ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

মহাসড়কে টোল আদায়ে অনড় সরকার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-১১ ২:৪৫:৩৫ পিএম
চার মহাসড়কে টোল আরোপের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে

চার মহাসড়কে টোল আরোপের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে

ঢাকা: জাতীয় মহাসড়কে যানবাহন থেকে টোল আদায়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জাতীয় মহাসড়কগুলোতে টোল আরোপে নড়ন-চড়নের কোনো বিষয় দেখছি না। প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) নিজেই এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী একথা বলেন।

সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও বড় বড় মহাসড়ক যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা রংপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে টোলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কেবল তা-ই নয়, টোলের মাধ্যমে আদায় করা টাকার জন্য একটি আলাদা ব্যাংক হিসাব করতে হবে। সেই টাকা দিয়ে মহাসড়কগুলো সংস্কার করা যাবে।

এ বিষয়ে এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, চার মহাসড়কে টোল আরোপের বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে। পৃথিবীর সব দেশেই সড়কে টোল আছে। চার লেন, ছয় লেন, আট লেনের সড়ক হবে। পৃথিবীর সব দেশেই সড়ক যারা ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে টোল নেওয়া হয়। বাংলাদেশ কেন ব্যতিক্রম থাকবে? সড়ক মেরামত ও সংস্কার করতে হয়। বিভিন্নভাবে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ওভারলোডের জন্য।

‘টোল ফি কত হবে সেটা নিয়ে প্রক্রিয়া চলছে। মন্ত্রণালয় ও বিআরটি এ বিষয়ে কাজ করছে। একটা রিজেনেবল প্রাইজ দিতে চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’

সড়কে টোল আদায়ের বিষয়ে সরকার অনড় কি-না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছেন। নড়ন-চড়নের কোনো বিষয় দেখছি না। আমরা যখন এ বিষয়ে কিছু করবো তখন আপনারা জানবেন। এটা কোনো গোপনীয় বিষয় না। যখন আমরা টোল আরোপ করবো তখন আপনাদের জানানো হবে। এ বিষয়ে আমরা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গেও আলোচনা করবো।

আরেক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এখানে সাধারণ মানুষের জন্য রাস্তা, তাই যারা রাস্তা ব্যবহার করবেন তারাই টোল দেবেন। পৃথিবীর সবদেশেই এ নিয়ম। বাংলাদেশেও এ নিয়ম মেনে চলতে হবে। যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী গাড়িসহ সব গাড়িতেই টোল দিতে হবে। প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক বলেন- একেকটার একেকরকমের টোল হবে। ভারী পণ্যবাহী হলে যে টোল হবে অন্যদের হালকা হলে সে রকম হবে না।সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ছবি: বাংলানিউজসব মহাসড়কে টোল বসানো হবে কি-না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় মহাসড়কের সব সড়কেইতো আর টোল বসানো হবে না। আমরা প্রধানত জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে যেগুলো চার, ছয় এবং আট লেন সড়ক আছে বা নতুন করে হবে, এসব সড়কগুলোতেই টোল আরোপের চিন্তা-ভাবনা করছি। আমরা জেলা শহরগুলোর বড় সড়কগুলো যদি টোলের আওতায় নিয়ে আসি সেটি হবে না। আমরা সেভাবে চিন্তা-ভাবনাও করছি না। ঢাকা-মাওয়া, ঢাকা-চিটাগাং, এক্সপ্রেসওয়ে, এলেঙ্গা এসব সড়কে টোল আরোপ হবে। এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ফোরলেন হবে, মূলত সেগুলো টোলের আওতায় আনা হবে।

এই টোল আরোপে অর্থনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমি মনে করি না এতে কোনো প্রভাব পড়বে। আগে যেখানে চিটাগাং যেতে আট ঘণ্টা সময় লাগতো, এখন সাড়ে ৩ ঘণ্টায় চিটাগাং যাচ্ছেন। কত ঘণ্টা সাশ্রয় হচ্ছে কত ঘণ্টা বেশি কাজ করছেন। এ কারণে ক্ষয়ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।

পদ্মাসেতুর টোল নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, পদ্মাসেতুর টোল নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সেতুর নির্মাণ প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর নাগাদ আমাদের ভৌত অবকাঠামোর কাজ শেষ হবে। এরপর হয়তো তিন-চার মাসের মধ্যে পদ্মাসেতু যানচলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।  

সরকার টোলের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে করের আওতায় আনার চেষ্টা করছে বলে বিএনপির অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি কোনো ফোর লেন করেনি। কাজেই তাদের এসব বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই। ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ফোর লেনসহ বাংলাদেশে যা হয়েছে এবং হচ্ছে, এগুলো শেখ হাসিনার সরকারই করেছে। কাজেই এগুলোর অভিজ্ঞতা তাদের নেই, তারা এগুলো বলতেই পারে। যেহেতু বলার মতো কিছুই নেই, কিছুতো বলতে হবে, নেতাকর্মীদেরতো চাঙ্গা রাখতে হবে। 

বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আন্দোলন-আন্দোলন বলে বেড়াচ্ছেন, নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার জন্য। কিন্তু তাদের আন্দোলনে দেশের জনগণ সাড়া দেবে, এটা বিশ্বাস করার মতো কোনো কারণ নেই। দেশে আন্দোলনের বস্তুগত কোনো পরিস্থিতি নেই। তাদেরও যে কোনো বিষয়ে প্রস্তুতি আছে, এটা তারা গত ১০ বছরে দেখাতে পারেনি। কাজেই নতুন করে তারা আন্দোলনে ডাক দিলে জনগণ সাড়া দেবে মনে করার কোনো কারণ নেই। 

রংপুর–৩ আসনে উপ-নির্বাচনে সব দল অংশ নিচ্ছে, সরকার সেটা কীভাবে দেখছে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গত নির্বাচনে আমাদের একটি নির্বাচনী অ্যালায়েন্স ছিল। সে অনুযায়ী এ আসনটি (হুসেইন মুহম্মদ) এরশাদ সাহেবের ছিল। তার মৃত্যুর কারণে যে শূন্যতা শুরু হয়েছে সেখানে নতুন করে নির্বাচন হতে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টি এ সংসদে বিরোধীদল হিসেবে বসেছে। তারা আসনটি যদি অফিসিয়ালি আমাদের কাছে চায়, তাহলে বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সিদ্ধান্ত নেবো। এখন পর্যন্ত নৌকার প্রার্থী আছে। পরে ছাড় দেওয়ার কিছু বিষয় থাকলে সেটা সেসময় দেখা যাবে। আপাতত আমরা নৌকা নিয়েই নির্বাচনে অংশ নেবো।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসামে গিয়ে বলেছেন, ভারতে এনআরসিভুক্ত ছাড়া কেউ থাকতে পারবে না; এক্ষেত্রে বাংলাদেশে কি আবার রোহিঙ্গা পরিস্থিতির মতো কোনো শঙ্কায় আছে কি-না জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি আসামে গিয়ে কী বলেছেন সেটা আমরা বিবেচনায় নেওয়ার আগে ভারত আমাদের কী বলেছে সেটাকেই বিবেচনায় নেবো। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বাংলাদেশে এসে বলেছেন, এ বিষয়ে ঢাকার উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। আমরা সেটা ধরেই অগ্রসর হচ্ছি।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৪০ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৯
জিসিজি/এইচএ/

** ছাত্রলীগের কমিটির বিষয়ে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ওবায়দুল কাদের
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-09-11 14:45:35