ঢাকা, শুক্রবার, ৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২৩ আগস্ট ২০১৯
bangla news

সংলাপ-জনসভা ইতিবাচক বলছেন তরুণরা

হোসাইন মোহাম্মদ সাগর, ফিচার রিপোর্টার | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১১-০৬ ২:২৪:৪৯ পিএম
তরুণ শিক্ষার্থীরা জনসভাকে ইতিবাচক বলছেন, ছবি: শাকিল আহমেদ

তরুণ শিক্ষার্থীরা জনসভাকে ইতিবাচক বলছেন, ছবি: শাকিল আহমেদ

ঢাকা: খালেদা জিয়ার মুক্তি, সংসদ ভেঙে দিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

মঙ্গলবারের (০৬ নভেম্বর) এ জনসভায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সেদিক থেকে দেশের রাজনীতিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ যেমন তাকিয়ে আছেন এ সমাবেশের দিকে, ঠিক তেমনি এ সমাবেশে আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদেরও।

দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, টিএসসিসহ জনসভায় এলাকায় লক্ষ্য করা গেছে সমাবেশের প্রতি আগ্রহী বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের। এসময় তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও রাজনীতির একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরির জন্য আজকের জনসভাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী মাজেদুর রহমান বাংলানিউজকে বলেন, আমরা দেখেছি, ২০১৪ সালের নির্বাচনে একতরফাভাবে অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। যেটি গণতান্ত্রিক পন্থা নয়। এতে জনসাধারণের মতামত প্রতিফলিত হয়নি। ড. কামালের নেতৃত্বাধীন জোটের কারণে এবারের নির্বাচনে সেটি সম্ভব হবে না বলেই মনে হচ্ছে। সামনে পরিস্থিতি কি রকম হতে পারে তার একটি ধারণা পাওয়া যেতে পারে আজকের জনসভা থেকে। তাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আজকের জনসভাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছি এখন পর্যন্ত।

ঢাকার আগে সিলেট ও চট্টগ্রামে জনসভা করেছিল সাত দফা দাবিতে একজোট হওয়া ঐক্যফ্রন্ট। আগামী ৮ নভেম্বর রাজশাহীতেও তাদের জনসভা করার কর্মসূচি রয়েছে। এসব নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের শিক্ষার্থী শারীফ অনির্বান বাংলানিউজকে বলেন, ঐক্যফ্রন্ট যে জনসভা করছে বিভিন্ন জায়গায়, তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে জনসভা চালায়, তাহলে জনগণের যে উদ্বেগ বা বিরোধী দলের যে জ্বালাও পোড়াও একটা ব্যপার ছিল, সেটা হয়তো কিছুটা প্রশমিত হতে পারে তাদের শান্তিপূর্ণ আচরণের মধ্য দিয়ে।

এছাড়া ক্ষমতাসীন দল ও ঐক্যফ্রন্টের সংলাপ প্রসঙ্গে মত প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংলাপটাকে আমি বাংলাদেশের রাজনীতির একটি ইতিবাচক দিক হিসেবেই দেখছি। কেননা, আমরা জানি আমাদের দেশের রাজনীতি প্রতিহিংসার। সেখানে একটা সমাধানের জন্য যে সকলে সংলাপে বসেছে, এটা ক্ষমতাসীন দলের যেমন উদারতা, তেমনি তথাকথিত বিরোধীদলের সহনশীলতা বলতে পারেন। আমি মনে করি যে এর মধ্য দিয়ে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতেও পারে।

সমাবেশ স্থল থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আবির মাহমুদ বাংলানিউজকে বলেন, আজকের জনসভা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই মানুষ আসছে। এখানে যে শুধু দলীয় লোকজন আছে, তা নয়। অনেক সাধারণ মানুষও পাওয়া যাবে। আসলে আমরা সকলেই আগ্রহী আজকের সভাবেশ নিয়ে। দেশের রাজনীতিতে এ জনসভা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা সকলেই একটি সুন্দর রাজনীতি চাই। বৃহস্পতিবার প্রথম দফা সংলাপের পর বুধবার দ্বিতীয় দফা সংলাপে বসাও একটি ইতিবাচক দিক হবে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায় দু’টো দলই শান্তি চায়। আর সেটাই তো সাধারণ মানুষের প্রধান প্রত্যাশা।

১৩ আগস্ট গণফোরামের ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি, জেএসডি, নাগরিক ঐক্য ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠিত হয়।

সোমবার (০৫ নভেম্বর) কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগও নির্বাচন সামনে রেখে গঠিত এই জোটে যোগ দিয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৪১৮ ঘণ্টা, নভেম্বর ০৬, ২০১৮
এইচএমএস/টিএ

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
db 2018-11-06 14:24:49