[x]
[x]
ঢাকা, সোমবার, ৮ আশ্বিন ১৪২৫, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮
bangla news

সব হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন বস্তিবাসীর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট | বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৮-০৩-১৩ ৮:০০:০৪ এএম
পোড়া টিন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই বস্তিবাসীর। ছবি: বাংলানিউজ

পোড়া টিন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই বস্তিবাসীর। ছবি: বাংলানিউজ

ঢাকা: প্রতিটি দিনই যাদের শূন্য থেকে শুরু হয়, তাদের হারানোর কিছু নেই। জীবনের প্রতিটি বাঁকে যারা যুদ্ধ করেই টিকে আছেন, তারাই জানে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।

মিরপুর ১২ নম্বর বস্তিতে একদিন আগে লাগা আগুনে আবাস্থল এখন শুধুই ছাই। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়েই নতুন করে শুরু করার স্বপ্ন বুনতে হবে সমাজের ছিন্নমূল এই মানুষগুলোর।

মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সরেজমিনে বস্তিতে গিয়ে দেখা যায়, টিন আর কাঠের ঘুরগুলোর এখন পোড়া টিন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। ঘরের আসবাবের মধ্যে লোহা ও স্টিলের আসবাবগুলো পড়ে আছে দুমড়ে-মুচড়ে। সেসব কুড়িয়ে গোছিয়ে রাখতে ব্যস্ত বস্তির বাসীন্দারা।

পেশায় গাড়ি চালক মো. মিলন শেখের তিনটি রুম ছিলো। আগুন লাগার পর ছেলে-মেয়েদের নিয়ে বের হয়ে জানে বাঁচলেও বাঁচাতে পারেননি ঘরের কিছুই। স্বল্প আয় থেকে টাকা জমিয়ে কেনা ঘরের সব সামগ্রীই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে তার।
পোড়া টিন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই বস্তিবাসীর। ছবি: বাংলানিউজ
মিলন শেখ বাংলানিউজকে বলেন, ‘এক কাপড়ে কোনমতে জানডা লইয়া বাইর হইছি। ১০ বছরের ইনকাম দিয়া টুকটাক যা জুড়াইছিলাম সব শেষ হইয়া গেছে। কিছু রক্ষা করতে পারিনাই।’

এখন ওই জায়গাতেই আবার মোটামোটি একটা ঘর উঠাবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শহরেতো আর থাকনের জায়গা নাই। এহানেই আপাতত মাথার ওপরে একটা চাল উঠাইয়া থাকতে শুরু করি। দেহি কি হয়।’

লোকমান কাজী নামে আরেকজন নাতিকে নিয়ে একই বাটিতে জনপ্রতিনিধির দান করা খিচুরি খাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দিন আনি দিন খাই, এর মইধ্যে টুকটাক কিছু দিয়া ঘরের জিনিসপত্র কিনেছি। আমাগো কাছেতো আর ক্যাশ ক্যাপিটেল নাই। এহন আবার কেমনে কি করমু জানি না।’

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে এই বস্তিতেই বসবাস করছিলেন শাহজাহান। দীর্ঘদিনের দিনমজুরের আয় থেকে বস্তিতে ৭টা রুম করেছিলেন। যেগুলো ভাড়া দিয়ে ৭ জনের সংশার চলছিল ষাটোর্ধ শাহজাহানের। তিনি বাংলানিউজকে বলেন, ‘আগুনের সময় ঘরে আছিলাম না। দেশের বাড়ি শরীয়তপুর গেছিলাম। খবর পাইয়া আইসা দেহি সব শেষ।’

টিভি, ফ্রিজ থেকে শুরু করে ঘরে সবই পুড়ে গেছে। এখন পোড়া ভিটার ওপর দাঁড়িয়েই ধ্বংসাবশেষগুলো গুছিয়ে রাখছেন তিনি। এখন কি করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইনকাম দিয়া যা করছি সবই গেছে। এহন কোন ব্যাংক ব্যালেন্সও নাই যে আবার ঘর উঠামু। যদি সরকার একটু সাহায্য করে একটা ঘর উঠাইতে পারমু। নয়তো কি করমু আর উপায় জানা নাই।’
পোড়া টিন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই বস্তিবাসীর। ছবি: বাংলানিউজ
এদিকে, দুপুরে বস্তিবাসীদের জন্য খিচুরি বিতরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী মোল্লা। এসময় বস্তিবাসীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যতোদিন কোনো ব্যবস্থা না হবে আপনারা সবাই তিনবেলা খাবার পাবেন। কোনো সমস্যা হবে না। আপনাদেরকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।

এরআগে সকালের দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ ও সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ বিষয়ে ইলিয়াস আলী মোল্লা জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনাদের খবর নিতে কাদের ভাইকে পাঠিয়েছেন। তিনি সবাইকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা বলেছেন।’

বাংলাদেশ সময়: ১৮০০ ঘণ্টা, মার্চ ১৩, ২০১৮
পিএম/জিপি

        ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন  

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

Alexa