ঢাকা, বুধবার, ৫ আষাঢ় ১৪২৬, ১৯ জুন ২০১৯
bangla news

নুসরাত হত্যাকাণ্ড: গ্রেফতারকৃত পপিই আলোচিত শম্পা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৪-১৬ ৩:৩৪:৪৯ এএম
উম্মে সুলতানা পপি

উম্মে সুলতানা পপি

ফেনী: ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার উম্মে সুলতানা পপিই হলো আলোচিত সেই শম্পা ওরফে চম্পা।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) বিকালে এ তথ্য জানিয়েছেন ফেনী পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান।

তিনি বলেন, রিমান্ডে পরীক্ষা নিরিক্ষা ও তথ্য উপাত্তের আলোকে নিশ্চিত হওয়া গেছে গ্রেফতার হওয়া উম্মে সুলতানা পপিই হলো শম্পা।

এর আগে গত ৯ এপ্রিল শম্পা সন্দেহে সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের মেয়ে উম্মে সুলতানা পপিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই সময় সোনাগাজী-দাগনভূঞা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জানান, শম্পা সন্দেহে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে মাদরাসারছাত্রী রাফির শ্লীলতাহানির ঘটনায় আটক অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদদৌলার শ্যালিকার মেয়ে।

শম্পা একই মাদরাসা থেকে এবার আলিম পরীক্ষার্থী। ১১ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সরাফ উদ্দিন আহম্মেদ তার পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ঘটনার দিন অগ্নিদগ্ধের সময় নুসরাত জাহান রাফি কাউকে বলতে শোনেন- 'শম্পা চল'। এমন তথ্য চিকিৎসকদের কাছে দেন রাফি। সেই সূত্রে পুলিশ তাকে আটক করে। উম্মে সুলতানা পপিই শম্পা কি না এ নিয়ে তখন থেকেই ধোঁয়াশা ছিল।

গত ৬ এপ্রিল সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম পরীক্ষার কেন্দ্রে গেলে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে রাফির গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায় মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা। এর আগে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা প্রত্যাহারের জন্য রাফিকে চাপ দেয় তারা।

পরে আগুনে ঝলসে যাওয়া রাফিকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাতে নুসরাত জাহান রাফি মারা যায়।

শ্লীলতাহানির মামলায় আগে থেকেই কারাবন্দি ছিলেন সিরাজ উদদৌলা। আর হত্যা মামলা হওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরমধ্যে সিরাজ উদদৌলার ‘ঘনিষ্ঠ’ নুর উদ্দিনকে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে এবং শাহাদাত হোসেন শামীমকে শুক্রবার (১২ এপ্রিল) সকালে মুক্তাগাছা থেকে গ্রেফতার করে পিবিআই। নুসরাত হত্যা মামলায় নুর উদ্দিন ২নং আসামি এবং শামীম ৩নং আসামি।

বাকি আসামিদের মধ্যে সিরাজ উদদৌলাসহ ১০ জন রিমান্ডে রয়েছেন। এরা হলেন- সিরাজ উদদৌলা (৭ দিন), আওয়ামীলীগ নেতা মকসুদ (৫ দিন), জাবেদ হোসেন (৭ দিন), নূর হোসেন, কেফায়াত উল্লাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন, শাহিদুল ইসলাম, আবছার উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেন ৫ দিন করে রিমান্ডে রয়েছেন।

বাংলাদেশ সময়: ০৩৩৪ ঘণ্টা, এপ্রিল ১৬, ২০১৯
এসএইচডি/এইচএমএস

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-04-16 03:34:49