bangla news

‘টাকার অভাবে নয়, টাকা খরচেই পানির সংকট’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৫-০৭ ৯:২৮:১৯ পিএম
নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা শীর্ষক গণশুনানি

নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা শীর্ষক গণশুনানি

ঢাকা: আমাদের পানির যে সমস্যা হচ্ছে তা টাকার অভাবে নয়, টাকা খরচের কারণে। গায়ে পড়ে টাকা-পয়সা খরচ করে নিজেদের সম্পদ নষ্ট করার নজির বিশ্বে আর কোথাও নাই বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এবং তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ।

মঙ্গলবার (৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক এক গণশুনানিতে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে আশীর্বাদপ্রাপ্ত দেশ বলে উল্লেখ করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ঢাকা শহর প্রাকৃতিকভাবে এমন একটি জায়গায় অবস্থিত, যার চারপাশে তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা ও বুড়িগঙ্গা অবস্থিত। চারপাশে এমন চারটি নদী থাকায় আমাদের তো অসুখ-বিসুখ হওয়ার কথাই না। আমাদের ঢাকার পান করার পানির কোন সমস্যাই থাকার কথা না। আজকে যদি এই নদীগুলোর পানি বিষাক্ত না হতো, তাহলে আমাদের ঢাকা শহরের মানুষের অর্ধেক অসুখ-বিসুখ ভালো হয়ে যেত। আমাদের অসুখ বিসুখের অন্যতম প্রধান কারণ পানি এবং বাতাস। যার দুটিই দূষিত।  

আনু মুহাম্মদ বলেন, এশিয়ান ব্যাংকের অর্থায়নে ৬ হাজার কোটি বরাদ্ধ করা হয়েছে মেঘনা নদী থেকে পানি টেনে আনার জন্য। এর আগেও বুড়িগঙ্গার পানি শোধনে ১৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হলেও, বুড়িগঙ্গার পানির কোনো উন্নতি হয়নি, যা ছিল তাই আছে। যে সমস্ত প্রকল্প করা হয়েছে বা হচ্ছে, টাকা পয়সা খরচ করে যে বিশাল বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, বিশাল বিশাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, তার কারণে নদীর পানি দূষিত হচ্ছে।

ওয়াসার পানির বিষয়ে তিনি বলেন, ওয়াসার পানি যদি শতভাগ সুপেয় হতো, তাহলে আমাদের মিজানুর রহমান ওয়াসার পানি দিয়ে এমডিকে শরবত বানিয়ে খাওয়াতে গেলে তিনি অফিস থেকে কেন পালিয়ে যাবেন। ওয়াসার এমডির বক্তব্যের পর এই বিষয়ে কত লেখালেখি হলো। কিন্তু এসব বিষয়ে কারও কোনো কিছু যায় আসে না ভাবটা এমন। আমাদের বাসা বাড়িতে পাইপলাইনে যে পানি আসবে, আমরা ট্যাপ খুলে সেই পানি পান করবো। এটা আমার নাগরিক অধিকার। এর জন্য আমরা সরকারকে টাকা দেই।

নিরাপদ পানি আন্দোলন অধিকার আয়োজিত গণশুনানিতে আরও বক্তব্য রাখেন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স, জনস্বাস্থ্য প্রকোশলী লেনিন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম, নগর পরিকল্পানাবিদ আদিলুর রহমান প্রমুখ।

গণশুনানিতে মডারেটরের ভূমিকা পালন করেন জুরাইনের মিজানুর রহমান। শুনানি শেষে সরকারের কাছে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের সময়: ২১২৪ ঘণ্টা, মে ০৭, ২০১৯
আরকেআর/এমজেএফ

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ওয়াসা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2019-05-07 21:28:19