ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ আষাঢ় ১৪২৬, ২৫ জুন ২০১৯
bangla news

প্রজনন ক্ষমতা বাড়ছে গ্রামে, কমছে শহরে

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৬-১২ ১০:৪৪:১১ পিএম
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: বাংলানিউজ

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: পরিবেশ, খাবারের বৈচিত্র্যের কারণে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে শহরে বসবাসকারী নারীদের প্রজনন ক্ষমতা। অন্যদিকে অনুকূল পরিবেশ, নিরাপদ ও বিশুদ্ধ খাবার ধরে রেখেছে গ্রামীণ নারীদের প্রজনন হার।

বর্তমানে প্রতি হাজার নারীর ক্ষেত্রে সাধারণ প্রজনন হার ৬৭ শতাংশ। গ্রামীণ এলাকায় এ হার হচ্ছে ৭৭ শতাংশ এবং শহরে এলাকায় তা মাত্র ৫৬ শতাংশ। ফলে প্রজনন ক্ষমতায় শহরের নারীদের তুলনায় এগিয়ে গ্রাম।

বুধবার (১২ জুন) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মনিটরিং দ্যা সিচুয়েশন অব ভাইটাল স্টাটিসটিক্স অব বাংলাদেশ (এমএসভিএসবি) এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে এ চিত্র উঠে এসেছে। আগারগাঁওয়ের পরিসংখ্যানে ভবনে এ প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। 

বিবিএস জানায়, মোট প্রজনন হার ২০১৮ সালে পাওয়া গেছে ২ দশমিক ০৫, যা ২০১৪ সালে ছিলো ২ দশমিক ১১। প্রজননের সবগুলো পরিমাপ তুলনা করলে দেখা যায় যে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশে জন্মের হার অনেকটা স্থির অবস্থায় রয়েছে।

কম বয়সে বিয়ে করছে পুরুষ
বিয়ের বয়স সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, সাম্প্রতিককালে পুরুষদের মধ্যে কম বয়সে বিয়ে করার প্রবণতা বেড়েছে। ২০১৫ সালে পুরুষদের বিয়ের গড় বয়স ছিলো ২৫ দশমিক ৩ বছর। অথচ ২০১৮ সালে ২৪ দশমিক ৪ বছরে বিয়ে করছে পুরুষ। তবে নারীদের বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য নেই। ২০১৪ সালে নারীদের বিয়ের গড় বয়স ছিলো ১৮ দশমিক ৩ বছর। বর্তমানে একই অবস্থানে রয়েছে।

কমে আসছে মাতৃ মৃত্যুর হার
গত পাঁচ বছরে কমে এসেছে মাতৃ মৃত্যুর হার। ২০১৪ সালে এ হার ছিলো ১ দশমিক ৯৩ শতাংশ। বর্তমানে মাতৃ মৃত্যুর হার কমে ১ দশমিক ৬৯ শতাংশ। বাংলাদেশে গড় মরণশীলতা প্রতি হাজারে ৫ জন। যা পল্লী এলাকায় এ ৫ দশমিক ৪ জন এবং শহরে ৪ দশমিক ৪ জন। ফলে শহরের তুলনায় গ্রামে মরণশীলতার হার বেশি।

বেড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমেছে হারিকেন
বিদ্যুতের উৎপাদন বৃদ্ধিতে দেশব্যাপী বিদ্যুতের আলো ব্যবহার করেন ৯০ দশমিক ১ শতাংশ পরিবার। অন্যদিকে হারিকেন ব্যবহার করেন মাত্র ৫ শতাংশ পরিবার। ২০১৪ সালে ৩১ দশমিক ৪ শতাংশ পরিবার হারিকেন ব্যবহার করতেন, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন ৬৭ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০১৪ সালে কোনো পরিবার সোলার ব্যবহার করতেন না, এখন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ পরিবার সোলার ব্যবহার করেন।

টয়লেট সুবিধা বেড়েছে
মানুষের আর্থিক উন্নয়ন হওয়ায় পাকা টয়লেট ব্যবহার বেড়ে দাঁড়িয়ে ৭৮ দশমিক ১ শতাংশ। ২০১৪ সালে এ হার ছিলো মাত্র ৬৩ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে ২ শতাংশ মানুষ উন্মুক্ত স্থান ব্যবহার করেন।

নারীরা পুরুষ দ্বারা উচ্চমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত
যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৪ খানার (পরিবার) গড় সদস্য ছিলো ৪ দশমিক ৩, বর্তমানে কমে হয়েছে ৪ দশমিক ২ জন। বাংলাদেশের নারীরা এখনও উচ্চমাত্রায় পুরুষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বর্তমানে বাংলাদেশে শতকরা ৮৫ দশমিক ৮ শতাংশ খানা প্রধান পুরুষ।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, জরিপ সব ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমরা বিবিএস আরো শক্তিশালী করছি। আমরা নানা জরিপ দেখেই পরবর্তীতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারবো। কয়েক বছরে বিবিএস-এ ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এখন সব সংস্থা বিবিএস-এর রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে কাজ করে। এমএসভিএসবি প্রকল্পটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এর মাধ্যমে দেশের সব তথ্য জানতে পেরেছি। যে সব এলাকা পিছিয়ে রয়েছে পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সেই সব পিছিয়ে পড়া এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেবেন।

প্রতিবছর বিবিএস ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশ করে থাকে। এ পরিসংখ্যানের মাধ্যমে একজন মানুষের জীবনের জন্ম, মৃত্যু, আয়ুষ্কাল, বিবাহের মতো অবধারিত বিষয়ের চিত্র ওঠে আসে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, বিবিএস মহাপরিচালক ড. কৃষ্ণা গায়েন। পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সৌরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। 

এমএসভিএসবি প্রকল্পের পরিচালক এ কে এম আশরাফুল হক নানা বিষয় উপস্থাপন করেন।

বাংলাদেশ সময়: ২২৪৪ ঘণ্টা, জুন ১২, ২০১৯
এমআইএস/এসএইচ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-06-12 22:44:11