[x]
[x]
ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ কার্তিক ১৪২৫, ২৩ অক্টোবর ২০১৮
bangla news

মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ

সোলায়মান হাজারী ডালিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-১০-১২ ৩:১১:২৫ পিএম
তুলির আঁচড় দিচ্ছেন একজন প্রতিমাশিল্পী। ছবি: বাংলানিউজ

তুলির আঁচড় দিচ্ছেন একজন প্রতিমাশিল্পী। ছবি: বাংলানিউজ

ফেনী: আশ্বিন মাসের শুল্ক পক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত দুর্গাপূজা, এ মাসের শুল্ক পক্ষের নাম দেবীপক্ষ। দেবীপক্ষের সূচনার অমাবস্যাটির নাম মহালয়া।

এ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মূলত মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে ঘটা করে শুরু হয় উৎসব। আর মাত্র ক’দিন পরেই সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এবার দেবী আসছেন ঘোড়ায় ও গমন হচ্ছে দোলায়।

মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমার সাজসজ্জার কাজ। দিন-রাত ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। দশনার্থীদের চোখ জুড়ানোর জন্য সাজসজ্জা ও প্রতিমা তৈরি প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে মন্দিরগুলোর আয়োজকরাও।

শুক্রবার (১২ অক্টোবর) ফেনী শহরের গুরুচক্র মন্দিরে গিয়ে দেখা যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। প্রতিমার গায়ে রঙের স্প্রে এবং চোখ মুখে পড়ছে তুলির আঁচড়। পরম যত্নে দেব-দেবীর সাজাতে রাত-দিন এক করে কাজ করছেন কারিগররা।গুরুচক্র মন্দিরে প্রতিমার কারিগর কানাই পাল বাংলানিউজকে জানান, সাধারণত বাংলা শ্রাবণ-ভাদ্র মাস থেকে শুরু হয় প্রতিমা তৈরির কাজ। প্রথমে মাটির প্রলেপ এর এক-দেড় মাস আকৃতি তৈরি এবং পূজোর অল্প ক’দিন আগ থেকে চলে রঙ-রূপের কাজ।

তিনি জানান, একটি মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে চার থেকে পাঁচজন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়।

শহরের জয়কালি মন্দিরে কাজ করছিলেন প্রতীমাশিল্পী সুদেবপাল।

তিনি বাংলানিউজকে জানান, এ মন্দিরের প্রতিমা তৈরি করতে খরচ হচ্ছে লাখ টাকারও বেশি। এর মধ্যে শ্রমিকদেরও মজুরি দিতে হয় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মতো। বাকিটা জিনিসপত্রের দাম।

ফেনী শহরের সহদেবপুর, জগন্নাথ বাড়িসহ বিভিন্ন মন্দির ঘুরে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো রঙিন করার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমাশিল্পীরা। তুলির আঁচড়ে সুন্দর করে তোলা হচ্ছে দুর্গা, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতী, লক্ষ্মী ও মহিষাসুরের প্রতিমা। মন্দির সাজসজ্জায়ও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কারিগরসহ স্থানীয়রা।তুলি আঁচড়ের অপেক্ষায় প্রতিমা। ছবি: বাংলানিউজজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৪ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ১৯ অক্টোবর দশমী পূজার মধ্য দিয়ে শেষ হবে ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা। ফেনীতে এবার ১৪২টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে।

গতবার ১৪১টি মণ্ডপে পূজা উদযাপনেও এবার ফেনীতে বেড়েছে একটি মণ্ডপ। এর মধ্যে ফেনী পৌর সভায় ১২টি, ফেনী সদর উপজেলায় ৪৪টি, ফুলগাজীতে ৩৪টি, সোনাগাজীতে ২৩টি, দাগনভূঞাতে ১৭টি, পরশুরামে ও ছাগলনাইয়ায় ছয়টি করে ১২টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের জন্য প্রস্তুতি মোটামুটি শেষপর্যায়ে দিকে। শহরের জগন্নাথবাড়ি কমপেক্স, গুরুচক্রমন্দির, কালিবাড়ি মন্দির, রামকৃষ্ণ মিশন ও বাঁশপাড়া কোয়ার্টার, কালীদহ ইউনিয়নের তুলা বাড়িয়া এলাকার বীণাপানি ক্লাব, পরশুরামে সাতঞ্জী বাড়ি মন্দির, ফুলগাজীর জগন্নাথ বাড়ি মন্দির, দাগনভূঞার কেন্দ্রীয় মন্দিরের বেশি সংখ্যক পূণ্যার্থীর আগমন ঘটে।

মন্দির ছাড়াও সবকটি পূজা মণ্ডপে পুষ্পমাল্য ও বিলপত্রের মাধ্যমে পুষ্পাঞ্জলি, ধুপ ও কুশীর মাধ্যমে প্রতীমা আরতি, অন্ন প্রসাদ ও পুরোহিত দ্বারা চন্ডিপাঠসহ নানা সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পূজা উদযাপন করা হয়। উৎসবের প্রথমদিন দেবীর আগমন বোধন ষষ্ঠী পূজা, দ্বিতীয় দিন মহাসপ্তমী, তৃতীয় দিন মহাঅষ্টমী, চতুর্থ দিন মহানবমী ও সন্ধী পূজা এবং শেষদিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দশমী বিহীত পূজা উদযাপিত হবে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রাজীব খগেশ দত্ত বাংলানিউজকে জানান, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ পূণ্যার্থী জেলার শারদীয় দুর্গোৎসব হবে। প্রায় একমাস ধরে শিল্পীরা নান্দনিক ছোঁয়ায় প্রতিমা তৈরির কাজ করছে। ফেনীতে প্রতিমা তৈরির শিল্পী না থাকায় কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম থেকে শিল্পী এনে জেলার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করা হয়। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণে প্রকারভেদে ২০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা শিল্পীদের দিতে হয়।তুলি আঁচড়ের অপেক্ষায় প্রতিমা। ছবি: বাংলানিউজজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সুশেন চন্দ্র শীল বলেন, এ উৎসবে নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের সঙ্গে একাধিকবার পূজা উদযাপন পরিষদ নেতাদের বৈঠক হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ বিভাগ জানাচ্ছে, নিরবিচ্ছিন্ন নিরাপত্তা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রশাসন থেকে। 

বাংলাদেশ সময়: ১৫০৯ ঘণ্টা, অক্টোবর ১২, ২০১৮
এসএইচডি/এএটি

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   ফেনী দুর্গাপূজা
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache