ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১১ আগস্ট ২০২০, ২০ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

বর্ষায়ও রমরমা আমের কারবার, বেড়েই চলেছে দাম

শরীফ সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২৫৫ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১৯
বর্ষায়ও রমরমা আমের কারবার, বেড়েই চলেছে দাম রাজশাহীর বাজারে বিক্রি হচ্ছে সুস্বাদু আম্রপালি জাতের আম-বাংলানিউজ

রাজশাহী: আষাঢ় শেষ। শুরু হতে চলছে শ্রাবণের বর্ষণ। যদিও গত কয়েক দিন ধরে থেমে থেমে বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। সকালে রোদ থাকলেও বিকেল ভিজছে বৃষ্টিতে। অর্থাৎ বর্ষাকাল যে চলছে, প্রকৃতি তা জানান দিচ্ছে। তবে এমন বর্ষায়ও থেমে নেই আমের কারবার। আমের রাজধানী বলে কথা, মৌসুমের শেষ সময়েও তাই জমজমাট বেচাকেনা চলছে।

তবে রাজশাহীর বাজারে এখন কেবলই মিষ্টি রসালো আম ফজলির রাজত্ব। খুব অল্প পরিমাণেই আছে আম্রপালি এবং ল্যাংড়া জাতের আম।

ফজলির চেয়ে এর দাম ঢের বেশি।

মহানগরীর শালবাগান, সাহেববাজার এবং শিরোইল ঢাকা বাস স্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আষাঢ়ের বৃষ্টির কারণে আমের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে বেশি। এই মুহূর্তে আমের দাম এতোটা বাড়ার কথা ছিল না। তবে এবার বিভিন্ন কারণে ফলন কম হওয়ায় সরবরাহও দ্রুত কমে আসছে। তাই আমের দামও হু হু করে বাড়ছে।  

মহানগরীর শিরোইল বাস স্ট্যান্ডের আম ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, বাগানগুলোতে উন্নতজাতের আম নেই। গাছে অল্প পরিমাণে আশ্বিনা জাতের আম আছে। আর রাজশাহীর আম কমে যাওয়ায় এখন চাহিদার বেশিরভাগ আমই আসছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে। কারণ রাজশাহীর পরই চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম পরিপক্ব হয়।

এখন মহারাজ ফজলি ও সুরমা জাতের ফজলি আমই বেশি আছে। অল্প পরিমাণে আছে ল্যাংড়া এবং আম্রপালি। ল্যাংড়া, আম্রপালিগুলো রাজশাহীর বাগান থেকেই সংগ্রহ করা। কিন্তু ফজলি আনা হয়েছে পাশের জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে।

মহাগরীর শালবাগান বাজার এলাকার আম ব্যবসায়ী মনিরুজ্জামান মিনার বলেন, তিনি মহারাজ ফজলি জাতের আম বিক্রি করছেন ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। গত সপ্তাহের তুলনায় এই আমের দাম মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি। আর সুরমা ফজলি ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে ফজলির বিক্রি কমেনি বরং দাম আরও বেড়েছে, বলেন এই ব্যবসায়ী।

হাবিব আহমেদ নামের শালবাগান এলাকার অপর আম ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহেও মহারাজ ও সুরমা ফজলির দাম মণ মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কম ছিল। কিন্তু মৌসুম শেষ হয়ে যাচ্ছে তাই সরবরাহও কমে যাচ্ছে। ফলে বাড়ছে দাম।

মহানগরীর শিরোইল বাস টার্মিনাল এলাকার আম ব্যবসায়ী রাকিব হোসেন বলেন, তার কাছে কিছু ল্যাংড়া এবং আম্রপালি আম আছে। কিন্তু দাম অনেক বেশি। প্রতি মণ ল্যাংড়া তিনি সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করছেন। আর আম্রপালি বিক্রি করছেন ৩ হাজার ২৯০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়।

এদিকে, চাষিরা গাছ থেকে যেন অপরিপক্ব আম নামিয়ে বাজারজাত করতে না পারেন সেজন্য গত কয়েক বছরের মতো এবারও আম নামানোর সময় বেঁধে দেয় জেলা প্রশাসন। সে অনুযায়ী, সবার আগে গুটি বা আঁটি আম নামতে শুরু করে গত ১৫ মে থেকে। এরপর উন্নতজাতের আমগুলোর মধ্যে গোপালভোগ ২০ মে, রানিপছন্দ ২৫ মে, হিমসাগর ২৮ মে লক্ষ্মণভোগ ২৬ মে এবং ল্যাংড়া ও আম্রপালি ৬ জুন থেকে নামানো শুরু হয়। গত ১৬ জুন থেকে সুস্বাদু ফজলি জাতের আম নামাতে শুরু করেন চাষিরা। আগামী ১৭ জুলাই থেকে আশ্বিনা আম নামাতে পারবেন রাজশাহীর চাষিরা।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শামছুল হক জানান, রাজশাহীতে এ বছর প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে রাজশাহীতে প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।  

কিন্তু ফলন কমায় শেষ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নাও হতে পারে। তবে এতে সমস্যা হবে না। যে ফলন হয়েছে তা দিয়ে দেশের আমের চাহিদা পূরণ সম্ভব বলেও জানান ঊর্ধ্বতন এই কৃষি কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ সময়: ০৮৫০ ঘণ্টা, জুলাই ১৫, ২০১৯
এসএস/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa