bangla news

তিনজনের গলা কেটে নিজের মেয়েকেও কোপান মাদকাসক্ত আব্বাস

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-১৯ ৪:২১:০৯ পিএম
বাঁয়ের ছবিতে স্বজনদের আহাজারি, ডানের ছবিতে নাজনীন ও তার দুই মেয়ে

বাঁয়ের ছবিতে স্বজনদের আহাজারি, ডানের ছবিতে নাজনীন ও তার দুই মেয়ে

নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তিন জনকে গলা কেটে হত্যায় অভিযুক্ত  আব্বাস মাদক সেবন করে প্রায়ই তার স্ত্রী ইয়াসমিন ও প্রতিবন্ধী সন্তান সুমাইয়াকে (১৫) মারধর করতেন। তার অত্যাচার থেকে সুমাইয়াকে নিয়ে বোন নাজনীন বেগমের ভাড়া বাসায় চলে গিয়েছিলেন ইয়াসমিন। কিন্তু আব্বাস সেখানে গিয়ে বিরোধের জেরে গলা কেটে হত্যা করেন নাজনীন এবং তার দুই মেয়ে নুসরাত (৫) ও সুনাইনা ওরফে খাদিজাকে (১)। এমনকি সুমাইয়াকেও কুপিয়ে রক্তাক্ত করেন আব্বাস।

বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সিদ্ধিরগঞ্জের সিআই খোলা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের ভাড়া বাসা থেকে নাজনীন ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। আহত সুমাইয়া (১৫) আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

ইতোমধ্যে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) ও সিআইডির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ইয়াসমিন বাংলানিউজকে জানান, তিনি আদমজী ইপিজেডে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার স্বামী আব্বাস মিয়া মাদকাসক্ত। প্রতিবন্ধী মেয়ে সুমাইয়াকে মারধরের কারণে তাকে নিয়ে বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে ছোট বোন নাজনীনের বাসায় চলে আসেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় তিনি বাসা থেকে বের কারখানায় যান। এরপরই হত্যাকাণ্ডটি ঘটান আব্বাস।

ইয়াসমিনের ছোট ভাই হাসান জানান, ইয়াসমিন তার মেয়েকে নিয়ে নাজনীনের বাসায় চলে আসার পর আব্বাসও রাতে এই বাসায় চলে আসেন। কিন্তু ইয়াসমিন কারখানায় চলে গেলে কলহের বিষয়গুলো নিয়ে শ্যালিকার সঙ্গে বিবাদে জড়ান আব্বাস। এরপর তিনি তিনজনকে গলা কেটে হত্যা করেন এবং নিজের মেয়েকেও কুপিয়ে জখম করেন।

হাসান এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আহত ভাগ্নি সুমাইয়ার পাশে রয়েছেন। তিনি তার বোন হত্যার বিচার দাবি করেছেন এবং অভিযুক্ত আব্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন। 

নাজনীনের স্বামী সুমন বলেন, প্রতিদিনের মতই আমি কাজে গিয়েছিলাম। আমি একটি পেট্রোল পাম্পে ডিউটি করি। কাজ শেষ হলে সকাল ১০টায় বাড়ি ফিরি আর ঘরের দরজা খোলা দেখতে পাই। ভেতরে প্রবেশ করতেই দেখি বউ আর দুই মেয়ের গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ। সুমাইয়াও রক্তাক্ত অবস্থায় ঘরে পড়েছিল।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) হারুন অর রশীদ বলেন, আব্বাসের সঙ্গে তার স্ত্রীর বিরোধ ছিল। ওই বিরোধের কারণে জিদ করে আব্বাসের শ্যালিকার বাসায় চলে আসেন তার স্ত্রী । তিনি একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। সকালে তিনি কারখানায় চলে যান। শ্যালিকার সঙ্গে আলাপকালে কোনো বিরোধের জের ধরেই তাকে ও তার দু’মেয়েকে হত্যা করেন আব্বাস। নিজের প্রতিবন্ধী মেয়েকেও জখম করেন তিনি। তবে আব্বাসকে ধরতে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। আশা করছি, খুব দ্রুতই হত্যাকারীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৬১৬ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
এইচএ/

** রাতের ডিউটি শেষে ফিরে দেখি, বউ-মেয়েদের গলাকাটা মরদেহ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-09-19 16:21:09