ঢাকা, শনিবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

২১ আগস্ট হত্যা নিয়ে উপহাসকারী রিজভীদেরও বিচার হওয়া উচিত

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৮-২২ ১১:২৫:৪০ পিএম
সেমিনারে বক্তৃতা করেন ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: বাংলানিউজ

সেমিনারে বক্তৃতা করেন ড. হাছান মাহমুদ। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নিয়ে উপহাস করেছেন অভিযোগ করে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে উপহাসকারী রিজভীদেরও বিচার হওয়া উচিত।’

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। ‘বঙ্গবন্ধুর শিক্ষা ও প্রযুক্তি ভাবনা: চলমান ও আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে আইডিইবি। 

বুধবার (২১ আগস্ট) বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী আহমেদ ২১ আগস্টের হামলা নিয়ে যে মন্তব্য করেন তার পরিপ্রেক্ষিতে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘২০০৪ সালে এই হত্যাকাণ্ডকে যেভাবে উপহাস করা হয়েছিল, গতকাল রিজভী সংবাদ সম্মেলনে একইভাবে এ হত্যাকাণ্ডকে উপহাস করে বিএনপির ন্যক্কারজনক ভূমিকারই পুনরাবৃত্তি করেছেন। রিজভী বলেছেন এটি আওয়ামী লীগের সাজানো ঘটনা, তারা আত্মহত্যা করতে সেখানে গিয়েছিল। এই ধরনের কথা যারা বলে তাদের বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ভবিষ্যতে ঘটানোর জন্য এমন উস্কানি দেওয়া হয়। যারা এ ধরনের কথা বলে উপহাস করে, উস্কানি দেয়, রিজভী আহমেদসহ তাদেরও বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি (বিএনপি প্রধান) খালেদা জিয়াকেও বিচারের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন, তাকে জিজ্ঞসা করলে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গ্রেনেড ব্যবহারের রহস্যসহ আরও বহু সত্য বেরিয়ে আসবে।’ 

‘সত্য প্রকাশের স্বার্থে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সত্য জানার স্বার্থে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের নৃশংস ঘটনা না ঘটে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কেউ যেন এই ধরনের মদদ বা উস্কানি না দেয়, সহায়তা না করে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তারেক জিয়ার সর্বোচ্চ শাস্তির পাশাপাশি খালেদা জিয়াকেও বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা চায়নি, যারা বাংলাদেশের অভ্যুদয় চায়নি, সেই পরাজিত শক্তি রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল। আজকে জঙ্গিবাদ-মৌলবাদের পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক অপশক্তিও দেশের বিস্ময়কর সমৃদ্ধির কাণ্ডারি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তাকে বারবার হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছে।’

ড. হাছান বলেন, ‘একুশে আগস্টে বৃষ্টির মতো গ্রেনেড ছুড়ে ঢাকা শহরে প্রকাশ্যে দিবালোকে একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রীর সমাবেশে হামলা চালিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার অপচেষ্টা হয়েছিল। তখন এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে উপহাস করা হয়েছে। আর আজ দিবালোকের মতো সব প্রমাণিত হয়েছে, স্পষ্ট হয়েছে সে হত্যাকাণ্ডের পেছনে তৎকালীন সরকারের ইন্ধন।’

আইডিইবি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি এ কে এম এ হামিদের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম জাকির হোসেন ভূঞা, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রওনক মাহমুদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মো. মোরাদ হোসেন মোল্ল্যা। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষাবিদ ড. সৈয়দ আব্দুল আজিজ ও ড. শাহ আলম মজুমদার।

বাংলাদেশ সময়: ২৩১৭ ঘণ্টা, আগস্ট ২২, ২০১৯
এমআইএইচ/এইচএ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-08-22 23:25:40