bangla news

মাদকবিরোধী অভিযান চলবে, নিরাপরাধী যেন অভিযুক্ত না হন

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৬-০৯ ৭:৩৩:২৬ এএম
গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা-ছবি-ডি এইচ বাদল

গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা-ছবি-ডি এইচ বাদল

ঢাকা: সরকারের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই অভিযানে যেন কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান তারা। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সঙ্গে সবাই একাত্মতা পোষণ করে সমাজিক আন্দোলন গড়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।

শনিবার (৯ জুন) সকালে ইস্ট-ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ প্রতিদিন আয়োজিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান ও বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তারা এমনটাই জানান।
 
বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামের সভাপতিত্বে আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সচিব নাসির উদ্দিন আহমদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ, জাতীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সদস্য ডা. অরূপ রতন চৌধুরী, কালের কণ্ঠের সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, ডেইলি সান সম্পাদক এনামুল হক চৌধুরী, বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাসেত মজুমদার, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী সিকদার (অব.), জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ফারজানা, অভিনেতা পিযুষ বন্দোপাধ্যায়, এফবিসিসিআই সাবেক সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি মাহমুদ আলী রাতুল ও অভিনেতা জায়েদ খান প্রমুখ।

মাদকবিরোধী অভিযানে সফলতা আসবে বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, অভিযান সফল না হলে আমাদের উন্নত রাষ্ট্রের ভিশন বাস্তবায়ন সম্ভব না। আমরা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তালিকার ভিত্তিতেই অভিযান করছি।
 
ডা. অরূপ রতন চৌধুরী বলেন, মাদক ব্যবসায় জড়িতদের ভেতর থেকেই একটি কুচক্রী মহল এই অভিযান বন্ধ করার চেষ্টা করছে। অনেক গণমাধ্যম ও বিশিষ্টজনেরা এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তাদের মনে রাখতে হবে একটি হত্যাকাণ্ড দুর্ঘটনা হতে পারে। কিন্তু একজন মাদকাসক্ত পুরা সমাজটাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই এটাকে নির্মূল করতে হবে।
 
বিভিন্ন সংস্থার জরিপ তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ৭৫ লাখ মাদকাসক্ত রয়েছে। তবে কোনো কোনো সংস্থা বলছে এটা এক কোটি। এতে প্রতি বছর প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়ে যাচ্ছে। মাদকাসক্তের কারণে গত দশ বছরে ২শ’ বাবা-মাকে খুন করা হয়েছে। তাই এই অভিযান দরকার ছিলো।
 
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আলী সিকদার (অব.) বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে সরকারের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও বিভিন্ন জায়গা থেকে এই অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। অভিযান নিয়ে প্রশ্ন উঠবে এটা স্বাভাবিক, তবে জনসমর্থন ধরে রাখার জন্য সেই প্রশ্নের যথার্থ জবাব দিতে পারলে আর সমস্যা হতো না। যদিও সেটি দেখছি না।
 
তিনি বলেন, জঙ্গিবিরোধী অভিযানের সময়ও এভাবে অভিযোগ উঠেছিল। তবে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপের কারণে জঙ্গিবিরোধী অভিযান রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। যারা অভিযোগ করছেন তারা ঢালাওভাবে মন্তব্য করেছেন। কেননা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন অভিযানে যায় তাদের কাছে অস্ত্র গোলাবারুদ থাকে। সেটার ব্যবহার সিআরপিসি’র ৯০ থেকে ১০২ ধারায় বলা আছে। যখন অভিযোগ করা হচ্ছে তখন বলা হচ্ছে না এই ধারা কোথায় অমান্য করা হচ্ছে।
 
অভিনেতা পিযুষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান যেখানে হচ্ছে সেখানকার মানুষই প্রসাংশা করছে। তবে খেয়াল রাখতে হবে চুনোপুঁটিদের যেন লঘু দণ্ড না হয় আর রাঘব বোয়ালরা যেন বাদ না যায়।
 
অ্যাডভোকেট বাসেত মজুমদার বলেন, এই অভিযান দরকার ছিলো। তবে অভিযানে যাদের হত্যা করা হচ্ছে তাদের হত্যা না করে ধরতে পারলে আরও অধিক তথ্য পাওয়া যেত। এর বিরুদ্ধে যেমন সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে তেমনি মাদকের উৎস খুঁজে বের করে সর্বাত্মক অভিযান করতে হবে।
 
অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন, মাদক কেনো খাচ্ছে সে বিষয়টি খুঁজে বের করতে হবে। মাদকের ভয়াবহতা সমাজে তুলে ধরতে হবে। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।
 
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে। এই যুদ্ধ থেকে পিছু হটলে দেশ পিছিয়ে যাবে।
 
ব্যবসায়ী নেতা হেলাল উদ্দিন বলেন, সব কিছু হতে হবে নিয়মের মধ্য থেকে। মাদকের উৎস খুঁজে বের করতে হবে এবং রাঘব বোয়ালদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
 
বাংলাদেশ সময়: ১৭৩২ ঘণ্টা, জুন ০৯, ২০১৮
এসএম/আরআর

ক্লিক করুন, আরো পড়ুন :   মাদক
        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa
cache_14 2018-06-09 07:33:26