ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ শ্রাবণ ১৪২৬, ২৩ জুলাই ২০১৯
bangla news

হাওরে পানি-স্যানিটেশন সমস্যা দূর করবোই

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৬-১৬ ২:১৭:২৯ পিএম
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রীএম এ মান্নান

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রীএম এ মান্নান

ঢাকা: আমি হাওরের সন্তান। চোখ খুলেই হাওর দেখেছি। হাওর নিয়ে আরো গবেষণা হওয়া দরকার। হাওর উন্নয়নে আরো জোর দিতে হবে। আমার এক ভাই ও এক বোন কলেরায় মারা গেছে। এর মূল কারণ ছিল  সুপেয় পানির অভাব। হাওরের স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই বলা চলে। আমি হাওরে পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা দূর করবোই।

রোববার (১৬ জুন) নগরীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) অনুষ্ঠিত ‘হাওর ও চর উন্নয়ন: আপনার জন্য আপনার ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, হাওর এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য সরকার ৫শ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আমরা বাড়ি বাড়ি টিউবওয়েল দেবো, ল্যাট্রিন দেবো। আরও বেশি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হবে। যত পুল-কালভার্ট নির্মাণ বাকি রয়েছে, সব আমরা বানিয়ে দেবো। 

‘বাচ্চাদের স্কুলগুলো আরও সুন্দর করে করবো। হাওর এলাকার গরিব মানুষের জন্য আমরা আরও বেশি করে ঘর বানাবো। পানি ও ট্যানিটেশন সমস্যা দূর করবোই। বর্তমান সরকার হাওরবান্ধব সরকার। প্রধানমন্ত্রী প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক উদার।’

হাওর প্রসঙ্গে এম এ মান্নান বলেন, হাওরের গ্রামে গ্রামে স্যানিটেশন অবস্থা দেখলে শরীর শির শির করে। স্যানিটেশন বর্জ্য হাওরের পানিতে পড়ছে। এই পানি খেয়ে কীভাবে বড় হলাম, অবাক লাগে। নিম্নমান, ভূমিহীন মানুষদের জন্য প্রকল্প হতে হবে। হাওর অঞ্চলে আরো উন্নয়ন করতে হবে।
 
হাওর অঞ্চলের স্মৃতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শৈশবে আমি হাওরের বাইরে কোথাও যাইনি। হাওরে নানা ধরনের মাছ ধরেছি। হাওরে মামার বাড়ি, বাবার বাড়ি। হাওরে গরুর সঙ্গে সখ্যতা ছিল, মাছের সঙ্গে প্রেম ছিল। হাওরের সামান্য পানিতে বোয়াল চিক চিক করতো। এই মাছ ধরেছি। শৈশবে শোল মাছের পেছনে দৌড়েছি।

হাওরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে এম এ মান্নান বলেন, হাওরের সঙ্গে সব সময় ছিলাম। চাকরিজীবনে কিশোরগঞ্জের ডিসি হিসেবে অনেক দিন ছিলাম। সেখানেও অনেক হাওর। আমার হাওরময় জীবন। হাওর নিয়ে ভাবনা বিশাল ব্যাপার। তবে ভাবনা রোমান্টিকও হতে পারে। তবে হাওর নিয়ে উন্নয়নের ভাবনা হতে হবে। হাওরের একজন মা সুন্দর কাঁথা সেলাই করবেন, আর আমরা ঢাকায় বসে ভোগ করবে। অন্যদিকে সেই মা আধপেটে খেয়ে ঘুমিয়ে থাকবে তা হবে না।

গবেষণার উপর জোর দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, আমাদের গবেষণার উপর জোর দিতে হবে। হাওরের সমস্যা নিরসনে গবেষণা করতে হবে। অতীত নয়, এখন বর্তমান নিয়ে ভাবতে হবে। কৃষকদের নিয়ে ভাবতে হবে। আমরা কৃষকের জাতি। কোনো কালচার নয় এগ্রিকালচার বিষয়ক কোনো প্রোগ্রাম হলেই আমাকে পাবেন। আমাদের সামনে যেতে হবে। সরকার গবেষণায় খুবই আগ্রহী। আমাদের আরো গবেষণা করতে হবে। গবেষণার ফান্ড আরো সহজ করতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ময়মনসিংহ) উপচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসানের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী শাহাব উদ্দিন আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু, পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম প্রমুখ।

বাংলাদেশ সময়: ১৪৩৭ ঘণ্টা, জুন ১৬, ২০১৯
এমআইএস/এএ 

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-06-16 14:17:29