ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ ফাল্গুন ১৪৩০, ০৫ মার্চ ২০২৪, ২৩ শাবান ১৪৪৫

জাতীয়

যানজটে স্থবির ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৫৬ ঘণ্টা, আগস্ট ১১, ২০১৯
যানজটে স্থবির ঢাকা-টাঙ্গাইল ও বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক

টাঙ্গাইল: ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদযাত্রার শেষ দিনে এমন স্থবির হয়ে থাকা মহাসড়কে যাত্রীদের দুর্ভোগের সীমা নেই। ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়ির মধ্যে বসে থেকে মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন নারী-শিশুসহ ঈদে ঘরমুখো মানুষ। বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুরা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে বেশ কষ্টে সময় পার করছে।

রোববার (১১ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টা ৪০ মিনিটে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে মির্জাপুরের গোড়াই পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। ভোর থেকে এই মহাসড়কে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।


  
এদিকে যানজটে নাকাল যাত্রীরা বিক্ষব্ধ হয়ে মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করার খবর পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানায়, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ বার বঙ্গবন্ধু সেতুতে টোল আদায় বন্ধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতুর ওপরে লক্কর-ঝক্কর বেশ কয়েকটি গাড়ি বিকল হয় এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের সিরাজগঞ্জ অংশ গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে না চলায় টোল বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। আর এতেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
 
পুলিশ সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মহাসড়কের দু’টি স্থানে গাড়ি বিকল হয়েছিল। পরে ওই গাড়িগুলোকে রেকার দিয়ে সরিয়ে নেয় পুলিশ। এছাড়াও বৃষ্টিপাতের কারণে ও এলেঙ্গায় দুই লেনের সড়কের অবস্থা খারাপ হওয়ায় এখানে গাড়ির গতি কমে আসে। এর ফলে গাড়িগুলো ঠিকমতো টানতে পারে না।  

অপরদিকে যানবাহনের বাড়তি চাপ এবং চালকদের প্রতিযোগিতা ও খেয়াল খুশিমত গাড়ি চালানোর কারণে এ প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। শুক্রবারও দিনভর থেমে গাড়ি চলাচল করেছে। তবে শনিবার ভোর থেকে আরো খারাপ অবস্থার সৃষ্টি হয়। দশ হাত চললে আবার প্রায় এক-দেড় ঘণ্টা গাড়ি আটকে থেকেছে। এর ধারাবাহিকতা শনিবার দিন-রাতে অব্যাহত থাকে। আর এই যানজট রোববার পর্যন্ত অব্যাহত রয়েছে।
 
আরও পড়ুনবঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্বপ্রান্তে ৩৫ কিমি যানজট, ভোগান্তি

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বাংলানিউজকে জানান, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ বার টোল আদায় বন্ধ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। সেতুর ওপরে বেশ কয়েকটি লক্কর-ঝক্কর গাড়ি বিকল হওয়ায় সেগুলো সরিয়ে নিতে একটু সময় লেগেছে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাড়ের সিরাজগঞ্জের অংশ গাড়ির ধীরগতির কারণে টোল বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ। আর এতেই মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।  

তিনি আরো বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত) ছোট-বড় বিভিন্ন ধরনের ৩৩ হাজার ১২০টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। যানবাহনের মধ্যে ঢাকা থেকে ছেড়ে উত্তরবঙ্গের দিকে যায় ২১ হাজার ৮২১টি এবং উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে ঢাকার দিকে যায় ১১ হাজার ২৯৯টি।  

বাংলাদেশ সময়: ১০৪৯ ঘণ্টা, আগস্ট ১১, ২০১৯
এসএইচ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।