ঢাকা, শনিবার, ৯ ভাদ্র ১৪২৬, ২৪ আগস্ট ২০১৯
bangla news

জনস্রোত পশুর হাটে, কমতে শুরু করেছে দাম

শরীফ সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৮-১০ ৫:২৫:০২ পিএম
রাজশাহী সিটি হাটে মানুষের ভিড়। ছবি: বাংলানিউজ

রাজশাহী সিটি হাটে মানুষের ভিড়। ছবি: বাংলানিউজ

রাজশাহী: হাতে মাত্র এক দিন। এরপরেই পালিত হবে ঈদুল-আজহা। শেষ মুহূর্তে নাওয়া-খাওয়া ভুলে মানুষ ছুটছে পশুর হাটে। সাধ ও সাধ্যের সমন্বয় ঘটিয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় কোরবানির জন্য সেরা পশুটিই কিনতে চাইছেন সবাই। রীতিমতো জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে হাটগুলো। পশু কেনাবেচা আর ক্রেতা-বিক্রেতাদের এক একটি শব্দে গমগম করছে এলাকা।

ঈদ ঘনিয়ে আসায় কোরবানির পশু কেনাবেচায় রাজশাহীর সিটি হাটে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। পশু ও ক্রেতা- দুইই বেড়েছে শনিবার (১০ আগস্ট)। এতে হাসি ফুটেছে ব্যবসায়ীদের মুখে। রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও শহরের কাছে হওয়ায় সিটি হাটেই সবচেয়ে বেশি ভিড় ক্রেতাদের। পিছিয়ে নেই মহানগরীর উপকণ্ঠে কাটাখালির মাসকাটা দীঘি, গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ি, তানোরের চৌবাড়িয়া, পুঠিয়ার বানেশ্বরের হাটও।

শনিবার (১০ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটে ভারতীয় গরু তেমন নেই। আধিপত্যে দেশি গরুরই। তবে, বড় গরুর চেয়ে ছোট ও মাঝারি গরুরই কদর বেশি। 

তবে, ক্রেতা বেশি থাকলেও দুপুরের পর থেকেই কমতে শুরু করেছে পশুর দাম। লাভ অল্প হলেও সামান্য দর-দামেই পশু ছেড়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা। এ সুযোগ হাতছাড়া করছেণ না ক্রেতারও। ফলে, উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম পশুর হাট জমজমাট হয়ে উঠেছে বেচাকেনায়। 

সিটি হাট কমিটি ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঈদুল আজহা উপলক্ষে শুক্রবার (৯ আগস্ট) থেকেই জমে উঠেছে পশুর হাট। এর মধ্যে শনিবারই )১০ আগস্ট) ক্রেতা বেশি, আর অন্যদিনের তুলনায় দামও একটু কম। সকালে আশপাশের এলাকা থেকে অসংখ্য গরু, মহিষ, ছাগল আনা হয়েছে। এখন চলছে হরদম বেচাকেনা। যদিও তীব্র গরমের কারণে অনেকেই হাটে আসেননি। সন্ধ্যায় তারা আসতে শুরু করলে লোক আরও বাড়বে। একারণে রাতেও চলবে বেচাকেনা। রোববার (১১ আগস্ট) চাঁদরাত পর্যন্ত এ হাট চালু থাকবে।

রাজশাহী মহানগরীর সুলতানাবাদ এলাকার শফিকুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, দুপুরেই হাটে এসেছি। মানুষের ভিড় অনেক বেশি। হাটে মানুষ আর পশুর মাথা গোনা মুশকিল। সবাই ঘুরে ঘুরে গরু দেখেছেন। দাম অন্য দিনের তুলনায় কিছুটা কম। তাই দুপুর গড়াতেই দরদাম করে ৬০ হাজার ৭০০ টাকায় একটি মাঝারি আকারের গরু কিনে ফেলেছি।

রাজশাহী সিটি হাটে মানুষের ভিড়। ছবি: বাংলানিউজ

তিনি বলেন, বড় গরুর দাম বেশ চড়া। হাটে দেশি মাঝারি ও ছোট আকারের গরুরই চাহিদাই বেশি। ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে ছোট (৬০-৭০ কেজি) গরু পাওয়া যাচ্ছে। বড় গরু ৮০ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার ওপরে। 

গরুর মতো ছাগলের দামও আগের দিনের তুলনায় কম বলে জানান পবার পারিলা থেকে আসা খামারি রশিদুল। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, শনিবার (১০ আগস্ট) ১০ থেকে ১২ কেজি ওজনের ছাগল ৮ হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৪ থেকে ১৮ কেজি ওজনের ছাগলের দাম ১০ থেকে সাড়ে ১২ হাজার টাকা ও বড় ছাগলের দাম ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

রাজশাহীর নারিকেলবাড়িয়া থেকে সিটি হাটে আসা রিপন শেখ বাংলানিউজকে বলেন, হাটে ৮টি গরু নিয়ে এসেছি। সকালেই ৯০ হাজার ৮০০ টাকায় সবচেয়ে বড় গরুটি বিক্রি হয়েছে। বাকিগুলোর দাম ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। 

এ মৌসুম শুরুর পর শনিবারই দাম একটু কম যাচ্ছে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আজকালের মধ্যে গরু বিক্রি করতে না পারলে আরও এক বছর তাদের লালন-পালন করতে হবে। আর গোখাদ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সামনে লোকসানে পড়তে হতে পারে।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বাংলানিউজকে বলেন, এবার ভারতীয় গরু আসেনি বললেই চলে। শনিবারও প্রচুর দেশি গরু এসেছে। আর, ক্রেতা বেশি, সময়ও প্রায় শেষ। তাই ব্যবসায়ীরাও দাম কমাতে শুরু করেছেন। প্রথমদিকে চড়া দাম হাঁকলেও এখন বেশি দর কষাকষি করছেন না। সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী গরু কিনতে পারছেন সবাই। 

শেষ সময়ে হাটের সার্বিক নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৭২৪ ঘণ্টা, আগস্ট ১০, ২০১৯
এসএস/একে

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রাজশাহী
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-08-10 17:25:02