ঢাকা, শুক্রবার, ৫ আশ্বিন ১৪২৬, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

‘ধর্ষক’র সঙ্গে বিয়ে: ওসি প্রত্যাহার-এসআই বরখাস্ত

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-১২ ১:৪৪:২৬ পিএম
পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ও এসআই একরামুল হক

পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক ও এসআই একরামুল হক

পাবনা: পাবনায় গণধর্ষণের শিকার এক গৃহবধূর সঙ্গে অভিযুক্ত ধর্ষণকারীর বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার করেছে জেলা পুলিশ। একইসঙ্গে ওই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে পাবনা সদর থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইবনে মিজান বলেন, পাবনায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে থানায় ধর্ষকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল জেলা পুলিশ। তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে জেলা পুলিশ পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হককে প্রত্যাহার ও এসআই একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করে।

দায়িত্ব অবহেলা ও ধর্ষণ মামলা না নেওয়ার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পুলিশের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরও জানান, এ ধর্ষণ মামলায় এজাহারভুক্ত পাঁচ আসামির মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আদালতের কাছে জবানবন্দিও দিয়েছেন মামলার প্রধান আসামি রাসেল।

এ ঘটনার আইনগত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য নির্যাতিত গৃহবধূর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গৃহবধূকে তার প্রথম স্বামী ও পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এজহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি ওসমান এখনও পুলিশি হেফাজতে আসেনি।

মামলার প্রধান আসামি সাহাপুর যশোদল গ্রামের আলী আকবরের ছেলে রাসেলসহ (২৬)  গাঁতী ভাটপাড়া সাতমাইল এলাকার হোসেন ড্রাইভার (৩৫), রানী গ্রাম টেবুনিয়ামের সিরাজ মাস্টাররে ছেলে ঘুন্টু (৪৫) ও ফলিয়া টেবুনিয়া গ্রামের কালামের ছেলে সাজুকে (২৭) গ্রেফতার করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৯ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের এক গৃহবধূকে একই গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদসহ পাঁচ জন মিলে অপহরণ করে। অপহরণের পর টানা চারদিন ওই গৃহবধূকে আটকে রেখে গণধর্ষণ করে তারা। পরে ওই গৃহবধূ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে এসে পরিবারকে পুরো ঘটনা জানায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে পরিবার তাকে পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করায়।

পরে ওই গৃহবধূ বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ অভিযুক্ত রাসেলকে আটক করলেও মামলা নথিভুক্ত না করে থানা চত্বরে ধর্ষকের সঙ্গে ওই গৃহবধূর বিয়ে দিয়ে ঘটনা মীমাংসার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পরে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। পরবর্তীতে ভিকটিম নিজে বাদী হয়ে পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৩৪০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯/আপডেট: ১৪৩৫ ঘণ্টা
এনটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   পাবনা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-09-12 13:44:26