ঢাকা, সোমবার, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬, ২০ মে ২০১৯
bangla news

রাজশাহীর সড়কে শিলার আস্তর, না তুষারপাত!

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৯-০২-১৭ ৩:০৯:৩৪ পিএম
সড়কে শিলার আস্তর

সড়কে শিলার আস্তর

রাজশাহী: হঠাৎ দেখলে মনে হবে ভারতের কাশ্মীর, সিকিম কিংবা সুইজারল্যান্ডের কোনো সড়ক! তুষারপাত বলে ভ্রম হতেই পারে, ছবি দেখে হয়েছেও নিশ্চয় যে কারও। কিন্তু মোটেও না। এটি তুষারপাত পরবর্তী কোনো ছবি নয়, নয় বিদেশও। ঋতুরাজ বসন্তের নজিরবিহীন শিলাবৃষ্টিতে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার মধুখালি গ্রামের সড়ক।

রোববার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরের সূর্য উঁকি দেওয়ার আগেই রাজশাহীতে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়। এতে সদ্য চোখ মেলা আমের মুকুলসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে রাজশাহীর পুঠিয়া, গোদাগাড়ী, তানোর, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় আমের মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।শিলাবৃষ্টি থামার পর উঠানে বসে কাজ করছেন এক ব্যক্তি, ছবি: বাংলানিউজগাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে আমের মুকুল ঝরে পড়েছে। তবে সঠিকভাবে আমের মুকুলের ক্ষয়-ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা না গেলেও এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে দাবি করেছেন রাজশাহীর স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা।

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ভাল্লুকগাছি গ্রামের হোসেন আলী বাংলানিউজকে বলেন, শিলার আঘাতে আমের মুকুল, ভুট্টা, বরই, পেঁয়াজ ও আলুসহ বিভিন্ন কৃষি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেতের পেঁয়াজের বেশি ক্ষতি হয়েছে। 

এমন শিলাবৃষ্টি কখনও দেখেননি বলেও জানান পঞ্চাশোর্ধ কৃষক হোসেন আলী। 

একই উপজেলার শাহ নেওয়াজ জানান, ভোরের শিলাবৃষ্টিতে পুঠিয়ার ভাল্লুকগাছি ছাড়াও বানেশ্বর ও জিউপাড়া ইউনিয়নেও ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে ফলের ক্ষতি হয়েছে ব্যাপক। যা স্থানীয়দের কাছে অনেকটাই নজিরবিহীন।রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের রায়পুর এলাকার আম ব্যবসায়ী শামসুল হক জানান, আজকের আমের মুকুল ঝরে পড়ায় চরম লোকসান গুণতে হবে তাদের। আম গাছে মুকুল যে পরিমাণ এসেছিল, তাতে অন্য বছরের লোকসান অনেকটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো। 

তবে রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, শিলাবৃষ্টিতে আমের মুকুলের ক্ষতি হয়েছে। এতে ফলন কমবে। তবে রাজশাহীতে গত কয়েক বছরের ফলনের যে হার তাতে এখনও যা মুকুল অবশিষ্ট আছে তাতেও ফলন খারাপ হবে না।শিলার আঘাতে অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে টিনের চালা, ছবি: বাংলানিউজরাজশাহী আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, ভোর ৪টা ৪০ মিনিট থেকে ৫টা ১৮ মিনিট পর্যন্ত এই শিলাবৃষ্টি স্থায়ী ছিল। এ সময় বজ্রপাতও হয়েছে। তবে বৃষ্টির সময় ঝড়ো হাওয়া ছিল না। ভোরের এই ৩৮ মিনিটে রাজশাহীতে ১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আকাশে এখনও মেঘ রয়েছে। 

তাই আবারও বৃষ্টি হতে পারে বলেও জানান আবহাওয়া অফিসের এই কর্মকর্তা। 

এদিকে, আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় লঘুচাপের প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫০১ ঘণ্টা, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০১৯
এসএস/এএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14