ঢাকা, শনিবার, ৩ আশ্বিন ১৪২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

মুচলেকায় যা বলেছে বিজিএমইএ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১৪৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ২, ২০১৮
মুচলেকায় যা বলেছে বিজিএমইএ বিজিএমইএ ভবন/ফাইল ছবি

ঢাকা: ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময়ের জন্য মুচলেকায় উচ্চ আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের কথা বলেছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

এরপর উচ্চ আদালত তাদের বহুতল ভবন ভাঙতে সোমবার (০২ এপ্রিল) আরও একবছর সময় দেন।
 
বিজিএমইএ সভাপতির স্বাক্ষর করা মুচলেকায় বলা হয়, এক. বিজিএমইএ নিঃশর্তভাবে আন্ডারটেকিং দিচ্ছে যে ১২ এপ্রিল থেকে যদি এক বছর সময় দেওয়া হয় তাহলে তারা উচ্চ আদালতে আর সময় বাড়ানোর আবেদন করবে না।


 
দুই. বিজিএমইএ উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে।

তিন. এ আন্ডারটেকিংয়ের জন্য বিজিএমইএ দায়বদ্ধ থাকবে।
 
এ বিষয়ে বিজিএমইএ’র আইনজীবী ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ মইনুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনিও বলেন, অঙ্গীকারনামায় বলেছি এক বছর সময় পেলে আমরা আর সময় চাইবো না। আদালতের যে আদেশ দেওয়া হয়েছে সেটা মানবো। এ আন্ডারটেকিংয়ের জন্য বিজিএমইএ দায়বদ্ধ থাকবে।

১৯৯৮ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজিএমইএ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। নির্মাণ শেষ হলে ২০০৬ সালের ৮ অক্টোবর ভবনটির উদ্বোধন করেন সে সময়কার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। এরপর থেকে এটি বিজিএমইএ’র প্রধান কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
 
কিন্তু রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই কারওয়ান বাজার সংলগ্ন বেগুনবাড়ি খালে বিজিএমইএ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে উল্লেখ করে ২০১০ সালের ২ অক্টোবর একটি ইংরেজি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আসে। ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলের রায়ে বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। ভবনটি নির্মাণের আগে ওই স্থানের ভূমি যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও নির্দেশ দেন বিজিএমইএকে।
 
একই বছরের ৫ এপ্রিল বিজিএমইএ’র আবেদনে হাইকোর্টের রায় ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। পরবর্তী সময়ে স্থগিতাদেশের মেয়াদ আরও বাড়ান সর্বোচ্চ আদালত।
 
হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের পর লিভ টু আপিল করে বিজিএমইএ কর্তৃপক্ষ। ২০১৬ সালের ২ জুন তা খারিজ হয়ে যায়। পরে আপিল বিভাগ তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফায় চলতি বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেন। এ সময় শেষ হওয়ার আগেই তারা আরও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করলে আদালত তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেন।  

প্রসঙ্গত আপিল বিভাগের রায়ে বিজিএমইএকে অবিলম্বে নিজেদের খরচে ওই ভবন ভেঙে ফেলতে বলা হয়েছিল। তারা তা না করলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে এবং ভবন ভাঙার খরচ বিজিএমইএ দেবে।

এ মামলার হাইকোর্টে থাকা অ্যামিকাস কিউরি মনজিল মোরসেদের মতে, আগামী বছরের ১২ এপ্রিল পর্যন্ত বিজিএমইএ সময় পেলো। অর্থাৎ ১৩ এপ্রিল থেকে এটা ভাঙতে হবে।
বাংলাদেশ সময়: ২০৪০ ঘণ্টা, এপ্রিল ০২, ২০১৮
ইএস/জেডএস

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa