ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৪ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ সফর ১৪৪২

জাতীয়

সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নেই এদেশে

| বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ১২২১ ঘণ্টা, এপ্রিল ১, ২০১৮
সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নেই এদেশে ছবি: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

বাগেরহাট: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর আমলে দস্যু, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ঠাঁই এদেশে হবে না। যারা (যুব সমাজ) দেশের নেতৃত্ব দেবে তাদের ধ্বংস করছে মাদক। আমরা এটা কখনও হতে দেব না। আপনারা যারা দেশে মাদক ব্যবসা করছেন তারা যদি ভালো না হন, খুব শিগগিরই আপনাদের কি পরিণতি হয় তা দেখতে পারবেন।

রোববার (০১ এপ্রিল) বিকেল ৫টার দিকে শহরের স্বাধীনতা উদ্যানে সুন্দরবনের তিনটি দস্যু বাহিনীর আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দস্যুদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আপনারা যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করবো।

আপনাদের নামে যেসব মামলা আছে, জেলা প্রশাসকরা সেসব মামলা সহজে মীমাংসার ব্যবস্থা করবেন। তবে হত্যা ও ধর্ষণের মতো অপরাধের জন্য আপনাদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।

এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন- বাগেরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য তালুকদার আব্দুল খালেক, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর শওকাত আলী বাদশা, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হ্যাপি বড়াল, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার লোকমান হোসেন মিয়া, খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি হাবিবুর রহমান, বিজিবি খুলনা রেঞ্জের প্রধান ব্রিগেডিয়ার খালেক আল মামুন, র‌্যাব-৬ এর সিইও খন্দকার রফিকুল ইসলাম, র‌্যাব-৮ এর সিইও হাসান ইমন আল রাজীব, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস, পুলিশ সুপার পঙ্কজ চন্দ্র রায় প্রমুখ।

জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, ছোট সুমন ও মেহেদী হাসান ওরফে ডন এ তিন বাহিনীর ২৭ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় দস্যুরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে তাদের ব্যবহৃত ১৩টি একনলা বন্দুক, তিনটি বিদেশি দোনলা বন্দুক, চারটি ২২ বোর বিদেশি রাইফেল, সাতটি পাইপগান, একটি বিদেশি ওয়ানশুটারগানসহ ২৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও এক হাজার ৮১টি গোলা-বারুদ জমা দেয়।

আত্মসমর্পণকারীরা হলেন- জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৭), সদস্য মো. কবির সুলতান (৫৫), মো. মনিরুল শেখ (৩৩), মো. শহিদুল শেখ (৩২), মো. আব্দুস সালাম (৪৩), শেখ আল মামুন সোহেল রানা (২৯), মো. সেলিম মোল্লা (২৮), মো. ইদ্রিস ডালি (২৮), মো. মিঠু সরদার (৪০)।

ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান মো. সুমন হাওলাদার (২৪), সদস্য মো. লুৎফর শেখ (৪০), মো. ভট্টো বয়াতি (২৮), মো. আব্দুস সামাদ মোল্লা (২৬), মো. রিয়াজ শেখ (২৮), মো. ইয়াছিন শেখ (২৯), মো. তরিকুল হাওলাদার (২৩), মো. সিদ্দিক হাওলাদার (৩৯)।

মেহেদী হাসান ওরফে ডন বাহিনীর প্রধান মো. মেহেদী হাসান ডন (৩২), সদস্য জয়দেব মণ্ডল (৩৫), মো. খলিলুর রহমান (৪৫), মো. সাইফুল্লাহ (২৯), মো. আবুল হোসেন ইসলাম (২৭), মো. আজিজুর ইসলাম (২৭), জয়ন্ত বিশ্বাস (৩০), মো. শাহজাহান (৪২), মো. আব্দুর রহমান শেখ (২৮), মো. মাহমুদুল হাসান (২৬)। এদের সবাইকে ২০ হাজার টাকা ও একটি করে মোবাইল ফোন দেয় র‌্যাব।

এ নিয়ে গেল দুই বছরে ১২টি ধাপে ২০টি দস্যু বাহিনীর ২১৭ জন দস্যু সুন্দরবনের দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এলো।

বাংলাদেশ সময়: ১৮১৬ ঘণ্টা, এপ্রিল ০১, ২০১৮
আরবি/

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
Alexa