ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭, ১১ আগস্ট ২০২০, ২০ জিলহজ ১৪৪১

জাতীয়

যৌন নিপীড়ন বন্ধে পাঠ্যসহ সর্বস্তরে সচেতনতা গড়ার তাগিদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৯১৭ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০১৯
যৌন নিপীড়ন বন্ধে পাঠ্যসহ সর্বস্তরে সচেতনতা গড়ার তাগিদ সভায় অতিথিরা। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: অনলাইনে যৌন নিপীড়ন কমাতে সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা।

তারা বলেছেন, শিশুরা জানেনা কীভাবে সাইবার নিরাপদ রাখতে হয়। ফলে দিনে ৩৫০-৪০০ জন শিশু সাইবার ক্রাইমের শিকার হচ্ছে।

অনেক শিশু আত্মহত্যাও করছে। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপদ নৈতিক ব্যবহার সম্পর্কে শিশুদের সচেতন করতে হবে। যাতে কোনো শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাইতে পারে।

রোববার (১৯ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অনলাইনে যৌন নির্যাতন’ সম্পর্কিত বিষয়াদি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মঞ্জুর আহমেদ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন টিডিএইচ নেদারল্যান্ড বাংলাদেশ কার্যালয়ের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহমুদুল কবির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহজাবীন হক, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব লুৎফুন নাহার প্রমুখ।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের শিশু ইউনিটের সমন্বয় আম্বিকা রায়। পাঠ্যপুস্তকে অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়ন বিষয়টি গুরুত্ব তুলে ধরেন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের শিশু ইউনিটের টিস লিডার নূরুন নবী।

প্রধান অতিথির বক্তব্য অধ্যাপক মঞ্জুর আহমেদ বলেন, অনলাইনে যৌন নিপীড়ন বিষয়ে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হলে আমাদের কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে। এজন্য আমাদের কারিকুলাম, টেক্সবই ও তথ্যপ্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। এখানে যেসব বিষয় রয়েছে তা কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে।

এ বিষয়ে আরও আলোচনা ও গবেষণা করতে হবে। শুধু পাঠ্যপুস্তকে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকদের সচেতনসহ দক্ষতা বাড়াতে হবে। শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য সমাজের সবার দায়িত্ব রয়েছে। এজন্য সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সুস্থ মানসিক বিকাশ ঘটাতে পারলে ভবিষ্যৎ সুস্থ্য ও সুন্দর হবে।

মাহমুদুল কবির বলেন, অনলাইনকে আমরা দাবিয়ে রাখতে পারবো না। তবে এর ব্যবহার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়িয়ে অপরাধের পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।

এজন্য শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিষয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি দেশ ও সমাজের সব শ্রেণীর মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে।

মাহজাবীন হক বলেন, অনলাইনে যৌন নিপীড়ন বিষয়ে শিশুদের সচেতন করতে শিক্ষকদের শিশু বান্ধব আচরণ করতে হবে। এটি শুধু পাঠ্যপুস্তক বা পরীক্ষার মধ্যে সীমা বদ্ধ না রেখে এর ব্যাপকতা বাড়াতে হবে। সমস্যাগুলো নিয়ে শিক্ষক অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে। আমাদের সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থেকে সচেতন হলে এ ধরনের অপরাধ কমানো সম্ভব। সর্বোপরি আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে শিশুরা ভয়হীনভাবে তাদের সমস্যাগুলো বলতে পারে।

লুৎফুন নাহার বলেন, অনলাইনে যৌন নিপীড়ন বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে দেওয়ার আগে এ সম্পর্কে আরও গবেষণার পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা বাড়াতে হবে। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বয়সের সঙ্গে বিষয়টি কতটুকু যুক্তিযুক্ত বিবেচনায় নিতে হবে। পারিবারিক সামাজিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সব ভালো কাজের সঙ্গে আছে বলে জানান তিনি।

মূল প্রবন্ধে আম্বিকা রায় বলেন, বর্তমানে অনলাইনে শিশু যৌন নিপীড়ন মহামারি আকার ধারণ করেছে। একদিনে ৩৫০ থেকে ৪০০ জন শিশু এর শিকার হচ্ছে। কোমলমতি শিশুদের নিরাপদ অনলাইন ব্যবহার কৌশল না জানালে এ ধরনের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শিশু আত্মহত্যার সংখ্যা বেড়ে যাবে। এজন্য যৌন নিপীড়ন বিষয়াদি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্তসহ অভিভাবক শিক্ষকদের তথ্যপ্রযুক্তিতে আরও দক্ষ করে হতে হবে। সাইবার নিরাপত্তাকে আরও আধুনিক করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, আই টি সি আইনসহ অন্যান্য আইন সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫১৬ ঘণ্টা, মে ১৯, ২০১৯
জিসিজি/এএটি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa