bangla news

বিপন্ন পদ্মাপাড়ের জন-জীবন

ইমতিয়াজ আহমেদ, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-২৯ ১:০৪:০৬ পিএম
পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: বাংলানিউজ

পদ্মার ভাঙনে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতবাড়ি-শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ছবি: বাংলানিউজ

মাদারীপুর: দ্বিতীয় দফা ভাঙনের কবলে পড়ে বিপন্ন হয়ে উঠেছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পদ্মাপাড়ের জন-জীবন। 

নদীবেষ্টিত উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ও চরজানাজাত ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ জনপদ বিলীন হচ্ছে পদ্মার ভাঙনে। বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অসংখ্য স্থাপনা হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে ভাঙনকবলিত এলাকার মানুষ। ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে ছুটছেন তারা। ঘর-বাড়ি হারিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটছেন মানুষ। ছবি: বাংলানিউজ জানা গেছে, শিবচর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত জনপদের নাম বন্দোরখোলা, চরজানাজাত ও কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন। এ তিনটি ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকাই পদ্মা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল। পদ্মায় গত কয়েক দিনে পানি বাড়ার ফলে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে চরাঞ্চলে। দ্বিতীয় দফা নদী ভাঙনে গত সোমবার থেকে শতাধিক বাড়ি-ঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিলীন হয়েছে নদীগর্ভে। গত সাত দিনের ভাঙনে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মাগুরখণ্ড গ্রামের বিস্তীর্ণ জনপদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা ঘর-বাড়ি ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে ছুটছে ওই এলাকার লোকজন। 

এদিকে, ভাঙন ঠেকাতে জিওব্যাগ ফেলে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে পানি বাড়া অব্যাহত থাকায় ভাঙনও বেড়েছে প্রচণ্ড আকারে। গত মঙ্গলবার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাগুরখণ্ড এলাকার একটি তৃতীয়তলা ভবনের প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে চলে গেছে। বিদ্যালয়টি ওই এলাকার একমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আশ্রয়কেন্দ্র ছিল। 

নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বিদ্যালয়টি। ছবি: বাংলানিউজএদিকে, বন্দোরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসুরা এলাকার একমাত্র মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও রয়েছে ভাঙনের ঝুঁকিতে। নদী প্রতিদিনই এগিয়ে আসছে বিদ্যালয়টির কাছে। ফলে বন্ধ হয়ে গেছে এসব বিদ্যালয়ে পাঠদান। লেখাপড়া অনিশ্চিয়তার মধ্যে পড়েছে ওইসব বিদ্যালয়ের প্রায় সাত শতাধিক শিক্ষার্থীর। 

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মাগুরখণ্ড এলাকার বাসিন্দা তামিম ইসমাইল বলেন, শেষ সম্বল হিসেবে টিকে থাকা বসতবাড়িটাও অবশেষে পদ্মায় নিয়ে গেছে। এর আগে গেছে ফসলি জমি। মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও শেষ। শত শত পরিবার নদী ভাঙনে গৃহহারা আজ।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় দুইশ’ মিটার জায়গা নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। বসতবাড়ি, গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। ভাঙন মুখে রয়েছে আরও তিনটি স্কুল ভবনসহ পাঁচটি স্কুল, দু’টি স্বাস্থ্য কেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, হাট-বাজারসহ তিনটি ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও হাজারো বসতবাড়ি।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত-ইউএনও) আল নোমান বলেন, পদ্মায় পানি বেড়ে ভাঙনের মাত্রাও বেড়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকা আমরা দফায় দফায় পরিদর্শন করেছি। সেখানে জিওব্যাগ ফেলা হচ্ছে।

মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া নদী ভাঙনে বড় ধরনের প্রকল্প হাতে না নিলে চরাঞ্চলের ভাঙন ঠেকানো মুশকিল হয়ে পড়বে।

বাংলাদেশ সময়: ১২৫৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯
আরবি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   মাদারীপুর
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-09-29 13:04:06