ঢাকা, সোমবার, ৬ আশ্বিন ১৪২৭, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২ সফর ১৪৪২

জাতীয়

ঈদযাত্রায় ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ে ট্রেন

ইয়াসির আরাফাত রিপন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ০০২৩ ঘণ্টা, আগস্ট ১১, ২০১৯
ঈদযাত্রায় ভয়াবহ শিডিউল বিপর্যয়ে ট্রেন ট্রেনের অপেক্ষায় প্লাটফর্মে বসে পড়েছেন যাত্রীরা/ছবি- শাকিল

ঢাকা: ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে ভেঙে পড়েছে ট্রেনের শিডিউল। প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেন ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরিতে ছাড়ছে। অনেক ট্রেন ১২ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও স্টেশনে পৌঁছায়নি। কর্তৃপক্ষ বলছে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় ধীরগতি তৈরি হয়েছে, এতে ট্রেন বিলম্বে স্টেশনে আসছে।

তবে কমলাপুর স্টেশনে ট্রেন আসার পরই আবারও গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও শিশু যাত্রীরা।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনে অবস্থান করায় ক্লান্ত হয়ে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েন। বিকেল থেকে মশার উপদ্রব বাড়ায় ডেঙ্গুজ্বরের আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

শনিবার (১০ আগস্ট) বিকেলের পর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, এদিন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে মোট ৫৫টি ট্রেন দেশের বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ৩৪টি আন্তঃনগর, ৩টি ঈদ স্পেশাল, বাকিগুলো মেইল ট্রেন। মেইল ট্রেন সময়মতো স্টেশন ছাড়লেও শিডিউল বিপর্যয়ে পড়ে আন্তঃনগর ও ঈদ স্পেশাল।

এদিন নীলসাগর এক্সপ্রেস সকাল ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে চিলাহাটির উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও ১২ ঘণ্টা পেরিয়ে রাত সাড়ে ৮টায় সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়েছে। যদিও স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানে না কয়টা নাগাদ স্টেশনে ট্রেনটি এসে পৌঁছাবে। তারপর ছেড়ে যাওয়ার বিষয়।  

রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও এটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়েছে রাত ৯টায়। লালমনি ঈদ স্পেশাল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে স্টেশন ছাড়ার কথা থাকলেও এটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়েছে রাত সাড়ে ১০টা, সিল্ক সিটি দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও এটি ছাড়ার সময় দেওয়া আছে রাত ১১টা ৫৫ মিনিট, খুলনা অভিমুখী চিত্রা এক্সপ্রেস সন্ধ্যা ৭টায় ছাড়ার কথা থাকলেও এটি ছাড়ার সম্ভাব্য সময় দেওয়া হয়েছে রাত ১টা ৪০ মিনিট, দ্রুতযান এক্সপ্রেস রাত ৮টায় ছাড়ার কথা থাকলেও এখনও সেটি ছাড়ার কোনো সময় দেওয়া হয়নি।

এদিকে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী ও শিশুসহ অন্য যাত্রীরা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত স্টেশনে অবস্থান করায় ক্লান্ত হয়ে অনেকেই ঘুমিয়ে পড়েন। তবে বিকেল থেকে মশার উপদ্রব বাড়ায় ডেঙ্গুজ্বরের আশঙ্কাও করছেন অনেকে।

শিলা আক্তার রংপুরে যাওয়ার জন্য সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কমলাপুর স্টেশনে আসেন। তিনি বলেন, রংপুর এক্সপ্রেস সকাল ৯টায় ছাড়ার কথা থাকলেও এখনও স্টেশনেই ট্রেন আসেনি, বাধ্য হয়ে বসে আছি। জানিনা কখন ট্রেন আসবে। তবে মশার উপদ্রব বেশি মনে হচ্ছে, এজন্য ভয় লাগছে।

শফিকুল ইসলাম নামে অপর এক যাত্রী স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সকাল ৯টায় স্টেশনে এসেছেন। তার যাত্রা সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে লালমনি ঈদ স্পেশাল হওয়ার কথা ছিলো, কিন্তু রাত সাড়ে ১০টায় সম্ভাব্য সময় দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উন্নত বিশ্ব এখন ট্রেন নির্ভর হচ্ছে আর আমাদের দেশে তার অবনতি হচ্ছে। সরকারের উচিত ট্রেনের প্রতি ভালো দৃষ্টি দেওয়া। নারী-শিশু নিয়ে এই স্টেশনে বসে থাকার কোনো পরিবেশ নেই, ভালো টয়লেট নেই।

তবে স্টেশন কর্তৃপক্ষ বলছে ট্রেনের শিডিউল ভালো ছিলো, শুক্রবারের এক্সিডেন্ট (সুন্দরবন এক্সপ্রেস) আর অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় ট্রেনের গতি কিছুটা কমেছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ আমিনুল হক বাংলানিউজকে বলেন, এবার ট্রেনের ঈদযাত্রা ছিলো নির্দিষ্ট সময়ে। তবে শুক্রবার একটা এক্সিডেন্ট হওয়ায় ৬ ঘণ্টা বিলম্ব তৈরি হয়। তাছাড়া ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ থাকায় দেরিতে স্টেশনে ট্রেন পৌঁছাচ্ছে। আর স্টেশনে ট্রেন আসার পর এখানে কোনো দেরি হচ্ছে না, দ্রুত সময়ে আবার গন্তব্যে চলে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ২০২১ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১৯ 
ইএআর/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa