ঢাকা, শুক্রবার, ৮ চৈত্র ১৪২৫, ২২ মার্চ ২০১৯
bangla news

ব্যাংক ঋণ না পেয়ে কেমিক্যাল গোডাউনের দিকে ঝোঁক!

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০২-২২ ৯:৪১:০৩ পিএম
অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত গাড়ি ও ভবনের একাংশ। ছবি: বাংলানিউজ

অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত গাড়ি ও ভবনের একাংশ। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: পুরান ঢাকার বেশির ভাগ স্থায়ী বাসিন্দার আয়ের প্রধান অবলম্বন বাড়িভাড়া। নিরক্ষর লোকের সংখ্যা তেমন না থাকলেও উচ্চশিক্ষিত লোকের সংখ্যাও খুব বেশি নয়। এখানকার বাসিন্দারা বাড়িভাড়া থেকে যা আয় করেন, তা থেকে পুঁজি করে কেউ কেউ ব্যবসা করেন। অনেকে কিছুই করেন না। যেহেতু তাদের আয়ের জন্য কোনো দিকে চিন্তা বা পন্থা নেই, তাই বাড়িটি ভাড়ার উপযোগী করতে পারলেই যেন দায় সেরে যায় কারও কারও। 

এ বাড়িগুলোর অবকাঠামো তেমন ভালো না হওয়ায় ফ্ল্যাট হিসেবে ভাড়ার চাহিদাও কম। তাই বাড়িওয়ালারা ঝোঁকেন কেমিক্যাল গোডাউনের দিকেই। কারণ, কম খরচ করে কোনো রকম একটা ফাঁকা রুম দিতে পারলেই কাড়িকাড়ি টাকা। আর এ টাকা থেকেই বেশিরভাগ বাড়ির ওপরের তলাগুলো নির্মিত হয়। যেখানে নিচের দিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আর একেবারে ওপরে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ায় পরিবার নিয়ে থাকেন অনেকে।

চকবাজারে চুরিহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা গেলো। তাদের মতে, ঘিঞ্জি পরিবেশ, জায়গার সংকট ইত্যাদির কারণে ব্যাংকগুলো পুরান ঢাকার বাসিন্দাদের বাড়ি নির্মাণে বা বাড়ির বিপরীতে ঋণ দিতে চায় না। আর কেমিক্যাল দোকান ভাড়া দিলে ভালো টাকা পাওয়া যায়। ফলে আবাসিক ফ্ল্যাটের ভবনেই ঝুঁকিপূর্ণভাবে কেমিক্যালের গোডাউন করার মতো কাজগুলো করছেন বাড়িওয়ালারা।

চকবাজারের ১৬ নবকুমার দত্ত রোডেই থাকেন সত্তরোর্ধ মো. নাসির উদ্দীন। তার ২৩ বছরের ছেলে অছিউদ্দীন মাহিদ বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতের অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি বাংলানিউজকে বলেন, এতো বড় আগুন আগে না লাগলেও ছোট ছোট ঘটনা আগেও ঘটেছে। চকবাজার বা পুরান ঢাকায় এ ধরনের ঘটনার অন্যতম কারণ ব্যাংক লোন না পাওয়া। বাড়ি তৈরির নানা নিয়ম-কানুনের কারণেই লোন দেয় না ব্যাংক। কিন্তু পুরান ঢাকায়তো জায়গা নেই। এটা সরকারকে ভাবতে হবে যে, কী করে এখানকার মানুষদের সহায়তা করা যায়। ব্যাংক লোন না দেওয়ার কারণেই সবাই টাকার জন্য ঝোঁকে কেমিক্যাল গোডাউন, প্লাস্টিক পণ্য বা চামড়াজাত পণ্যের দোকান ভাড়া দেওয়ার প্রতি। কেননা, তারা অগ্রিম প্রচুর টাকা দেয়। যে টাকা দিয়ে বাড়িওয়ালারা তাদের ভবন নিজেদের মতো করে তোলে। অথচ ব্যাংক থেকে লোন নিয়েও ভালো বাড়ি করতে পারতো, ফ্যামিলি বাসা ভাড়া দেওয়া যেতো। এ থেকেই তখন অনেক আয় হতো। আর কেউ এ ধরনের (কেমিক্যাল গোডাউন ভাড়া) কাজের প্রতি ঝুঁকতো না।বাংলানিউজের সঙ্গে কথা বলছেন চকবাজারের স্থানীয় এক বাসিন্দা। ছবি: বাংলানিউজমো. স্বাধীন নামে এলাকার আরেক বাসিন্দা বলেন, প্রথম দিকে যারা নিহত হয়েছেন, তার মধ্যে আমার ছোট ভাই ছিল। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্বাধীন বলেন, প্রাইভেটকারের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে গাড়ি ওপরে উঠে যায়। তখন বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণ হয়ে আমার ভাই এবং জ্যামে আটকে থাকাদের ওপর পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই তারা মারা যায়। আমি তখন ২০ ফিটের মতো দূরে ছিলাম। মুহূর্তেই সব ঘটনা ঘটলো। দৌঁড়ে প্রাণে বেঁচেছি।

তার কথায়, এখানে আবাসিক এলাকার উন্নয়ন দরকার। বাড়িগুলো আরও ভালো করা দরকার। এখন না কয়েকটা ভবন গেলো, ভূমিকম্প হলেতো একেবারে সব যাবে।

স্বাধীনের মতে, এখানে কেমিক্যাল ব্যবসা, প্লাস্টিক ও চামাড়াজাতীয় পণ্যের ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। এছাড়া গাড়ির সিলিন্ডার তৈরির মাননিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

গত বুধবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে চকবাজারের ‍চুরিহাট্টায় একাধিক ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৪৬ জনের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে স্বজনদের কাছে। বাকি ২১ জনের মরদেহ শনাক্ত প্রক্রিয়ার জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২১২৯ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯
ইইউডি/এইচএ/

** কেমিক্যালে ঠাসা সেই ভবনের বেজমেন্ট!

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   চকবাজার ট্র্যাজেডি
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14