bangla news

নতুন দুই সেতুতে উবে গেছে যানজট, যাত্রীদের স্বস্তি

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-২৬ ৫:৩৪:১৭ পিএম
নতুন দুই সেতুতে যানজট কমেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ছবি: বাংলানিউজ

নতুন দুই সেতুতে যানজট কমেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে। ছবি: বাংলানিউজ

কুমিল্লা: পাল্টে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিত্র। আগে যেখানে যানজট ছিল ওই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের নিত্যসাথী, সেখানে এখন স্বস্তিতেই গন্তব্যে পৌঁছতে পারছেন যাত্রীরা। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শনিবার (২৫ মে) নতুন দুটি সেতু উদ্বোধনের পর থেকে যানজটমুক্ত রয়েছে বাংলাদেশের অর্থনীতির ‘লাইফ-লাইন’ খ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। পৌনে ২ থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই কুমিল্লা থেকে ঢাকা আসা-যাওয়া করছে যানবাহনগুলো। যাত্রার সময় কমে গেছে ঢাকা-চট্টগ্রামে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রেও। 

শনিবার (২৫ মে) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে দ্বিতীয় মেঘনা ও কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দ্বিতীয় মেঘনা-গোমতী সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বলা হচ্ছে-এই দুই দেশে ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার। এই উপহারে বেশ স্বস্তিতেই হতে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা। 

জানা যায়, সেতু দুটির উদ্বোধনের আগে মেঘনা-গোমতি সেতুতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আটকে থাকতে হতো যানবাহনকে। কিন্তু আজ দু’দিন ধরে চিত্র এখন ভিন্ন। নতুন দুই সেতু খুলে
দেওয়ার পর সেতুতে কোনো যানবাহন আটকে নেই। মাত্র ৫ থেকে ৬ মিনিটেই সেতু পার হয়ে যাচ্ছে চলাচলরত যানবাহনগুলো। এর ফলে যানবাহনের চালক-হেলপাররা স্বস্তিতে রয়েছে। আর যানজটের ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলেছে যাত্রীদেরও।

ঢাকা-কুমিল্লা রুটে চলাচলকারী রয়েল পরিবহনের চালক আমির হোসেন বাংলানিউজকে বলেন, আমরা যানজট থেকে মুক্ত হয়েছি। এখন আর যানজটের আশঙ্কা নেই। সহজেই চলাচল করতে পারছি। নতুন দুই সেতু আমাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে। আর যাত্রীরাও বেশ খুশি।

‘যানজটের দিন শেষ। এখন সড়ক দুর্ঘটনাও কমে আসবে। দুই সেতু খুলে দেওয়ার সুফল আমরা পাচ্ছি,’ যোগ করেন ট্রাকচালক আবুল খায়ের।

এশিয়া-এয়ারকনের যাত্রী সাংবাদিক আরিফ মজুমদার বলেন, যানজট একেবারেই নেই। আজ মাত্র পৌনে ২ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুমিল্লায় এলাম। মহাসড়কে কোথাও যানজট দেখতে পাইনি। 

‘যানবাহনগুলো সহজেই সেতু পার হচ্ছে। আশা করি এমন পরিবেশ সব সময় থাকবে,’ বলেন তিনি।

হাইওয়ে পুলিশের দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বাংলানিউজকে বলেন, মহাসড়কে যানজট নেই। স্বাভাবিক গতিতে যানবাহন চলছে। আর যানজটের আশঙ্কা নেই। ঈদে আর এই সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এ মহাসড়ক দিয়ে দৈনিক প্রায় ৩৫ হাজারেরও বেশি যানবাহন চলাচল করে। তাই যানজটও ছিল প্রকট। এ যানজট নিরসনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গোমতী নদীর উপর ১ হাজার ৪১০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় গোমতী সেতু নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয়েছে এক হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। 

আর সাড়ে ১ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে মেঘনা নদীর উপর ৯৩০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৭ দশমিক ৭৫ মিটার প্রস্থের দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। 

প্রায় সাড়ে ৩ বছর ধরে নির্মাণ কাজ চলার পর ৪১তম মাসে শেষ হয় সেতু দু’টির নির্মাণ কাজ। পরে গত শনিবার সেতু দুটি যানচলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩১ ঘণ্টা, মে ২৬, ২০১৯
এসএইচ/এমএ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ঈদে বাড়ি ফেরা যানজট
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-05-26 17:34:17