ঢাকা, বুধবার, ৫ ভাদ্র ১৪২৬, ২১ আগস্ট ২০১৯
bangla news

মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-২১ ১২:১৬:২১ পিএম
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছে মিন্নি আইনজীবী মাহবুবুল

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছে মিন্নি আইনজীবী মাহবুবুল

বরগুনা: রিফাত হত্যা মামলায় ১ নম্বর সাক্ষী থেকে আসামি হওয়া আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। 

রোববার (২১ জুলাই) বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে জামিন আবেদন করেন এ মামলায় মিন্নির আইনজীবীরা। 

বেলা সোয়া ১১টার দিকে আয়েশা সিদ্দিকার জামিন আবেদনের ওপর শুনানি শুরু হয়। দুই পক্ষের শুনানি শেষে বেলা ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে আদালত আদেশ দেন।

এ মামলার প্রধান আইনজীবী ও বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল বারী আসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় মিন্নি পক্ষে বিস্তারিত শুনানি হয়েছে। আদালতে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এবং বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (ব্লাস্ট) প্রতিনিধিসহ বরগুনা আদালতের ৩০ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।   

মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, রিফাত হত্যা মামলায় আজকে আমরা বিস্তারিত শুনানি করেছি। যেহেতু মিন্নি এখনো রিমান্ডে ও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন এবং রাব্বি-রিফাত ফরাজি দাবি করছে যে মিন্নি এর সঙ্গে জড়িত সে কারণে আদালত জামিন না মঞ্জুর করেছেন।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, কাল রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে আমি বরগুনার এমপির চেম্বারে যাই। তিনি কিন্তু একজন আইনজীবীও বটে। আমার সঙ্গে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন, সেখানে বাদী পক্ষের কেউ ছিল না। তবে অতিরিক্ত পিপি আকতারুজ্জামান বাহাদুর ছিলেন। সেখানে আমাদের সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কথা হয়েছে।

এ মামলার বিষয়ে কোনো হুমকি রয়েছি কি না এমন প্রশ্নে মিন্নির আইনজীবী বলেন, আসলে আজকে আপনার কোর্টে উপস্থিত থেকে থাকলে বুঝতে পারছেন, আমার মধ্যে এরকম কোনো জড়তা ছিল কি না, আর এরকম কোনো চাপ থাকলে আমি আসতাম না।

এ বিষয়ে দ্রুত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে ফৌজদারি মামলা করা হবে বলে জানান এ আইনজীবী।

২৬ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে বরগুনা সরকারি কলেজ রোডে স্ত্রী মিন্নির সামনে কুপিয়ে জখম করা হয় রিফাত শরীফকে। পরে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিফাতের মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড মঙ্গলবার (০২ জুলাই) ভোরে জেলা সদরের বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা ফেরিঘাট এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নয়ন নিহত হন। এর মধ্যে কয়েকজন আসামিও গ্রেফতার হন।
 
পরে  ১৬ জুলাই মঙ্গলবার সকালে বরগুনার মাইঠা এলাকার বাবার বাসা থেকে মিন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বরগুনার পুলিশ লাইনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রিফাত হত্যাকাণ্ডে মিন্নির সম্পৃক্ততার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় ওইদিন রাত ৯টার দিকে মিন্নিকে গ্রেফতার দেখায় পুলিশ।
 
পরদিন ১৭ জুলাই বুধবার বিকেলে মিন্নিকে আদালতে হাজির করে সাতদিন রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে শুনানি শেষে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিরাজুল ইসলাম গাজী ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।  কিন্তু ওইদিন মিন্নিরপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলো না।
 
রিমাণ্ডের দ্বিতীয় দিনে ১৯ জুলাই বিকেল ৫টার দিকে বরগুনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক  জবানবন্দি দেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
 
এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মো. হুমায়ুন কবির বাংলানিউজকে শুক্রবার জানিয়েছিলেন, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মিন্নিকে আদালতে তোলা হয়। সেখানে রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে মিন্নি জবানবন্দি দেন। 
 
এ হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে মিন্নিসহ ১৩ জন রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া এ মামলার দুইজন এখনো রিমান্ডে রয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ১২১২ ঘণ্টা, জুলাই ২১, ২০১৯ 
এসএইচ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   রিফাত হত্যা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-21 12:16:21