ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
bangla news

পাওনা টাকা চাওয়ায় নারীকে পেটালেন ইউপি সদস্য

সুনীল বড়ুয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৪-২২ ৮:০৫:৩৪ পিএম
চিকিৎসাধীন ইসমত আরা। ছবি: বাংলানিউজ

চিকিৎসাধীন ইসমত আরা। ছবি: বাংলানিউজ

কক্সবাজার: বিদ্যুৎ বিলের পাওনা টাকা চাওয়ায় ইসমত আরা (৩৬) নামের এক নারী ও তার মেয়েকে পেটানোর অভিযোগ উঠেছে পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য সোলতান আহম্মদের (৩৫) বিরুদ্ধে।

কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গত ১৬ এপ্রিল দুপুরে এ ঘটনা ঘটলেও প্রভাবশালীদের কারণে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়।

পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় এবং নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয়রা অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্যর কঠোর শাস্তির দাবিও জানান।

অভিযুক্ত সোলতান আহম্মদ উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।

মারধরের শিকার ওই নারী এবং তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ের শরীরের বিভিন্ন অংশ লাল হয়ে ফুলে গেছে। তারা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ওই নারীর স্বামী মো. রফিক।

মো. রফিক বলেন, ইসমত আরার শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েছে।

এ ঘটনায় ইসমত আরা বাদি হয়ে ১৯ এপ্রিল উখিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে ইউপি সদস্য সোলতান আহম্মদের হুমকিতে ইসমত আরা ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান মো. রফিক।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নয়মাস আগে ইসমত আরার বাড়ি থেকে বিদ্যুতের সাইড কানেকশান নেন পালংখালী ইউপি সদস্য সোলতান আহম্মদ। বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার নয়মাস পার হলেও বিল পরিশোধ করেন মাত্র একমাসের। ইসমত আরা বকেয়া বিল চাইতে গেলে ক্ষুব্ধ হন সোলতান আহম্মদ। এ ঘটনার জের ধরে  ১৬ এপ্রিল দুপুর দুইটার দিকে ওই এলাকার মো. আলমের বাড়িতে গিয়ে ইসমত আরাকে লাঠি নিয়ে মারধর শুরু করেন সোলতান আহম্মদ।  ইসমত আরার চিৎকার শুনে তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে কাউছার পারভীন (১৮) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়। মারধরের কারণে আঘাতের কারণে মা-মেয়ে দুইজনের শরীরের বিভিন্নস্থানে ফুলে যায়।

নির্যাতিতা ওই নারীর স্বামী মো. রফিক বাংলানিউজকে জানান, ঘটনার পর পর এলাকার লোকজন ঘটনাস্থল থেকে আমার স্ত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে চাকমারকুল ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’র হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উখিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

মো. রফিক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা হসপিটালে থাকার এই সুযোগে সোলতান মেম্বার লোকজন দিয়ে আমাদের চলাচলের পথটি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে বর্তমানে আমার মেয়েরা ঘর থেকেও বের হতে পারছেনা।  এছাড়াও থানায় এজাহার দেওয়ার কারণে নানাভাবে হুমকি দেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মান্নান বাংলানিউজকে বলেন, ‘মারধরের শিকার হয়ে ইসমত আরা নামের ওই নারী দুই দফায় হাসপাতালে ভর্তি হন। মারধরের কারণে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন।’

এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য সোলতান আহম্মদের মুঠোফোনে (০১৮৩৮৫০১৬১২) একাধিকবার ফোন করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল গফুর বাংলানিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি।  তবে ওই নারীর পক্ষ থেকে আমার কাছে কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি ওই নারীর সন্ধানও অমি পাচ্ছি না।’

তবে ওই ইউপি সদস্য সোলতান আহম্মদ লোক হিসেবে ভালো নয় বলে জানান চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর।

উখিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নুরুল ইসলাম মজুমদার বাংলানিউজকে বলেন, ‘চিকিৎসার কাগজপত্রের সঙ্গে এজাহারের লেখায় গরমিল আছে। এজাহারটি তাদের সংশোধন করে দিতে বলেছি। সংশোধন করে আনলেই মামলা রেকর্ড করা হবে।’

রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘ওই রাস্তা খুলে দেওয়ার জন্য সোলতান মেম্বারকে বলা হয়েছে। এর পরেও না খুললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৯৫১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২২, ২০১৯
এসবি/টিসি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   কক্সবাজার
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2019-04-22 20:05:34