bangla news

সিলেটে চুন ঢেলে চোখ উপড়ে ফেলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৯-০১ ২:০৭:২৬ পিএম
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

সিলেট: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় চুন ঢেলে চোখ উপড়ে ফেলায় অ্যাসিড সন্ত্রাস দমন আইনে ১০ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রোববার (০১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেশন জজ ও অ্যাসিড দমন অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. রাশেদুজ্জামান রাজা এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রাউতগ্রামের আব্দুস সালাম, মো. নুরুল মিয়া, আলতাব মিয়া, রুবেল মিয়া, সামসুল ইসলাম সাদ্দাম, আব্দুর রহিম, আয়াত উদ্দিন, মাসুক মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও আব্দুর রহিম। এদের মধ্যে দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল পলাতক রয়েছেন।

মামলার সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার রাউতগ্রামে সরকারি খাস জমিতে বাড়ি বানিয়ে প্রায় ৩০ বছর ধরে বসবাস করে আসছিলেন জমির উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা। বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টারত ছিল আসামিরা। এ ঘটনার বাদীর সঙ্গে আসামিদের মামলাও চলমান ছিল। মামলা দিয়ে উচ্ছেদ করতে না পেরে ২০১৩ সালের ২৬ মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় গোয়াইঘাটের উত্তর রাউতগ্রামের আব্দুল মৃত জব্বারের ছেলে জমির উদ্দিনের বাড়িতে ঢুকে দেশিয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে আসামিরা। এ ঘটনায় জমির ও তার ভাইয়েরা গুরুতর আহত হন। আসামিরা বাদীর ভাই আজির উদ্দিন ও আলাউদ্দিনের চোখে চুন ঢেলে দিয়ে চোখ নষ্ট করে দেয়। এ ঘটনায় ওই বছরের ৩ এপ্রিল জমির বাদী হয়ে গোয়াইঘাট থানায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশে সংঘঠিত ঘটনায় ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৭ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. হাবিবুর রহমান। পরবর্তীতে ওই বছরের ২৫ ডিসেম্বর অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ওই ১০ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন এসআই হাবিবুর। এ ঘটনায় পুলিশ নয় আসামিকে গ্রেফতার করে।  

মামলাটি অ্যাডিস সন্ত্রাস নিমূল দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর ২০১৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের পরে আদালত ২০০২ সালের অ্যাডিস সন্ত্রাস দমন আইনে আসামিদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

জরিমানার টাকা ভিকটিমদ্বয়ের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালতের বিচারক। এছাড়া পলাতক আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট তামিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সামসুল ইসলাম বাংলানিউজকে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১০ ঘণ্টা, সেম্টেম্বর ০১, ২০১৯
এনইউ/আরআইএস/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2019-09-01 14:07:26