ঢাকা, বুধবার, ২ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শুরু: ‘শিগগির চামড়া নীতিমালা হবে’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৮-১৮ ৪:৪২:০৮ পিএম
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলছে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। ছবি: বাংলানিউজ

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে চলছে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: চামড়া শিল্পের সঙ্কট সমাধানে শিগগির চামড়া নীতিমালা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

রোববার (১৮ আগস্ট) দুপুর তিনটায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সরকার, ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের নিয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের সমস্যা সমাধানে আজ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করছি। বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি খাত উন্নয়ন বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, শিল্পপ্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত রয়েছেন। এছাড়া ট্যানারি অ্যাসোসিয়েশন নেতা, চামড়া আড়তদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত রয়েছেন।

বৈঠকের শুরুতে শিল্পমন্ত্রী বলেন, চামড়া নিয়ে যে সঙ্কট তৈরি হয়েছে তা থেকে আমরা দায়িত্ব এড়াতে পারি না। এজন্য আমরা চামড়া শিল্প নিয়ে শিগগির একটি নীতিমালা তৈরি করছি। আজ স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক করে একটি স্থায়ী সমাধানের পথে যেতে চাই। এখন তাৎক্ষণিক আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সালমান এফ রহমান বলেন, আশা করি  আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হবে। যেহেতু চামড়া শিল্প গার্মেন্টস শিল্পের পর গুরুত্বপূর্ণ খাত। ভবিষ্যতে যেন চামড়া শিল্প মেইন শিল্প হিসেবে আসতে পারে সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, চামড়ার দাম না পাওয়ায় যারা চামড়া পুঁতে ফেলেছে বা রাস্তায় ফেলে দিয়েছে তারা কাণ্ডজ্ঞানহীন কাজ করেছে। এরপর আমরা কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমোদন দেই। পাশাপাশি ট্যানারস অ্যাসোশিয়েশনকে দ্রুত চামড়া ক্রয় করার অনুরোধ জানালে  তারা শনিবার থেকে চামড়া কেনার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু তারা স্বল্প পরিমাণে চামড়া ক্রয় করছে। তবে সেখানেও যথাযথ দাম দিচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

এবার ঈদের পর কোরবানির পশুর চামড়ার অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে। ফলশ্রুতিতে আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়া বিক্রি না করার ঘোষণায় এ সংকট ব্যাপক আকার লাভ করে। এ সংকট মোকাবেলায় তাৎক্ষণিক বৈঠক ডাকা হয়।

এদিকে শনিবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় কাঁচা চামড়া আড়তদারদের জরুরি সভা শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন- বিএইচএসএমএ সভাপতি দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ট্যানারি মালিকদের কারণে চামড়ার দাম কমেছে। ট্যানারিগুলো বকেয়া টাকা না দেওয়ায় এবার কোরবানিতে টাকার অভাবে চামড়া কিনতে পারিনি। অন্যান্য বছর ঈদের আগের দিন আড়তদারদের সঙ্গে আলোচনা করলেও এবার তারা কোনো কথা বলেননি। তারা যদি আমাদের আশ্বস্ত করতেন, ন্যায্য দামে চামড়া কিনতেন, তাহলে এ পরিস্থিতি হতো না। কিন্তু এটি না করে উল্টো মিডিয়ার কাছে নানা কথা বলেছেন। এ কারণে আরও দর কমেছে। ট্যানারি মালিকরাই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন।

ঈদের দিন দুপুরের পর ঢাকায় কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী চোখে পড়লেও তারা লাখ টাকা দামের গরুর চামড়া কেনেন মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। খাসির চামড়া বিক্রি হয় ২০ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে অনেকে ক্ষোভ জানিয়ে চামড়া ড্রেন-ডাস্টবিনে ফেলে দেন। সরকার নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ায় কোরবানির চামড়া বাণিজ্যে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসে। তবে এবারই প্রথম কাঁচা চামড়া রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। এদিকে দেশীয় শিল্প রক্ষায় কাঁচা চামড়া রপ্তানির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ট্যানারি মালিকরা।

বাংলাদেশ সময়: ১৬৩৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১৮, ২০১৯ 
জিসিজি/এইচএডি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   বাণিজ্য
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-08-18 16:42:08