bangla news

গান্ধী আশ্রমের শুভ পদক্ষেপের সঙ্গে সরকারও থাকবে

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৭-১২ ৯:৪২:২১ পিএম
গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রয়াত সেক্রেটারি ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর স্মরণসভা

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রয়াত সেক্রেটারি ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর স্মরণসভা

নোয়াখালী: গান্ধী আশ্রমকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন (Centre of Excellence) করার উদ্যোগ নিলে সরকারও এ শুভ পদক্ষেপের সঙ্গে থাকবে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

শুক্রবার (১২ জুলাই) দুপুরে সোনাইমুড়ি উপজেলার জয়াগ গ্রামে গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রয়াত সেক্রেটারি ঝর্ণা ধারা চৌধুরীর স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সভাপতি স্বদেশ রায়ের সভাপতিত্বে এবং গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের পরিচালক রাহা নব কুমারের সঞ্চালনায় এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন, শান্তির দূত মহাত্মাগান্ধীর আদর্শের অনুসারী মানুষ আর সমাজের সেবায় জীবন উৎসর্গকারী গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের প্রয়াত সেক্রেটারি ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ত্যাগের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন, তা আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে এবং আগামী প্রজন্মের কাছে শিক্ষণীয় হয়ে থাকবে। 

মোজাম্মেল হক বলেন, নিজকে নিয়ে ভাবার জন্য আমাদের জন্ম হয়নি, সবার জন্য এবং সৃষ্টির ভাবনার জন্য আমাদের সৃষ্টি হয়েছে। ঝর্ণা ধারা চৌধুরী তাদেরই একজন। কোন সীমার মধ্যে এদের ত্যাগ সীমাবদ্ধ নয়। বিশাল গণ্ডিতে না হলেও, এ অঞ্চলে তিনি তার কীর্তি রেখে গেছেন। তিনি আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।

মন্ত্রী আরো বলেন, এখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয়ের সময়। আমরা যদি অন্তত তাকে অনুসরণ করি, তাহলে আমাদের অনেক উন্নতি হবে। দেশের সমস্ত নাগরিক তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা পালন করতে পারছে। কারণ, রাষ্ট্র এবং ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা। ঝর্ণা ধারা তার জীবন উৎসর্গ করেছেন, শান্তি, সম্প্রীতি এবং অহিংসা প্রতিষ্ঠার জন্য। তার যে স্বপ্ন ছিল, তা বাস্তবায়ন এবং আরো সম্প্রসারণ করা আমাদের মানবিক দায়িত্ব।

ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ বলেন, আজকের এ স্বার্থপর বিশ্বে ঝর্ণা ধারা চৌধুরী ছিলেন অন্যের জন্য নিবেদিত। শৈশবে দেখা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার স্মৃতি তাকে মহাত্মা গান্ধীর আদর্শের পথে কাজ করতে অনুপ্রাণিত করে। সেই থেকে তিনি বিশ্বের কল্যাণে তার জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ভারত ও বাংলাদেশের শান্তি, সামাজিক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং বন্ধুত্বের প্রতি তার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী গান্ধী আশ্রমকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি এবং এ সাহায্য-সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পরে তিনি ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের পাঠানো একটি শোকবার্তা পড়ে শোনান।              

স্মরণসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. মুনতাসির মামুন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ, নোয়াখালী-১ (চাটখিল-সোনাইমুড়ি) আসনের সংসদ সদস্য এ এইচ এম ইব্রাহিম, বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য ডা. কামরুল আহসান, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক ড. জামাল উদ্দিন, বিশিষ্ট গবেষক ড. শাখাওয়াত হোসেন, নোয়াখালী নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে আবদুল আউয়াল এবং তার পরিবারের সদস্য পার্থ সারথি চৌধুরী।  

এছাড়াও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সহকারী হাই কমিশনার অনিন্দ্য ব্যানার্জি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুল আনম চৌধুরী, ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট মাঈন উদ্দিন খসরু, জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, পুলিশ সুপার (এসপি) আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

গত ২ জুন মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মহাত্মাগান্ধির আদর্শের অনুসারী জয়াগ গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব ঝর্ণা ধারা চৌধুরীকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ৩ জুন থেকে তিনি হাসপতালের নিবিড় পরিচর্যা (আইসিইউ) কেন্দ্রে ছিলেন। পরে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৮০ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে যান। 

বাংলাদেশ সময়: ২১০৭ ঘণ্টা, জুলাই ১২, ২০১৯
এসএইচ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-07-12 21:42:21