ঢাকা, সোমবার, ৪ ভাদ্র ১৪২৬, ১৯ আগস্ট ২০১৯
bangla news

‘শূন্যপাস প্রতিষ্ঠানগুলো আরও নজরদারিতে আনা প্রয়োজন’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-১৭ ৬:১৫:৫০ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি

ঢাকা: শূন্যপাস শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও ব্যাপকভাবে নজরদারির মধ্যে আনা প্রয়োজন বলে মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি।

তিনি বলেছেন, আমরা চাই এমন একটিও প্রতিষ্ঠানও যেন না থাকে, যে প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করবে না। কাজেই সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আমাদের আরও ব্যাপকভাবে নজরদারির মধ্যে আনা প্রয়োজন। আমরা তাদেরকে ডাকছি, সভা করছি। আমরা চেষ্টা করছি কী করে তাদেরকে এই অবস্থা থেকে বের করে আনা যায়।

বুধবার (১৭ জুলাই) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বিস্তারিত ফলাফল তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

পাস ফেলের হার নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যখন যে উত্তীর্ণ হবে, পরীক্ষার যে মান থাকে, যে মানদণ্ড ধরা থাকে যে, এর মধ্যে নম্বর পেতে হবে তাহলে পাস, কেউ যদি তার থেকে কম পেয়ে যায় তাহলে সে অকৃতকার্য হয়। কাজেই এটির উপর তো কারো হাত থাকে না।

‘আমরা চাই সবাই পাস করুক। সবাই যেন আরো ভালো পড়াশোনা করে, শিক্ষকেরা যেন আরো মনোযোগী হয়, বাবা-মারা তো মনোযোগী হয়-ই, সম্ভব হলে তাদের স্বার্থের দিকে যেন অন্যদিকে তাদের মন ডাইভার্টেড হয়ে না যায়।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রত্যাশা কী? আমরা চাই আমাদের যতো শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে তারা সবাই পাস করবে। আমাদের প্রত্যাশা শতকরা একশ ভাগ আমাদের সন্তানেরা পাস করবে। কিন্তু যেকোনো কারণেই হোক কারো প্রস্তুতিতে সমস্যা থাকে, কারো পরীক্ষার সময় অনেক সময় সমস্যা দেখা যায়, বিভিন্ন কারণে পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়। পরীক্ষায় অকৃতকার্য মানেই জীবনে সবকিছু শেষ হয়ে গেল না!

ডিজিটাল ডিভাইস থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক ডিস্ট্রাকশন, সেদিকে যেন মনোযোগ না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে অভিভাবকদের, বলেন শিক্ষামন্ত্রী।

বিভিন্ন বোর্ডের তারতম্য নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থীর ফলাফল নিয়েই এই তারতম্য। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লটারির মাধ্যমে হয়, সব প্রশ্নের ভারসাম্য রাখা হয়। সব শিক্ষার্থী যেন মোটামুটি উত্তর দিতে পারে- এসব হিসাব করেই প্রশ্নপত্র হয়। আমি মনে করি না যেখানে বেশি পাস করেছে সেখানে সহজ প্রশ্ন ছিল, যেখানে কম পাস করেছে সেখানে কঠিন প্রশ্ন ছিল- বিষয়টি তা নয়। 

ফলাফল ভালো করার বিষয়ে কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, আইসিটি, ইংরেজি এবং গণিতে জোর দিয়ে জেলায় জেলায় কর্মশালা করে পরামর্শ দেই কীভাবে ভালো করা যায়। অভিভাবকদের সঙ্গেও আমরা কথা বলেছি। অভিভাবক-শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার সম্মিলিত প্রয়াসে কাঙ্ক্ষিত ফল হয়েছে। 

ফল পুনঃনিরীক্ষণ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনোভাবেই ভুল গ্রহণযোগ্য নয়। যখন পুনঃমূল্যায়ন হয় তখন খাতা মূল্যায়ন করা হয় না, শুধু নম্বর পুনরায় যোগ করে দেখা হয়। এই যোগফলটিতেও কেন ভুল হবে? আমরা চাই যাতে ভুল একেবারেই না হয়। সেই ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি।

‘বিশ্ববিদ্যালয় কয় হাজার খাতা, এখানে এতো লাখ খাতা। তারপরেও প্রধান পরীক্ষক দেখেন।’

আবেদনকারীদের পুনঃমূল্যায়ন নিয়ে তিনি বলেন, সেটির সুযোগ নেই। কারণ একই পরীক্ষক দেখছেন না, ভিন্ন পরীক্ষক দেখছেন। সেখানে স্ট্যান্ডার্ড ঠিক রাখা যাবে না।

জিপিএ কমিয়ে জিপিএ-৪ করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা ভাবছি সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ৪ এর স্কেলে। আমাদের এখানকার যারা পাস করে যখন বাইরে যায় তখন আবারো সমতা করার ঝামেলায় যেতে হয়। সেজন্য আমরা সারাবিশ্বের মতো চার এর স্কেলে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছি। 

সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গোলাম ফারুখ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৩ ঘণ্টা, জুলাই ১৭, ২০১৯
এমআইএইচ/জেডএস

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   এইচএসসি
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-17 18:15:50