bangla news

তিস্তার পানি বিপদসীমার উপরে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-১৮ ১:৪১:১৮ এএম
বন্যা পরিস্থিতি। ছবি: বাংলানিউজ

বন্যা পরিস্থিতি। ছবি: বাংলানিউজ

লালমনিরহাট: উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বর্ষণের ফলে তিস্তার পানি বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে প্লাবিত হয়ে গেছে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল। একইসঙ্গে হাতীবান্ধাম উপজেলার ধুবনী গ্রামের বাঁধ ছিড়ে গেছে। সব মিলিয়ে সেখানে এখন পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮১ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার) বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে হঠাৎ তিস্তার পানি প্রবাহ বাড়তে থাকে। যা ক্রমে বেড়ে মঙ্গলবার বিকেলে বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও রাত ১২টা থেকে  বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বেড়েছে। এতে শুকিয়ে যাওয়া মৃত প্রায় তিস্তা আবারো ফুলে ফেঁপে উঠে ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রূপ। হেঁটে পাড়ি দেওয়া তিস্তায় চলতে শুরু করেছে নৌকা। হাঁকডাক বেড়েছে মাঝি-মাল্লাদের। কর্মব্যস্থতা দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ের জেলে পরিবারে। 

অন্যদিকে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তা তীরবর্তী জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রায় দুই হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের  প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এদিকে হঠাৎ তিস্তা নদীতে পানি বাড়তে দেখে লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের মানুষ বন্যার আশঙ্কা করলেও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি, তিস্তায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে উজানের ঢেউ এবং এ অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের ফলে পানি প্রবাহ বেড়েছে। বৃষ্টি কমে গেলেই তিস্তার পানি প্রবাহ কমতে শুরু করবে। 

এদিকে পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই তিস্তার পানি প্রবাহ লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। তবে স্থানীয়দের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পরিস্থিতি। ছবি: বাংলানিউজ

তবে হঠাৎ তিস্তায় পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি ও আগাম আমনের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। অনেকের সবজি ও আমন ক্ষেত বন্যার পানিতে ডুবে গিয়ে ফসলহানীর শঙ্কায় চিন্তিত কৃষকরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

আদিতমারী উপজেলার গোবর্দ্ধন পাসাইটারী তিস্তা চরাঞ্চলের কৃষক মানিক মিয়া বাংলানিউজকে জানান, নদীর কিনারে জেগে উঠা ৩ দোন (২৭ শতাংশে দোন) জমিতে আগাম জাতের আমন ধান রোপণ করেন তিনি। সেই আমন ক্ষেতে কিছু অংশ নদী ভাঙনে বিলীন হলেও বাকি অংশ পানিতে ডুবে আছে। দ্রুত পানি নেমে গেলে ধান ক্ষেতের উপকার হবে। কিন্তু বেশি সময় ডুবে থাকলে ধানক্ষেত পচে নষ্ট হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এ কারণেই  তিস্তাপাড়ের কৃষকরা আতঙ্কিত বলেও দাবি করেন তিনি।

হাতীবান্ধা উপজেলার পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের চর হলদিবাড়ি গ্রামের আব্দুর রহমান ও আনেচ আলী বাংলানিউজকে জানান, তিস্তা শুকিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের জমিতে তামাকসহ বিভিন্ন সবজি চাষের জন্য জমি তৈরি করে রেখেছেন তারা। কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে তারা সবজি বীজ বপন করেননি। এরই মধ্যে পানি বেড়ে জমি ডুবে গেছে। সন্ধ্যার পর থেকে বসত-বাড়িতে বন্যার পানি উঠায় পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে তারা।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ সোমবার রাত থেকে বাড়তে থাকে। যা মঙ্গলবার রাত ১২টায় বিপদসীমার ২১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। 

তবে ভারতে পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালের মধ্যে তিস্তার পানি প্রবাহও কমে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ০১৪০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৯
এসএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   লালমনিরহাট
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-09-18 01:41:18