bangla news

‘বাবা আমাকে বাঁচাও’ চিৎকারে পদ্মায় নিখোঁজ হয় শিশু রনি

সাজ্জাদ হোসেন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৮-১৪ ৯:২৯:৪০ এএম
ছবি: প্রতীকী

ছবি: প্রতীকী

মুন্সিগঞ্জ: ‘বাবা আমাকে বাঁচাও’ চিৎকার দিয়ে পদ্মা নদীতে সি-বোট ডুবে নিখোঁজ হয় দীন ইসলাম হোসেন রনি (৮)। ঈদ উপলক্ষে ঢাকার মিরপুর থেকে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রনি তার বাবা ও বোনের সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছিল দাদাবাড়ি বরিশালে। দাদাবাড়িতে আনন্দ উদযাপন করার কথা ছিল তাদের। কিন্তু পথিমধ্যে পদ্মায় সি-বোট ডুবে নিখোঁজ শিশু রনি। একই সি-বোটে থাকা রনিকে চোখের সামনেই হারিয়ে যেতে দেখেন তার বাবা সিদ্দিকুর রহমান। লাইফ জ্যাকেটের ফিতা না বেঁধেই যাত্রা শুরু করা রনিকে ১০ ঘণ্টা খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা নদীতে ইঞ্জিন বিকল হয়ে সি-বোট ডুবির ঘটনা ঘটে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, রনি ঢাকার মিরপুর-১২ এর সি ব্লক, রোড -৪, ২০ নম্বর বাসার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে মেঝো ছিল রনি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সি-বোটটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রা শুরুর আগে ইঞ্জিনের তার নিয়ে কারিগরি সমস্যায় পড়ে। ইঞ্জিনে সমস্যার কথা জেনেও উত্তাল পদ্মায় ১৯ জন যাত্রী নিয়ে চালক রওনা করে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী। এখনো এ ঘটনায় আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এই নৌরুটে সি-বোট ডুবে নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনার কোনো পরিসংখ্যান নেই।

তবে, লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের দাবি, আগের চেয়ে নৌরুটে দুর্ঘটনা কমে এসেছে।

উদ্ধার অভিযান পরিচালনা শেষে মাওয়া কোস্টগার্ডের ইনচার্জ কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ বাহার বাংলানিউজকে জানান, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি নিখোঁজ রনিকে। বুধবার (১৪ আগস্ট) সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।

এতক্ষণ শিশুটি পানিতে বেঁচে থাকবে না বলে ধারণা করছেন ওই কর্মকর্তা।

ডুবে যাওয়া সি-বোটটি শিমুলিয়া ঘাট থেকে যাত্রা শুরুর আগেও ক্যাবল (তার) নিয়ে কারিগরি সমস্যার সম্মুখীন হয়। এরপরেও যাত্রী বহন করে রওনা করে। পদ্মাসেতুর দু’পিলারের মধ্যবর্তী স্থানে যেখানে বেশি ঢেউ হয় সেখানে যাওয়ার পর ইঞ্জিন বিকল হয়। ১৯ জন যাত্রীর ভারসাম্য না রাখতে পেরে বোটটি উল্টে ডুবে যায়। রনি তখন চিৎকার করে ‘বাবা আমাকে বাঁচাও, এরপর ডুবে যায়। লাইফ জ্যাকেট পড়া ছিল সে, কিন্তু এরপরও পাওয়া যায়নি তাকে।

সি-বোটের ইঞ্জিন বিকলকে দুর্ঘটনার প্রধান কারিন হিসাবে দায়ী করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাবিরুল ইসলাম। তবে, সি-বোটের যাত্রা শুরুর আগে ইঞ্জিনটি যাচাই করা হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, সি-বোট ডুবিতে নিখোঁজ রনির সন্ধান পাওয়া যায়নি। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও পদ্মাসেতুর সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার কাজে অংশ নেয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেও খোঁজ পাওয়া যায়নি। শিমুলিয়া ঘাট থেকে মাঝ পদ্মায় গিয়ে সি-বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। উত্তাল পদ্মা নদীতে তীব্র ঢেউয়ের কবলে পড়ে এই ঘটনা ঘটে। সকাল থেকেই ম্যাজিস্ট্রেটরা ছিল ঘাট এলাকায়। লাইফ জ্যাকেট পরিধান করেই কাঁঠালবাড়ী ঘাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। নিখোঁজ রনি লাইফ জ্যাকেট পরিধান করলেও সামনের অংশে ফিতা দিয়ে আটকায়নি, খোলা ছিল। প্রশাসনের কোনো গাফিলতি নেই এখানে। নৌরুটে সকাল ৯টা থেকে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ ছিল। এছাড়া ডুবে যাওয়া সি-বোটটি বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে যাত্রা শুরু করেনি।

তিনি জানান, মাঝ পদ্মায় সি-বোটটির ইঞ্জিন বিকল না হলে গন্তব্যে পৌঁছে যেতো। ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে ভারসাম্য রাখতে পারেনি বোটটি এবং অনেক যাত্রী ছিল। ঈদ আগে প্রস্তুতিমূলক সভায় চালকের দক্ষতা ও লঞ্চ, সি-বোটের ফিটনেসের ব্যাপারে আলোচনা করা হয়ে থাকে। ঈদের সময় নৌযানগুলো ধারণক্ষমতা পরিপূর্ণ করে যাত্রী নিয়ে চলাচল করে। বিআইডাব্লিউটিএ’র ম্যাজিস্ট্রেটরা এই ব্যাপারগুলো নজরদারি করে থাকে। রাত ৯টা পর্যন্ত কোনো যাত্রী থানায় অভিযোগ করেনি, মামলার ব্যাপারটি পুলিশ প্রশাসন দেখে থাকে।

তিনি আরও জানান, ঘাট এলাকায় মাইকিং করেও অনেক সময় যাত্রীদের সচেতন করা যায় না। লাইফ জ্যাকেট পড়া নিশ্চিত করে সি-বোট ছাড়লেও কিছুদূর গিয়ে যাত্রীরা খুলে ফেলে। লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করার জন্য মৃত্যুর ভয় দেখালেও যাত্রীরা গ্রাহ্য করেন না। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে লঞ্চ ছাড়তে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি লাগলে মেজাজ দেখিয়ে থাকে। আমরাও চাই না এই নৌরুটে দ্বিতীয় পিনাক ডুবির ঘটনা ঘটে। তবে আগের থেকে আরও অনেক কমেছে দুর্ঘটনা

বাংলাদেশ সময়: ০৯২৮ ঘণ্টা, আগস্ট ১৪, ২০১৯
এএটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   মুন্সিগঞ্জ
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-08-14 09:29:40