ঢাকা, সোমবার, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ অক্টোবর ২০১৯
bangla news

‘পলিথিনমুক্ত ময়মনসিংহ বিভাগ’ সয়লাব পলিথিনে

অনিক খান, ডিস্ট্রিক্ট ফটো করেসপন্ডেন্ট  | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-০১ ৮:০৩:৫৪ পিএম
নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যে এভাবে পলিথিনে পণ্য বহন করতে দেখা যায় ক্রেতাদের/ছবি: অনিক খান

নিষিদ্ধ হলেও প্রকাশ্যে এভাবে পলিথিনে পণ্য বহন করতে দেখা যায় ক্রেতাদের/ছবি: অনিক খান

ময়মনসিংহ: চার জেলা নিয়ে গঠিত দেশের সবশেষ বিভাগ ময়মনসিংহকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে। সকালে শোভাযাত্রাও হয়েছে। ছিল সচেতনতামূলক কার্যক্রম। শুধু দেখা যায়নি নির্দেশনার বাস্তবায়ন। জেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায় দেদারছে বিক্রি হচ্ছে পলিথিন। দোকানিরাও পণ্য বিক্রি করছেন পলিথিনে মুড়িয়ে।

পাঁচদিন আগে ময়মনসিংহ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণা দিয়ে চার জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) চার দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। একই সঙ্গে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে এ নির্দেশনা কার্যকর করার কথাও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। 

অবশ্য এ ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যকরের দিনে রোববার (১ সেপ্টেম্বর) নিজেও অফিসে বসে না থেকে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা করেছেন নগরীতে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠন যোগ দিয়েছে এ কর্মসূচিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কেবল নির্দেশনারই বাস্তবায়ন নেই। 

এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর সানকিপাড়া রেলক্রসিং বাজার, সানকিপাড়া শেষ মোড় বাজার, নতুন বাজার, মিন্টু কলেজ রোডের বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাবেচায় দেদারছে ব্যবহার করা হচ্ছে নিষিদ্ধ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি পলিথিন। ফলে বিভাগীয় প্রশাসনের এ নির্দেশনা কার্যত ‘কেতাবে আছে গোয়ালে নেই’ অবস্থায় পর্যবসিত হয়েছে। 

অবশ্য দোকানিরা বলছেন, পলিথিন নিষিদ্ধের খবর তারা পেলেও মজুদ থাকা পলিথিন শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্দেশনা বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। তবে ক্রমশ তারা পলিথিনের বিকল্প চটের ব্যাগ/পলিমার ব্যবহার নিশ্চিত করবেন। 

পলিথিনে মুড়েই পণ্য বিক্রি করছেন বিক্রেতাজানা যায়, অনেক আগেই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের উৎপাদন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে সরকার। পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের সর্বনিম্ন শাস্তি দুই লাখ টাকা জরিমানা ও দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করারও বিধান রয়েছে আইনে। কিন্তু অবাক ব্যাপার এ আইনের প্রয়োগ না থাকায় বাজার সয়লাব নিষিদ্ধ পলিথিনে। 

এমন পরিপ্রেক্ষাপটে ময়মনসিংহে যোগ দিয়েই পরিবেশ ও মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর পলিথিনের ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান। এ বিভাগকে পলিথিনমুক্ত ঘোষণার কথা জানিয়ে চার জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) মঙ্গলবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে চার দফা নির্দেশনা দেন তিনি। 

ওই নির্দেশনাগুলো হলো- পলিথিন ব্যাগ, ঠোঙার ব্যবহার/বিক্রি ইত্যাদি বন্ধে জেলা ও উপজেলায় লিফলেট বিতরণ, জেলা ও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে/গ্রোথ সেন্টারে ডিজিটাল ব্যানার স্থাপন, পহেলা সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সব জেলা ও উপজেলায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে শোভাযাত্রা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রথমে জনসচেতনতা তৈরি করতে চার জেলা ও প্রত্যেক উপজেলায় শোভাযাত্রা করা হচ্ছে। এরপর আরও কঠোর হবে প্রশাসন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা শুরু হলে পলিথিন নিমিষেই বন্ধ হয়ে যাবে। 

রোববার বেলা ১১টার দিকে নগরীর রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বর থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করে ময়মনসিংহ বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন। শোভাযাত্রায় ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক (ডিসি) মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। 

দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নগরীর কয়েকটি বাজার ঘোরে বাংলানিউজ। নগরীর সানকিপাড়া রেলক্রসিং বাজারে কথা হয় কাঁচামালের ব্যবসায়ী রায়হান মিয়া (২৮)। তিনি বলেন, আমাদের হাতে থাকা পলিথিন শেষ করে আমরা আর ব্যবহার করবো না। পাশাপাশি আমরা এখন থেকেই ক্রেতাদের বলে দিচ্ছি বাসা থেকে চটের ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে আসতে। নয়তো আমরা কোনো মালামাল বিক্রি করবো না। 

এ ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই পলিথিনে করে কাঁচামাল কিনছিলেন নগরীর আনন্দমোহন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের দুই শিক্ষার্থী। নিজেদের পরিচয় না জানিয়ে তারা বলেন, ‘সবাই যখন নির্দেশনা মানবেন তখন আমরাও মানতে শুরু করবো। আমরাও চাই বাজার থেকে পলিথিন চিরতরে নিষিদ্ধ হোক।’ 

নগরীর সানকিপাড়া রেলক্রসিং বাজারের মতো একই চিত্র লক্ষ্য করা যায় নতুন বাজারসহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজারে। এমনকী এসব বাজারের মুদি দোকানগুলোতেও পলিথিন ব্যবহারের মহোৎসব চলছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মিজানুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, বাজারে আর পলিথিন থাকার সুযোগ নেই। আমরা পলিথিন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছি। ইতোমধ্যেই আমাদের মোবাইল কোর্ট পরিচালনাও শুরু হয়েছে। আইন মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৫ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯ 
এএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-09-01 20:03:54