ঢাকা, শনিবার, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১, ২৫ মে ২০২৪, ১৬ জিলকদ ১৪৪৫

জাতীয়

'বরখাস্ত কেন সাময়িক হবে?'

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৬৫৩ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ৫, ২০১৮
'বরখাস্ত কেন সাময়িক হবে?' আজও প্রতিবাদে উত্তাল ভিকারুননিসা/ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: 'অরিত্রীকে কি আমরা সাময়িকভাবে হারিয়েছি? তাহলে বরখাস্ত কেন সাময়িক হবে?' স্কুল ড্রেস পরিহিত এক কোমলমতি শিক্ষার্থীর হাতে ধরা প্ল্যাকার্ডের লেখা এটি।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অরিত্রী অধিকারীর আত্মহননের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতী শাখার প্রধান জিন্নাত আরাকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে এসব লিখেছে এক শিক্ষার্থী।

বুধবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রতিষ্ঠানটির বেইলি রোড শাখার প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিভিন্ন লেখা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড ও 'অপমানের বিচার চাই' স্লোগানে মুখর পুরো এলাকা।

মঙ্গলবার (৪ ডিসেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বুধবারের পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিলেও এখনো সে বিষয়ে কারও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দুপুর সাড়ে ১২টায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রিজওয়ানা নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, দোষীদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা নিয়মিত রাস্তায় নামবো। আর কেউ যেন এমন মৃত্যুর শিকার না হয় আমাদের সে নিশ্চয়তা দিতে হবে।

তাহমিনা নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, কোনোকিছু হলেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানের এমন আচরণ মেনে নেওয়া হবে না। অরিত্রী মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নামমাত্র কমিটি করে নামমাত্র সাময়িক বরখাস্ত করা চলবে না।

সোমবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরের দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে অরিত্রী অধিকারী (১৫) নামে ভিকারুননিসার এক স্কুলছাত্রী আত্মহত্যা করে। অরিত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী’ হিসেবে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা। মামলার আসামিরা হচ্ছেন অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা।

এ ঘটনায় ভিকারুননিসার শিক্ষক আতাউর রহমান, খুরশিদ জাহান ও গভর্নিং বডির সদস্য ফেরদৌসী বেগমকে নিয়ে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক তদন্তের পর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তারকে বরখাস্ত করা হয়। একইসঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে মাউশির (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর) ঢাকা আঞ্চলিক অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মো. ইউসুফকে প্রধান করে তিন সদস্যের পৃথক কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। উভয় কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও ঢাকা বোর্ডের স্কুল পরিদর্শক প্রীতিশ কুমার সরকারকে নিয়ে এক সদস্য বিশিষ্ট আলাদা একটি কমিটি গঠন করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে অরিত্রী চৌধুরী কেন আত্মহত্যা করেছে এর কারণ খুঁজতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

কমিটিতে একজন অতিরিক্ত শিক্ষা সচিব, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী এবং বিচারক থাকবেন। তারা অরিত্রী আত্মহত্যার ঘটনা এবং সারাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এরকম ঘটনা তদন্ত করে কারা দায়ী এগুলো খুঁজে বের করে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন হাইকোর্টে জমা দেবেন।

তার বাবা দিলীপ অধিকারী জানান, অরিত্রীর স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। রোববার (২ ডিসেম্বর) পরীক্ষা দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের স্কুলে যেতে বলে। স্কুলে যাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ জানায়, তার মেয়ে পরীক্ষার হলে মোবাইলের মাধ্যমে নকল করছিল। তাই তাকে টিসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ খবর শোনার পর স্কুল থেকে অরিত্রী বাসায় ফিরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেয়। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১১৪৮ ঘণ্টা, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮
পিএম/এএ

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।