ঢাকা, শনিবার, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ২০ এপ্রিল ২০১৯
bangla news

বেনাপোলে পণ্য ভর্তি ট্রাক রেখে চালক উধাও

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০৩-২০ ১০:০৬:৪১ পিএম
চোরাচালানী পণ্য ভর্তি ট্রাক জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ছবি: বাংলানিউজ

চোরাচালানী পণ্য ভর্তি ট্রাক জব্দ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ছবি: বাংলানিউজ

যশোর: বেনাপোল স্থলবন্দরে নো-এন্ট্রির মাধ্যমে আনা বিপুল পরিমাণ চোরাচালানী পণ্য ভর্তি ট্রাক ফেলে রেখে চালক পালিয়ে গেছে। ফলে ভারতীয় ট্রাকসহ মালামাল বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কাস্টমস।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্টরা বাংলানিউজকে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ মার্চ বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার বেলাল হোসেন জানতে পারেন, একটি ভারতীয় ট্রাকে (ঘখ ০১ অঈ - ৬৬৫৪) নো-এন্ট্রির মাধ্যমে চোরাচালানী পণ্য নিয়ে স্থলবন্দরের ১নং শেডের সামনে অপেক্ষা করছে। সেই থেকেই ট্রাকটি নজরে রাখে কাস্টমসের ইনভেস্টিগেশন রিসার্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (আইআরএম) টিম। পরে ট্রাকটি ৯নং শেডে কিছু পণ্য খালাস করে বাকি পণ্য নিয়ে স্থলবন্দরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করে। এরমধ্যে আইআরএম টিম নিশ্চিত হয় ট্রাকে রক্ষিত অবশিষ্ট পণ্যের কোনো কাগজপত্র নেই। পরবর্তীতে ড্রাইভার পরিস্থিতি টের পেয়ে ট্রাকটি ১নং শেডের সামনে রেখে পালিয়ে যায়। ফলে স্থানীয় অন্য ট্রাকের চালকের সহয়তায় আইআরএম টিম পণ্যসহ ভারতীয় ট্রাকটি আটক করে কাস্টম হাউসে নিয়ে আসে।

রাজস্ব বোর্ড সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, জব্দ পণ্যসহ ভারতীয় ট্রাকটি ইনভেন্ট্রি করার লক্ষে গঠিত টিম ট্রাকে তল্লাশি করে চোরাচালানের মাধ্যমে মিথ্যা ঘোষণায় আনা ৬৫১ কার্টুনে মোট ৭৮১২ টি (7812 wU Gillette Shaving Foam Gi) এর বোতল পাওয়া যায়। যার শুল্কায়ন যোগ্য ওজন ৩২৬৫.৪১৬ কেজি। 

পরবর্তীতে ৯নং শেডে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ট্রাকটিতে একটি মেনিফেস্টের মাধ্যমে তিনটি পণ্য চালান আনা হয়। ট্রাকটিতে  ঘোষণাকৃত তিনটি পণ্য চালানই গ্রহণ করেন বলে শেড ইনচার্জ জানান। ট্রাকের অবিশষ্ট পণ্যের বিষয়ে তিনি কোন কিছু অবহিত নন। ওই তিনটি পণ্য চালানের আমাদানিকার প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল লিমিটেড এবং সিএন্ডএফ এজেন্ট রুমা ইন্টারন্যাশনাল। এছাড়াও ওই ট্রাকের অন্য পণ্যের আমদানিকারকের সিএন্ডএফ এজেন্টের কাছে জানতে চাইলে তারা পণ্যগুলো তাদের নয় বলে জানান। 

জব্দকৃত পণ্যের প্রতিটির ওজন ৪১৮ গ্রাম এবং মোট ওজন ৩২৬৫.৪১৬ কেজি । ট্রাকসহ পণ্য চালানের মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। দি কাস্টমস এ্যাক্ট , ১৯৬৯ অনুযায়ী পণ্য চালানটি কাস্টমস আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ভারতীয় ট্রাকটিও বাজেয়াপ্তির প্রক্রিয়া চলছে।
 
কাস্টমস কর্মকর্তাদের ধারণা, একটি অসাধু চক্র সরকারের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা করছে। যার জন্য জাতীয় উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে মিথ্যা ঘোষণায় এবং বন্ড সুবিধার অপব্যবহারকারীদের মতো এ চক্রকেও কঠোরভাবে দমন করা হবে।

বাংলাদেশ  সময়: ২২০৩ ঘণ্টা, মার্চ ২০, ২০১৯
ইউজি/এনটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   মাদক বেনাপোল
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14