bangla news

কয়লাখনি দুর্নীতি: সাবেক এমডিসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ 

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-২২ ১:০২:০৫ পিএম
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মূল ফটক। ছবি: বাংলানিউজ

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মূল ফটক। ছবি: বাংলানিউজ

দিনাজপুর: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ টাকার কয়লা আত্মসাতের ঘটনায় বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানির সাবেক ৭ এমডিসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। 

রোববার (২১ জুলাই) দিনাজপুরের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের উপ-পরিচালক মো. শামছুল আলম অভিযোগপত্রটি দাখিল করেন এবং জেলা কার্যালয় থেকে চার্জশিট নম্বর গ্রহণ করেন। চলতি সপ্তাহে দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তারা চার্জশিটটি আদালতে দাখিল করবেন। 

দিনাজপুর সমন্বিত জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) উপ-পরিচালক আবু হেনা আশিকুর রহমান বাংলানিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ২৪৩ কোটি ২৮ লাখ ৮২ হাজার ৫০১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে এজাহারভুক্ত ১৯ আসামির মধ্যে ৫ জনের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি। আর ঘটনার সঙ্গে নতুন করে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ায় মামলায় আরও ৯ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

অভিযোগপত্র অনুযায়ী ২৩ আসামির মধ্যে সাত সাবেক এমডি হলেন- মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আবদুল আজিজ খান, খুরশীদুল হাসান, কামরুজ্জামান, মো. আমিনুজ্জামান, এসএম নুরুল আওরঙ্গজেব ও হাবিব উদ্দিন আহাম্মদ। 

এছাড়া সাবেক মহাব্যবস্থাপক মো. শরিফুল আলম, সাবেক মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. আবুল কাসেম প্রধানীয়া, মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন বিভাগ) আবু তাহের মো. নুর-উজ-জামান চৌধুরী, ব্যবস্থাপক (জেনারেল সার্ভিসেস) মাসুদুর রহমান হাওলাদার, ব্যবস্থাপক (মেইন্টেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. আরিফুর রহমান, ব্যবস্থাপক (নিরাপত্তা শাখা) সৈয়দ ইমান হাসান, উপ ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডলিং ম্যানেজমেন্ট) মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, উপ ব্যবস্থাপক (মেইন্টেনেন্স অ্যান্ড অপারেশন) মো. মোরশেদুজ্জামান, উপ ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) মো. হাবিবুর রহমান, উপ ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) মো. জাহেদুর রহমানকে আসামি করা হয়। 

অন্যদিকে সহকারী ব্যবস্থাপক (ভেন্টিলেশন ম্যানেজমেন্ট) সত্যেন্দ্র নাথ বর্মণ, মো. মনিরুজ্জামান, ব্যবস্থাপক (কোল হ্যান্ডেলিং ম্যানেজমেন্ট) মো. শোয়েবুর রহমান, উপ মহাব্যবস্থাপক (স্টোর ডিপার্টমেন্ট) একেএম খালেদুল ইসলাম, ব্যবস্থাপক (প্রোডাকশন ম্যানেজমেন্ট) অশোক কুমার হালদার ও উপ মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) মো. জোবায়ের আলীকেও অভিযোগপত্রে আসামি করা হয়। 

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, আসামিদের পরস্পর যোগসাজশে ২০০৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত এ আত্মসাতের ঘটনা ঘটে। 

অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়া পাঁচ জন হলেন- ব্যবস্থাপক (কোম্পানির প্ল্যানিং অ্যান্ড এক্সপোরেশন বিভাগ) মো. মোশারফ হোসেন সরকার, ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড মেইন্টেনেন্স) জাহিদুল ইসলাম, উপ ব্যবস্থাপক (সেফটি ম্যানেজমেন্ট) মো. একরামুল হক, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) গোপাল চন্দ্র সাহা ও সাবেক মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) মো. আবদুল মান্নান পাটওয়ারী। 

১ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ টন কয়লা ঘাটতির অভিযোগে বিসিএমসিএলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বাদী হয়ে ১৯ জনকে আসামি করে ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই দিনাজপুরের পার্বতীপুর থানায় মামলা করেন। তফসিলভুক্ত হওয়ায় অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। 

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কাগজে-কলমে বেশি কয়লার মজুত দেখিয়ে প্রায় ২০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ওই বছরের ২৩ জুলাই তিন সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছিল দুদক। 
 
বাংলাদেশ সময়: ১২৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ২২, ২০১৯
আরএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-22 13:02:05