ্ছেন। সেই দুঃখে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা করে সে; যোগ করেন শিহাব।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪০ ঘণ্টা, অক্টোবর ০২, ২০১৯
এজেডএস/এসএস/এএটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রাজশাহী
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-10-02 11:59:37