bangla news

‘পাকিস্তানিরা বাঙালিদের কুকুর-বিড়াল মনে করতো’

জাবি করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৩-২৬ ৪:০৫:১৩ এএম
বক্তৃতা করছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক)। ছবি: বাংলানিউজ

বক্তৃতা করছেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক)। ছবি: বাংলানিউজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়: পাকিস্তানিরা ছিল নরপিশাচ, তারা বাঙালিদের কুকুর-বিড়াল মনে করতো। পাকিস্তানের শাসনকালে বাঙালিরা নিজের ভাষায় মন খুলে কথাও বলতে পারতো না।

সোমবার (২৫ মার্চ) জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সেলিম আল দীন মুক্তমঞ্চে তিন দিনব্যাপী ‘মুক্তিসংগ্রাম’ শিরোনামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে এ কথা বলেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গাজী গোলাম দস্তগীর (বীর প্রতীক)।

তিনি বলেন, পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের অবস্থা এতো বেশি শোচনীয় ছিল যে তারা বাংলা ভাষায় মন খুলে কথা বলতে পারতো না। সব জায়গায় উর্দুতে কথা বলতে হতো। এখন যেমন কথার মধ্যে দু-একটি ইংরেজি বললে ভাব বাড়ে, তেমনি তখন উর্দু ছিল ভাবের ভাষা। শুধু বাড়িতে মন খুলে বাংলা বলতে পারতাম।

একাত্তরের ২৫ মার্চ কালাত স্মরণ করে তিনি বলেন, আজকের এই দিনে রাত ১২টায় হঠাৎ রাজারবাগে আগুন আর আগুন। রাজারবাগ পুলিশ লাইন চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। রাত ৩টায় আমাদের বাড়ির দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ পড়ে। বাবা দরজা খুলে দিলে ৩ পুলিশ সদস্য তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভেতরে এসে বলেন- আমাদের বাঁচান, আমাদের তিনটা লুঙ্গি আর শার্ট দিন। তারা পুলিশের পোশাক খুলে লুঙ্গি-শার্ট পরে আমাদের বাড়ির দেয়াল টপকে পালিয়ে যান। এই দিন অনেকে পালিয়ে যেতে পেরেছে, আবার অনেকের জীবন দিতে হয়েছে।

রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর মার্চের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন থেকেই রাজনৈতিক যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়, আমরা সশস্ত্র যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। বঙ্গবন্ধুর জন্য আমরা আজ স্বাধীন দেশে বাস করতে পারছি। বঙ্গবন্ধু শুধু আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগের নন, তিনি বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের। স্বাধীনতার সুফল সবাই ভোগ করছে।

এ সময় তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণের স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষার্থীদের সামনে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্ব অনুষ্ঠানের আরও বক্তব্য রাখেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মো. নুরুল আলম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, ছাত্রকল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক রাশেদা আখতার, উৎসবের আহবায়ক ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং বাংলাদেশ
ছাত্রলীগ জাবি শাখার সভাপতি জুয়েল রানা। 

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। ‘মুক্তিসংগ্রাম’ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলবে ২৭ মার্চ পর্যন্ত।

বাংলাদেশ সময়: ০৪০০ ঘণ্টা, মার্চ ২৬, ২০১৯
এইচএ/

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2019-03-26 04:05:13