ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২১ মে ২০১৯
bangla news

ফেসবুকে সম্পর্ক, অতঃপর অপহরণ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৪-১৮ ৩:৩৬:৫৯ পিএম
অপহরণ চক্রের ৫ সদস্য আটক। ছবি: বাংলানিউজ

অপহরণ চক্রের ৫ সদস্য আটক। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক। সম্পর্কের এক মাসের মধ্যেই বয়ফ্রেন্ডকে ডেটিংয়ের প্রস্তাব সুন্দরী রমনীর। এরপর ডেটিংয়ের ফাঁদে ফেলে বয়ফ্রেন্ডকে অপহরণ করে দাবি করা হয় মুক্তিপণ।

আদতে সুন্দরী মেয়ের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি পরিচালনা করতেন কাজল বেগম (২৬)। তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য। মো. রায়হান (২৪) নামে এক যুবককে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অপহরণ করে চক্রটি। এরপর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) হাতে চক্রের পাঁচ সদস্য আটকের পর বেরিয়ে আসে আসল তথ্য।

বুধবার (১৭ এপ্রিল) দিনগত রাতে সাভারের আমিন বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত প্রেমিকা কাজলসহ চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব-৫।

আটক অন্যরা হলেন- আজিজুল হাকিম (৪০), লিটন মোল্লা (২৬), নজরুল ইসলাম বাবু (৪২), নুরু মিয়া ওরেফে মোল্লা (৬২)। এসময় উদ্ধার করা হয় অপহৃত রায়হানকে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির।

তিনি বলেন, রাজধানীর কলাবাগান থেকে গত ১২ এপ্রিল রাত ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে অপহরহণকারীরা রায়হানকে অপহরণ করে সাভারের আমিন বাজারে নিয়ে আটকে রাখে। ছয়দিন তাকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের পর পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় পাঁচ লাখ টাকায় মুক্তিপণ রফাদফা হয়।

‌‘রায়হানের পরিবার চক্রের সদস্য বাহারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মিরপুরের ৬০ ফিট ভাঙা ব্রিজের কাছে সিগারেটের বক্সের ভেতর করে এক লাখ টাকা নিয়ে আসে। বাকি চার লাখ টাকা না দিলে রায়হানকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় চক্রটি। পরবর্তিতে র‌্যাবের কাছে অভিযোগের প্রেক্ষিতে চক্রের পাঁচ সদস্য আটকসহ উদ্ধার করা হয় রায়হানকে।’

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণকারীরা জানায়, তারা ১০ বছর ধরে ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চাকরিজীবী এবং তাদের পরিবারের সদস্যকে টার্গেট করে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন ও কৌশলে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করে।

র‌্যাব-৪ প্রধান বলেন, আটক নুরু মিয়া ও কাজল বাবা-মেয়ের পরিচয় দিয়ে বাসা ভাড়া নেয়। ভাড়া বাসাতেই তারা অপহরণ করে নিয়ে এসে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবি করতো। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী টের পাওয়ার ভয়ে এক মাস কিংবা দুই মাস পর পর তারা বাসা পরিবর্তন করে ফেলে।

মঞ্জুরুল কবির বলেন, সাধারণত লোকলজ্জার ভয়ে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা এসব বিষয়ে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আসে না। অনেকেই লাখ লাখ টাকা খোয়া দিয়েও ভয়ে কিংবা মান সম্মানের জন্য কাউকে জানায় না।

অপহরণকারী চক্রের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, ঢাকাসহ আশপাশের বাসস্টেশন থেকে যাত্রীদের চাহিদা মতো স্থানে যাওয়ার কথা বলে মাইক্রো বা প্রাইভেটকারে উঠায়। এরপর গাড়িতে যাত্রীবেশে আগে থেকে অবস্থানকৃত তিন/চারজন ব্যক্তি গাড়ি চলা অবস্থায় ভিকটিমকে অজ্ঞান করে। কখনো হাত-পা ও মুখ বেঁধে তাদের পরিকল্পিত এলাকায় নিয়ে আসে এবং ভিকটিমকে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে ভিকটিমের পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায় করে।

কখনো সুন্দরী মেয়ের ছবি দিয়ে ফেসবুকে ফেইক আইডির মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী, পেশাজীবী ও চাকরিজীবীদের টার্গেট করে তার সঙ্গে বন্ধুত্বের মাধ্যমে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে এবং পরবর্তীতে ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে। একপর্যায়ে ভিকটিমের সঙ্গে দেখা করার কথা বলে অপহরণ করে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫৩৫ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৮, ২০১৯
পিএম/আরবি/

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   অপহরণ ফেসবুক
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-04-18 15:36:59