ঢাকা, শনিবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

ঈদে ঘরমুখো মানুষ-১: ভোগান্তিই যেন চিরসঙ্গী

সালাম ফারুক<br>স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১১৩৩ ঘণ্টা, সেপ্টেম্বর ১, ২০১০
ঈদে ঘরমুখো মানুষ-১: ভোগান্তিই যেন চিরসঙ্গী

ঢাকা: ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা মানেই আনন্দের আগে একরাশ ভোগান্তি, মানসিক চাপ ও দৈহিক ক্লান্তি। ঢাকা থেকে মফস্বলমুখো হওয়া বা হতে যাওয়া মানুষের জন্য এটি যেন চিরসত্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবারও যে এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না এরইমধ্যে তা টেরও পাওয়া গেছে।

ঈদের ছুটির এখনো ৯দিন বাকি। অথচ দূরপাল্লার বাস ও লঞ্চের টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে শেষও হয়ে গেছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম পরিবহন হওয়ায় যাত্রীদের একটি বড় অংশই টিকিট থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। সরেজমিনে দেখা গেছে টিকিট সংগ্রহের জন্য সোমবার ইফতারের পর থেকেই যাত্রীরা কমলাপুরে ভিড় করতে শুরু করেন।

তবে মূল ভিড় হবে শেষ দু’দিন। বেশিরভাগ কর্মজীবীই কর্মস্থল থেকে ছুটি পাবেন ৯ অথবা ১০ সেপ্টেম্বর। ওই দু’দিনের টিকিট বিক্রি হবে ৪ ও ৫ সেপ্টেম্বর। ট্রেনের সংখ্যা স্থিতিশীল থাকার বিপরীতে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এবারও টিকিটপ্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুাযায়ী, ২০০১ সালে ঢাকার জনসংখ্যা ছিল ৮৫ লাখের বেশি। ২০০৮ সালে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় এক কোটি ২৮ লাখে। সঠিক কোনো হিসাব না থাকলেও এখন ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় পৌনে দুই কোটি বলে ধারণা করা হয়। প্রতি বছর গ্রাম তথা মফস্বল ছেড়ে রাজধানীতে এসে জড়ো হয় অসংখ্য মানুষ। তাদের কেউ চাকরি নিয়ে, কেউবা কাজের সন্ধানে আবার অনেকেই এলাকায় সবকিছু হারিয়ে ছিন্নমূল হিসেবে আসে।

সোমবার সিটিজেন রাইটস মুভমেন্ট আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে ঈদ উপলক্ষে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষের সংখ্যা ৭০ থেকে ৮০ লাখ বলে মন্তব্য করা হয়। প্রতি বছরই এ সংখ্যা বাড়ছে। অথচ সে হারে যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে উঠছে না। বরং অনেক রুটে কমে যাচ্ছে।

গত তিন বছরে রেলওয়ের ৩৮৭টি স্টেশনের মধ্যে বন্ধ হয়েছে ১৩০টি। স্বাভাবিকভাবেই বাসের ওপর চাপ কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু এ সময়ের মধ্যে সড়ক-যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে তেমন কোনো পদক্ষেপ কার্যকর হয়নি। এছাড়া নিয়মিত দুর্ঘটনার কারণে সড়ক ও নৌপথে কমেছে দূরপাল্লার পরিবহনের সংখ্যা।

ঈদের আগে ঘরমুখো যাত্রীদের বহনকারী গাড়ি বা লঞ্চের দুর্ঘটনায় পড়ার ঘটনা প্রতি বছরই ঘটে। সরজমিনে দেখা গেছে, ঈদ এলেই প্রচুরসংখ্যক পুরনো ও বিকল বাস ও লঞ্চ সংস্কার করে যাত্রী পরিবহনের জন্য পথে নামিয়ে দেওয়া হয়।

শুধু তাই নয়, পর্যাপ্ত চালকের অভাবে এসব পরিবহন চালানোর জন্য তখন চালকের সাহায্যকারী ও প্রশিক্ষণার্থীদের ধরে নিয়ে আসা হয়। অধিক মুনাফা অর্জনের আশায় এমন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত হন পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা।

ত্রুটিপূর্ণ পরিবহন ও অপরিপক্ক চালকের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা এবং ত্রুটিপূর্ণ ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে লঞ্চডুবিতে শত শত মানুষ মারা যায়। এমনকি বিরতিহীনভাবে একের পর এক ট্রিপ দিতে গিয়ে বাসের ইঞ্জিন গরম হয়ে আগুন লাগার ঘটনাও ঘটে।

কিন্তু ঈদ বলেই তখন জীবনের চেয়ে সময়ের মূল্যটা বেশি হয়ে যায় মানুষের কাছে। তারাও নাড়ির টানে এসব ঝুঁকিপূর্ণ পরিবহনে বিপজ্জনকভাবে চড়ে বসেন।

এ ধরনের বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত থাকতে তাদের বারবার সরকার ও বেসরকারি বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে বলা হয়। কিন্তু তাদের সমস্যা সমাধান, তথা সময় বাড়ানো ব্যাপারে সরকার এখন পর্যন্ত উদাসীনই রয়ে গেল।

আগামীকাল পড়ুন ঈদে ঘরমুখো মানুষ-২: পাঁচদিন ছুটি না পাওয়ার আক্ষেপ

বাংলাদেশ সময়: ১১২১ ঘণ্টা, ০১ সেপ্টেম্বর ২০১০

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa